সখী পুজোর লাইনে ভিআইপি কারে কয় !

দেবযানী সরকার, কলকাতা: সখী ভিআইপি কারে কয়? কেন পুজোর পাস যার হাতে রয়!

সারা বছর যাঁরা আমজনতা, পুজোর চারদিন তাঁদের অনেকেই ভিআইপি৷ একটা চিরকুটের মতো কাগজ-তাতেই কেল্লা ফতে!! একেবারে হাতের নাগালে সুরুচি, নাকতলা, শ্রীভূমি, মহম্মদ আলি পার্ক, কলেজ স্কোয়ার আর কত চাই!! আপনি ঘেমে নেয়ে গোঁত্তা খেতে খেতে ঠাকুর দেখার সংগ্রাম করছেন৷ আর আপনার হিংসুটে প্রতিবেশী সেই চিরকুট হাতে নিয়ে ফুরফুরে হয়ে সব দেখে নিল৷ এই করে সপ্তমী থেকে দশমী শেষ৷ আপনার ফেসবুকে গুটিকয়েক ছবি আর সেই হিংসুটির ফেসবুক উপচে পড়ছে পুজো দর্শনের লাইক কমেন্ট৷ সবই মা দুগ্গার কৃপা৷

শহরের পুজো মানেই লম্বা লাইনে কালো মাথার ভিড়। ঠাকুর দেখার আনন্দের মাঝে ব্যাঘাত ঘটায় হাঁসফাঁস গরম৷ লাইন না এগোলেই মনে হয়, হাতে যদি একটা ভিআইপি পাস থাকত! এব্যাপারে পুজো উদ্যোক্তারাও এখন যথেষ্ট উদার৷ নিজেদের সৃজন শীলতার তারিফ কুড়োতে তারাও বিলোয় দেদার কার্ড৷

- Advertisement -

পুজো এলেই হিড়িক পড়ে যায় ভিআইপি পাস জোগাড়ের৷ যাঁরা নিজেদের সোর্স থেকে পুজোর পাস ফ্রি-তে পান তাদের তো ভালই৷ না পেলে অনলাইনে গ্যাঁটের কড়ি খরচ করেই ভিআইপি পাস কিনছেন অনেকে৷ ওই মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমার টিকিট বুকিং-এর মতো৷ গত কয়েকবছর ধরে এটাও একটা ট্রেন্ড৷ কিছু টাকা গেল তো কী হয়েছে এতে অন্তত নির্ঝঞ্ঝাটে বাছাই করা ঠাকুর দেখা যাবে৷

হেভিওয়েট পুজো কাশীবোস লেন এবছর ১২ হাজারের মতো ভিআইপি পাস প্রিন্ট করেছে৷ দক্ষিণের হেভিওয়েট চেতলা অগ্রণী অবশ্য এই বছর পাসের সংখ্যা কমিয়েছে৷ ভিআইপি গেটের জায়গা সংকীর্ণ হওয়ায় এবার তারা পাঁচ হাজার কার্ড বিলোচ্ছে৷ উত্তরের কুমোরটুলি সার্বজনীনের ভিআইপি পাসের সংখ্যাটা অনেক বেশি৷ তারা প্রায় এক লক্ষেরও বেশি পাস ইস্যু করেছে৷

উদ্যোক্তারাও মানছেন, আগে ভিআইপি পাস সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই থাকত। তবে ক্রমশ সেটা সহজলভ্য হচ্ছে৷ এখন অনেক কোম্পানিও কেনাকাটার সঙ্গে ফ্রি-তে ভিআইপি পাস দিচ্ছেন৷ এক উদ্যোক্তার কথায়, এখন ভিআইপি পাস পাওয়া সহজলভ্য হয়েছে তার অন্যতম কারণ পুজোর সঙ্গে নেতা-মন্ত্রীদের জড়িয়ে থাকা৷ পাবলিক ডিম্যান্ডের কথা মাথায় রেখে তাদের বেশি কার্ডের চাহিদা থাকে৷

তবে একটা কথা বলে রাখা ভাল পুজোর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভিআইপিরা ততক্ষণই ভিআইপি যতক্ষণ আসল ভিভিআইপিরা সেখানে না ঢুকছেন৷ যদি তারা এসে পড়েন তাঁদের অবস্থাও পাস হাতে না থাকা সাধারণ দর্শনার্থীদের মতো হবে৷ মণ্ডপের দেওয়াল ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে৷

শুধু তাই নয় গত বছর পাড়ার মোড়ে দুই বান্ধবীর কথোপকথন মনে পড়ল। একজন অষ্টমীর সারা রাত ঠাকুর দেখেছে। আর একজনের গলায় দেমাকি ঝাঁঝ, “আমাদের তো লাইনে দাঁড়াতে হয় না। দাদা অনেকগুলো ভিআইপি পাস পেয়েছে।” শুনে প্রথম জনের সহানুভূতির সুর, “সে কী রে, কাল যে দেখলাম ভিআইপি-র লাইনেই লোক বেশি! আমাদের পাবলিকের লাইনই বরং ফাঁকা!”

এসেছে পুজো, বাড়ছে পাসের চাহিদা৷ নতুন জামার থেকেও তার দাবি কম তো নয় !

Advertisement ---
---
-----