রেনবো ম্যাচ জিতেও চাপ বাড়ল ইস্টবেঙ্গলে

কলকাতা: গ্যালারিতে লাল-হলুদ জনতার হাততালি, তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হতে আকাশে ফানুস৷ তবু চিন্তা বাড়ল লাল-হলুদের৷

দরজায় কড়া নাড়ছে ডার্বি৷ প্রতিপক্ষ মোহনবাগান যেখানে প্রতিপক্ষকে পাঁচ গোল দিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে গোলপার্থক্য কমিয়ে ফেলেছে সেখানে সুপার সানডে’তে লাল-হলুদের অফ ফর্ম৷ আমনা-জবিরা চেষ্টা অনেক করলেন, কিন্তু গোলের দরজার কাছে এসেই আক্রমণের ঝাঁঝ কমেছে৷ প্রথমার্ধের পেনাল্টিই শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক হয়ে দাঁডা়য়৷ সেই পেনাল্টিতেই ম্যাচ জিতল ইস্টবেঙ্গল৷ রেফারির সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে৷

শনির ম্যাচে পড়শি মোহনবাগানের গোলের খিদে দেখে ইস্টবেঙ্গলের থেকে আরেকটু বেশি কিছু আশা করেছিলেন বলেই শুনিয়ে গেলেন মাঠ ফিরতি লাল-হলুদ সমর্থকরা৷ স্কোরলাইনে মন ভরেনি, ভরার কথাও নয়৷ ছয় ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট ১৬, সমসংখ্যাক ম্যাচে মোহনবাগানও একই পয়েন্টে দাঁড়িয়ে৷ গোলপার্থক্যে অবশ্য এগিয়ে থাকায় পয়েন্ট টেবিলে মগডালে মোহনবাগান৷

- Advertisement -

ডিফেন্সের ভুল, স্ট্রাইকার জবির গোল মিস৷ এদিনের খন্ড চিত্রগুলো জুড়লে সব মিলিয়ে একাধিক সুযোগ মিস৷ গোল মাত্র এক৷ ডার্বির আগে এই পারফরম্যান্স কিছুটা হলেও ইস্টবেঙ্গলের চাপ বাড়াল বলা চলে৷ দ্বিতীয়ার্ধে রেনবো’র দুটি আক্রমণ সামলাতে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সকেও বেশ হিমসিম খেতে হল৷ রোটেশন পদ্ধতিতে এদিন শুরুতে সুরাবুদ্দিনকে ব্যবহার করেন সুভাষ৷ বল পায়ে নজর কাড়লেও গোলের দেখা পেলেন না সুরাব৷

প্রথমার্ধের ২৫ মিনিটে সুরাবকে ফাউল করলে পোনাল্টি দেন রেফারি৷ পোনাল্টিতে গোল করতে ভোলেননি চুলোভা৷ পাহাড়ি ফুটবলারের পায়েই এগিয়ে যায় লাল-হলুদ৷ চুলোভার শট বিপক্ষ গোলরক্ষক দীপেন্দু সরকারের হাতে লেগে জালে ঢুকে যায়৷ এর আগে ১৯ মিনিটে কমলপ্রীতের মাপা সেন্টার থেকে হেডে গোল মিস করেন জবি জাস্টিন৷ তাঁর দিশাহীন হেড পোস্টের পাস দিয়ে বেড়িয়ে যায়৷ দ্বিতীয়ার্ধে আবার কোনও রকমে দু’বার লাল-হলুদের বিপদ সামলালেন গোলকিপার রক্ষিত ডাগার৷

৫১ মিনিটে অফসাইড ট্র্যাপে পড়ার আগে সুজয়ের শট থেকে রেনবো এফসির হয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন জুয়েল সানডে৷ দু’মিনিটের মাথাতেই ফের লাল-হলুদ ডিফেন্সের ভুল বোঝাবুঝিতে পেনের সেন্টার থেকে থ্রু পাসে গোলের সুযোগ তৈরি করেন সানডে৷ সেই শট রক্ষিতের গায়ে লেগে ফিরে এলে দ্বিতীয় সুযোগে বিপদ মুক্ত করেন লাল-হলুদ গোলরক্ষক৷ সব মিলিয়ে রেনবো ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট পকেটে এলেও ইস্টবেঙ্গলের সব বিভাগই ডার্বির আগে চিন্তা বাড়াল৷ যদিও লিগে এখনও কোনও গোল না খাওয়ার পরিসংখ্যান ইস্টবেঙ্গল থিঙ্কট্যাঙ্ককে স্বস্তি দিচ্ছে৷

Advertisement
---