নিজেদের পুজো নিয়ে মেতে এই হোমের কচিকাঁচারা

স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: এই কটা দিন খুব ব্যস্ত বিজিত মিনজ, রাহুল হুসেন, অনিরুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়রা৷ শনিবার সকাল থেকেই রঙ তুলি হাতে নিয়ে পুজো মণ্ডপে দেখা গেল তাদের আলপনা আঁকতে৷ জলপাইগুড়ি কোরক হোমে এবছরেই প্রথম দুর্গা পুজো হচ্ছে। স্বভাবতই পুজোর আয়োজনকে ঘিরে হোমের আবাসিক কিশোরেরা সহ সব কর্মীদের ব্যস্ততা এখন রীতিমত তুঙ্গে৷

আবাসিকদের ব্যস্ততা দেখে খুশি তিনি, জানালেন হোম সুপার দেবব্রত দেবনাথ৷ হোমের আবাসিক সঞ্জয় রাই, অমিত দরজি, নিজাম উদ্দীন, রাহুল রহমান অজয় মন্ডলেরা নবমীর দিন সকালে চূড়ান্ত ব্যস্ত ছিল নবপত্রিকার বিভিন্ন সামগ্রী গুছিয়ে রাখার কাজে৷ ১৩৭ জন আবাসিকদের হাতে এদিনই পুজোর নতুন জামা তুলে দেওয়া হয় বলে জানান হোম সুপার৷

হোম সুপার দেবব্রত দেবনাথ বলেন, ” আমাদের হোমের পুজো শাস্ত্রীয় রীতি মেনেই হচ্ছে। রবিবার দুপুরে দেবী প্রতিমা নিয়ে আসা হয়েছে৷ সন্ধ্যায় বেলতলায় দেবীর বোধন হয়৷ পুজোর চার দিন আবাসিকদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়। অবশ্যই সব নিরামিষ।

জেনে নিন, কী কী থাকছে এই বিশেষ খাদ্য তালিকায়? সুপার বলেন, ” মহা সপ্তমীতে সকালে দুধ – মুড়ি। দুপুরে বাসমতী চালের ভাত, ছোলার ডাল, আলু মটর পনীরের সবজি,বিকেলে মাখন দিয়ে চিনি সহ পাউরুটি। রাতে ভাত, ভেজ ডাল ও আলু ফুলকপির সবজি৷

আবার মহাষ্টমী, মহা নবমী এবং দশমীর দিনগুলোতেও হোমের আবাসিক কিশোরদের পাতে বিশেষ খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান সুপার। পুজোর দিন গুলোতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ধুনুচি নাচ তো থাকছেই। এছাড়াও দশমীর দিন আবাসিকদের নিয়ে বসে আঁকো প্রতিযোগিতার আসরও বসবে বলে জানান হোম সুপার। তিনি বলেন, ” দশমীর বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের পর রাতে আবাসিকদের জন্য মাছ, মাংস সহ বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়াও বিজয়া সম্মিলনির আসর বসানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান সুপার৷

মহানবমীর দিন সকালে জলপাইগুড়ির এই কোরক হোমে আসেন জেলাশাসক৷ জেলাশাসক শিল্পা গৌরি সারিয়া এই আবাসিকদের সঙ্গে বেশ কিছুটা সময় কাটান৷ নিজে হাতে প্রসাদ বিতরণ করেন তিনি৷

----
-----