ভরতি প্রক্রিয়ার সময়সীমা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভরতি প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশ দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ কলেজগুলিতে বিপুল পরিমাণ শূন্য আসন পূরণ করার জন্যই এই সময়সীমা বাড়ানো হল৷ আগামী ২০ অগস্টের মধ্যে শূন্য আসনগুলি পূরণ করতে হবে কলেজগুলিকে৷ মঙ্গলবার আশুতোষ কলেজের ১০৩তম প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রাক্তণ ছাত্র হিসাবে আমন্ত্রিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী৷ সেখানেই সাংবাদিক বৈঠক করে এই কথা জানান তিনি৷

গত ১০ জুলাই কলেজগুলিতে ভরতির সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছে৷ কিন্তু, তারপরও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্ত কলেজগুলিতে ফাঁকা রয়েছে বিপুল পরিমাণ আসন৷ জানা গিয়েছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩১টি কলেজে আসন সংখ্যা প্রায় এক লক্ষ ৩০ হাজার৷ ভরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেও তার মধ্যে ফাঁকা রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার আসন৷ একদিকে বিপুল পরিমাণ আসন ফাঁকা, অন্যদিকে ভরতি হতে না পেরে আত্মঘাতী হচ্ছে পড়ুয়ারা৷ সূত্রের খবর, বেশির ভাগ শূন্য আসনই সংরক্ষিত আসন৷

এদিন শূন্য আসন নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলাম এখনও কত আসন শূন্য রয়েছে৷ বিশ্ববিদ্যালয় তরফ থেকে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, বেশকিছু সংরক্ষিত আসন রয়েছে৷ কিন্তু, সংরক্ষিত আসনগুলির সব পূরণ করা সম্ভব হয়নি৷ আবার কিছু আসন রয়েছে অনার্স কোর্সে যেখানে পর্যাপ্ত আবেদন জমা পড়েনি৷’’ সোমবার শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তিনি আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন৷

প্রায় ৪০ হাজার আসন শূন্য৷ অথচ, ভরতি হতে পারেনি এমন পড়ুয়ারা ভরতির হওয়ার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন কলেজে কলেজে৷ তাই শূন্য আসনগুলি পূরণ করতে ভরতি প্রক্রিয়ার সময়সীমা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় উচ্চ শিক্ষা দফতর থেকে৷ পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী ২০ অগস্ট পর্যন্ত যে যে কলেজে আসন ফাঁকা আছে সেই কলেজগুলিকে শূন্য আসনগুলি পূরণ করার জন্য ভরতি প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে৷’’

এই বছর কলেজগুলিতে স্নাতক কোর্সে ভরতি প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই একে একে উঠে আসে দুর্নীতির ঘটনা৷ শিক্ষামন্ত্রী বার বার মেধার ভিত্তিতে ভরতির কথা বললেও, ভরতির নামে তোলাবাজির শিকার হতে হয় বহু পড়ুয়াকে৷ শেষ পর্যন্ত ভরতি প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইন করতে বাধ্য হয় রাজ্য সরকার৷ বাড়ানো হয় ভরতি প্রক্রিয়ার সময়সীমাও৷ কিন্তু, তারপরও বহু কলেজে ফাঁকা রয়েছে আসন৷ আর এই আসনগুলি পূরণেও যাতে কোনও দুর্নীতি না হয় সেই জন্য আগে থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী৷

এদিন শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, মেধার ভিত্তিতে ভরতি হবে৷ কলেজ কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেধাতালিকা অনুযায়ী ছাত্র-ছাত্রীদের সরাসরি জানাবে৷ সেই ছাত্র-ছাত্রীরা নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা করবেন৷ এই প্রক্রিয়া ২০ অগস্টের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে কলেজগুলিকে৷ তবে, কোনও অবস্থাতেই আসন শূন্য রাখা যাবে না৷ এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘যেখানে যা আসন শূন্য রয়েছে সেগুলি পূরণ করতে হবে৷ কোনও আসন ফাঁকা রাখা যাবে না৷’’

----
-----