তৃণমূলনেত্রী মমতার বাইক চালক বিজেপিতে

স্টাফ রিপোর্টার, সবং: তৃণমূলের প্রাক্তণ চাণক্য জার্সি বদল করার পর থেকেই আশঙ্কাটা ছিল৷ ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মী গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন৷ এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাস ‘বাইক-চালক’ই৷ তাও আবার সবং বিধানসভা উপনির্বাচনের মাটি থেকেই৷ স্বভাবতই, দুই মেদিনীপুর জেলা তো বটেই খাস কলকাতায় তৃণমূলের অন্দরেই বড়সড় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে৷

নাম-আনিসুর রহমান৷ ক’দিন আগে যাঁকে সকলে চিনতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাইক-চালক’ হিসেবে৷

পড়ুন: ‘ঐতিহাসিক’ নন্দীগ্রামে মমতা-শুভেন্দু’র জন্ম!

- Advertisement -

সেটা ছিল ২০০৭ সালের ১৬ মার্চ৷ দু’দিন আগেই তৎকালীন শাসকের ক্যাডার ও পুলিশের যৌথ আক্রমণে নন্দীগ্রামে প্রাণ হারিয়েছেন নিরীহ ১৪ জন গ্রামবাসী৷ তারপর থেকেই নন্দীগ্রাম সহ সমগ্র পূর্ব মেদিনীপুর অবরুদ্ধ৷ সিপিএমের ক্যাডারের পাশাপাশি গোটা জেলাকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে৷ ১৬ মার্চ পাঁশকুড়ায় বিরোধী দলনেত্রীর গাড়ি আটকায় শাসকের ক্যাডার ও পুলিশ৷

পড়ুন: নন্দীগ্রাম আন্দোলন যুগে যুগে স্মরণীয় হয়ে থাকবে: শুভেন্দু

এহেন পরিস্থিতিতেই পুলিশ ও সিপিএমের চোখে ধুলো দিয়ে সেদিনের বিরোধী দলনেত্রীকে নিজের বাইকে চাপিয়ে মাঠের আলপথ ধরে তমলুক হাসপাতালে পৌঁছে দেন সিপিএমের যুব সংগঠনের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য আনিসুর রহমান৷ সেখান থেকে ফের বাইকে চাপিয়ে বধ্যভূমি নন্দীগ্রামে দিদিমণিকে পৌঁছে দিয়েছিলেন আনিসুর৷ বলেছিলেন, ‘‘এত অত্যাচারের পর আর সিপিএমে থাকা যায় না৷ এটা গুন্ডাদের দল৷ তাই মমতাদির দলে নাম লেখালাম৷’’ পরের দিন রাজ্যের প্রতিটি সংবাদ মাধ্যমের প্রথম পাতায় ফলাও করে ছাপা হয়েছিল সেই ছবি৷ মুখ পুড়েছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-লক্ষ্মণ শেঠদের৷

পড়ুন: ‘নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী যতদিন জীবিত থাকবে, ততদিন তৃণমূলই থাকবে’

সেই শুরু৷ এরপর তৃণমূলের অন্দরে দিদিমণির স্নেহধন্য এই যুবার শুভেন্দুর হাত ধরে জেলা রাজনীতিতে উত্থান ঘটেছে উল্কার গতিতে৷ ২০০৮ সালে এই আনিসুরের হাত ধরেই বামেদের শক্তঘাঁটি পাঁশকুড়া ছিনিয়ে নিয়েছিল তৃণমূল৷ ঘটনাচক্রে মুকুল ঘনিষ্ট হওয়ার জেরে অধিকারি পরিবারের সঙ্গে তিক্ততা শুরু হয় আনিসুরের৷ মাস খানেক আগেও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতির পাশাপাশি পাঁশকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি৷ সূত্রের খবর, ‘অধিকারি’ পরিবারের সঙ্গে তিক্ততার জেরে সম্প্রতি দলত্যাগ করেন আনিসুর৷ পরে দলও আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করে৷

সবং বিধানসভার উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এদিন সবং হাইস্কুলে বুথ কমিটির সভা ডেকেছিল বিজেপি৷ হাজির ছিলেন দলের এরাজ্যের প্রথমসারির নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, রাহুল সিনহা, দিলীপ ঘোষ, সুরেশ পূজারি-রা৷ বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন সবং বিধানসভা এলাকার ৩০৬টি বুথের চার হাজার কর্মী৷ সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান তিনি৷

পড়ুন: ১০ বছরে নন্দীগ্রাম: কর্মসংস্থানের অভাবে এইচআইভি, ডেঙ্গি বৃদ্ধি ৪০০ শতাংশ

কয়েকদিন আগেই দাঁতনে নিহত কর্মীর শব মিছিল থেকে মুকুল রায় বলেছিলেন, ‘‘তৃণমূলের ব্যাভিচারে বাংলার মানুষ অতিষ্ট৷ তাই বাংলায় পরিবর্তনের পরিবর্তন কায়েম করতে বিজেপিকে বাংলায় প্রতিষ্টা করবই৷’’ এদিন সেই একই কথা শোনা গেল, তাঁর শিষ্য আনিসুর রহমানের মুখে৷ আপাতমস্তক দক্ষ সংগঠক আনিসুর বললেন, ‘‘মুখে মা-মাটি-মানুষের কথা বললেও তৃণমূল এখন গুন্ডা, বদমায়েসদের দলে পরিণত হয়েছে৷ তাই বাংলাকে রক্ষা করতে, বাংলার মানুষকে রক্ষা করতে আমি বিজেপিতে যোগ দিলাম৷’’

পড়ুন: ১০ বছরে নন্দীগ্রাম: ১৪ মার্চের পরে বড় নাশকতা রুখে দেয় সিবিআই

১০ বছরের ব্যবধানে একই কথা বললেন তিনি৷ তবে দলটা বদলে গেল৷ তাহলে কি ঘাসফুলে ভরা বাংলায় তৃণমূলে বড়সড় ধস, এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা? সদুত্তর অবশ্য মিলবে সময়েই৷

Advertisement ---
---
-----