স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মাঝেরহাটে লেভেল ক্রসিং করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করল পূর্ব রেল৷ রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, লেভেল ক্রসিং হলে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত হতে পারে৷ কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্য সরকারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে তারা৷

মাঝেরহাট সেতুর ভবিষ্যত্‍ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। সেতুটি কি আদৌ নতুন করে নির্মাণ করা হবে নাকি পুরনো সেতুটিই মেরামত করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু সেতু ভেঙে পড়ার জেরে চরম ভোগান্তি হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। ঘুরপথে গন্তব্যে পৌছতে হচ্ছে। অটোচালকেরা নিচ্ছেন অতিরিক্ত ভাড়া। বাসে অসম্ভব ভিড়।

এরই মধ্যে অন্তবর্তীকালীন সুরাহা হিসাবে মাঝেরহাটে ভেঙে পড়ার সেতুর পাশে লেভেল ক্রসিং তৈরির পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। সরকারি কর্তাদের অনুমান, লেভেল ক্রসিং হলে কিছুটা হলেও সুরাহা হবে দক্ষিণের যান সমস্যার।

পিডব্লুডি তরফে ইতিমধ্যেই রেলকে মাঝেরহাট সেতুর পাশে তৈরি হবে লেভেল ক্রসিং তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেজন্য রেল লাইনের ওপর দিয়ে ২০০ মিটার রাস্তা বানাতে হবে পিডব্লুডি-কে। দুপাশে রেলকে বসাতে হবে গেট। বৃহস্পতিবার পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার হরিন্দ্র রাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, লেভেল ক্রসিং হলে রেলের সমস্যা হতে পারে৷ রেল কর্তারা মনে করছেন, লেভেল ক্রসিং হলে যানবাহনের চাপ বাড়বে৷ আর তাতে যাত্রীবাহী ট্রেন এবং পন্যবাহী মালগাড়ি যাতায়াত বন্ধ হয়ে যেতে পারে৷ রিপোর্ট সম্পূর্ণ খতিয়ে দেখেই রাজ্যকে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবে রেল৷তবে রেলের এই ইঙ্গিত রাজ্য সরকাররে খানিকটা চিন্তায় ফেলল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল৷

গত মঙ্গলবার বিকেলে ভেঙে পড়ে মাঝেরহাট সেতু। এর পর যে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে বেহালা-সহ দক্ষিণ শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে খিদিরপুর ডক থেকে কন্টেনারবাহী যান চলাচলও। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাইড রোড-সহ বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে যান ঘুরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন পুলিস কর্তারা। কিন্তু তাতে লাভের লাভ তেমন হয়নি। ওদিকে ভেঙে পড়া মাঝেরহাট সেতুরও খুব তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম। সেতু ভেঙে ফেলে নতুন সেতু তৈরি করা হবে, না পুরনো সেতুকেই মেরামত করা হবে তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেন রাজ্য সরকার।

--
----
--