হিন্দু হস্টেল নিয়ে এবার সরকারি হস্তক্ষেপ প্রেসিডেন্সিতে

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ইডেন হিন্দু হস্টেল নিয়ে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের টালবাহানায় হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হল কার্যত রাজ্য সরকার৷ সূত্রের খবর, মঙ্গলবার হিন্দু হস্টেলের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়াকে ফোন করেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷

জানা গিয়েছে, এদিন উপাচার্যকে ফোন করে হিন্দু হস্টেলের পুরো বিষয়টিকে মানবিকভাবে দেখতে বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী৷ পার্থ চট্টোপাধ্যায় উপাচার্যকে বলেন, হিন্দু হস্টেল আমাদের গর্ব, সরকারের গর্ব, ছাত্র ছাত্রীদের গর্ব৷ তাই এ বিষয়ে কোনও টালবাহানা চলবে না৷ দ্রুত এই হস্টেলের সংস্কারের কাজ শেষ করতে হবে৷ কেন সংস্কারের কাজে এত দেরি হচ্ছে তা শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছেন অনুরাধা লোহিয়া৷

আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন পেল ১২২টি নতুন গবেষণা প্রকল্পের প্রস্তাব

- Advertisement -

গত শুক্রবার দুপুর থেকে হিন্দু হস্টেল ফেরত দেওয়ার দাবি নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন প্রেসিডেন্সির পড়ুয়ারা৷ মঙ্গলবার পাঁচদিনে পা দিল পড়ুয়াদের বিক্ষোভ৷ একদিকে নিজেদের দাবিতে অনড় পড়ুয়ারা, অন্যদিকে পড়ুয়াদের দাবি মানতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ সোমবার পড়ুয়াদের সামনে হাতজোড় করে বিক্ষোভ কর্মসূচি তুলে নেওয়ার অনুরোধ করে উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া৷ হিন্দু হস্টেল মেরামতের জন্য আরও কয়েক মাস সময় চান তিনি৷ তাঁর বক্তব্য, পিডব্লুডি হস্টেলকে বাসযোগ্যের ছাড়পত্র দিলেই তা পড়ুয়াদের জন্য খুলে দেওয়া হবে৷ তার আগে পর্যন্ত হস্টেল ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন উপাচার্য৷

কিন্তু, উপাচার্যের কথা শুনতে নারাজ আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা৷ তাঁদের দাবি, বর্তমানে হিন্দু হস্টেলের প্রায় ৬০ জন পড়ুয়া রাজারহাট নিউটাউনের ক্যাম্পাসে থাকছেন৷ সেখান থেকে নিত্যদিন তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়৷ নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়৷

হিন্দু হস্টেলে এখনও পর্যন্ত যতটা সংস্কার করা হয়েছে তা ১০০ জন পড়ুয়া থাকার উপযোগী৷ তাই অবিলম্বে পড়ুয়াদের হিন্দু হস্টেল ফিরিয়ে দিতে হবে৷ সোমবারই রাজারহাট নিউটাউনের হস্টেল থেকে বাক্স-প্যাঁটরা গুছিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এসে উপস্থিত হন পড়ুয়ারা৷

আরও পড়ুন: প্রকাশ্যে ধূমপান করলেই দিতে হবে জরিমানা

বিশ্ববিদ্যালয়ের দোতলার দেওয়ালে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় জামাকাপড়৷ স্টুডেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার রাজ্য কমিটির সদস্য শুভজিৎ সরকার বলেন, ‘‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে প্রতীকী হস্টেল হিসাবে ব্যবহার করছি৷ দাবি না মেনে নেওয়া পর্যন্ত এভাবেই আমাদের বিক্ষোভ চলবে৷’’

Advertisement ---
---
-----