পাঠচক্রকে পাঠ শিখিয়ে ‘সেকেন্ড বয়’ লাল-হলুদ

ফাইল চিত্র

কলকাতা: জবি ফিরতেই ছন্দে ফিরল ইস্টবেঙ্গল৷ ধারে ভারে দুর্বল পাঠচক্রকে লাল-হলুদ হারল ৩-০ ব্যবধানে৷

শুরুটা ভালো না-হলেও পাঠচক্র ম্যাচ জিতে কলকাতা লিগের দু’ নম্বরে উঠে এল লাল-হলুদ ব্রিগেড৷ ৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবলে মোহনবাগানের পরেই জায়গা করে নিল লাল-হলুদ৷ জবি জাস্টিনের জোড়া গোল এবং পেনাল্টি থেকে লালতের গোলে এদিন হাসতে হাসতে ম্যাচ জিতে নেয় পদ্মাপাড়ের ক্লাব৷

আরও পড়ুন-  শাস্ত্রী ভারতীয় ক্রিকেটে গ্রেগ চ্যাপেলের থেকেও বিপজ্জনক

শুরু থেকে এদিন মাঠমাঝের দায়িত্বে ছিলেন আল আমনা৷ লিগের অন্য ম্যাচগুলিতে তাঁকে শুরু থেকে না খেলানো নিয়ে কর্তা ও টিডির মধ্যে চাপানোতর তৈরি হয়েছিল৷ পাঠচক্র ম্যাচে সুভাষ এদিন শুরু থেকেই আমনাকে ব্যবহার করতেই ইস্টবেঙ্গলের খেলায় গতি আসে৷ শুরুতেই আমনার কর্ণার থেকে মেহতাবের হেড৷ বল জালের উপর দিয়ে বেড়িয়ে গেলেও সেই আক্রমণই বুঝিয়ে দিয়েছিল কাস্টমস ম্যাচে আটকে যাওয়ায় খোলস ছেড়ে বেড়োতে মরিয়া ইস্টবেঙ্গল৷

যে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের গোল পেতে ৭০ মিনিটের বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছিল, সেই পাঠচক্রের বিরুদ্ধে ১৬ মিনিটেই এগিয়ে যায় কাসিম-আমনারা৷ উইংয়ে ঝড় তুলে জবির জন্য ঠিকানা লেখা সেন্টার বাড়ান পাহাড়ি ফুটবলার ব্র্যান্ডন৷ তাতে মাথা ঠেকিয়েই ১৬ মিনিটে মরশুমের প্রথম গোল জবি জাস্টিনের৷ লিগে প্রথমবার নেমেই দুরন্ত গোল করলেন দক্ষিণী ফুটবলার৷

প্রথমার্ধে দুই উইং প্লে’র সচল রেখে বেশি কয়েকটি আক্রমণ করে ক্রমাগত পাঠচক্রের ডিফেন্সে আঘাত আনতে থাকে লাল-হলুদ৷ ২৩ মিনিটে আমনার ডান পায়ের শট শ্যুইং করে পোস্টের বাইরে দিয়ে বেড়িয়ে যায়৷ ২৯ মিনিটে ব্রান্ডনের পা থেকে বাড়ানো বলে রালতের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়৷ মাঠমাঝে আমনা আসতেই ইস্টবেঙ্গলকে পাওয়া গেল একেবারে অন্য মেজাজে৷ আমনার পায়ে বল আসতেই গ্যালারি থেকে সমর্থকদের আমনা আমনা রব তুলতেও দেখা যায়৷

আরও পড়ুন- বিরাট মোহভঙ্গে নেতা ধোনিতে আস্থা অনুরাগীদের

৪০ মিনিটে এরপর পেনাল্টি থেকে সহজ সুযোগে স্কোরলাইন ২-০ করেন রালতে৷ জবির শট পাঠচক্রের মনোতোষ চাকলাদারে হাতে লাগলে পোনাল্টির সহজ সুযোগ পায় লাল-হলুদ৷ প্রতিপক্ষ পাঠচক্র এদিন সেভাবে আক্রমণই করতে পারেনি৷ ইস্টবেঙ্গলের অর্ধে তাদের প্রথম আক্রমণ ৩৯ মিনিটে৷ দ্বিতীয়ার্ধে ৭৩ মিনিটি বিদেশি নাকামুরার হেড ছাড়া সেভাবে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সকে বিপদে ফেলতে পারেনি পাঠচক্র৷

দ্বিতীয়ার্ধে ৭৮ মিনিটে বিপক্ষের রক্ষণের ভুলে রালতের ক্রস থেকে গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে আরও একটি গোল চাপিয়ে দেয় জবি৷ শেষদিকে জবি’র পরিবর্তে নামা বালির শট পোস্টে লেগে ফিরে না আসলে গোল ব্যবধান বাড়াতে পারত ইস্টবেঙ্গল৷ এদিন ৮৪ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন আল আমনা৷

আরও পড়ুন- লর্ডসে বিরাট হারে লজ্জিত প্রাক্তনরা

টালিগঞ্জ অগ্রগামীর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ বৃষ্টির জন্য পরিত্যক্ত হয়৷ কিন্তু পরের ম্যাচে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে খাতা খোলে সুভাষ ভৌমিকের দল৷ কিন্তু শুক্রবার কাস্টমসের বিরুদ্ধে ড্র করায় ‘গো-ব্যাগ সুভাষ’ ধ্বনি তুলেছিলেন লাল-হলুদ সমর্থকরা৷ এদিন পাঠচক্রকে পাঠ শিখিয়ে হাসতে হাসতে মাঠ ছাড়লেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা৷ অর্থাৎ মঙ্গলবার ফের সুভাষিত লাল-হলুদ৷

Advertisement
----
-----