জলপাইগুড়িতে বন্যা মোকাবিলায় ফলপ্রসু পদক্ষেপ ব্লক প্রশাসনের

জলপাইগুড়ি: উত্তরবঙ্গে তৈরি হওয়া বন্যা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে ধিরে ধিরে ছন্দে ফিরছে প্রকৃতি৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ধীরে ধীরে ঘরে ফিরছে বন্যার্ত মানুষেরা। তবে এখনও প্রায় ২৫০০ থেকে ২৭০০ মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়ে রয়েছে। তাদের যাতে কোনওরকম সমস্যা না হয় তাই মঙ্গলবার ত্রাণ শিবিরগুলি ঘুরে দেখেন ধূপগুড়ি ব্লক প্রশাসন। শিবিরে থাকা বিভিন্ন সমস্যাগুলি পরিদর্শন করেন বিডিও শুভঙ্কর রায়৷

এমনকি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেমে নতুন করে ত্রাণের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি। ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, ধূপগুড়ি ব্লকের জন্য ন’টি ত্রাণ শিবির তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে জলঢাকা নদীর জলে প্লাবিত কুর্শামারি, ডুডুয়া নদীর জলে প্লাবিত মুন্ডাপাড়া, বারো হলিয়া, ঘাটপাড়, সরুগাও ও শিশাপাড়া এলাকাগুলি অন্তর্ভূক্ত রয়েছে৷ গধেয়ারকুঠির এলাকা থেকে বেশকিছু প্লাবিত মানুষদের উদ্ধার করে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয়ও দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ধূপগুড়ি ব্লকের বেশ কিছু ত্রাণ শিবিরে আশ্রিত মানুষদের দেখতে সেখানে যান বিডিও শুভঙ্কর রায়৷ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে তিনি ব্লকের বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ থেকে শুরু করে নির্বাচনী সেলের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদেরও ময়দানে নামিয়েছেন।

কুর্শামারি ত্রাণ শিবিরে আশ্রিত রঞ্জিত সরকার বলেন টানা চারদিন ধরে কুর্শামারি স্টেট প্ল্যান প্রাইমারি স্কুলে আশ্রয় নিয়ে রয়েছি। প্রথমদিন থেকেই খিচুড়ি ও শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। তবে শিশুদের খাবার জোগান দিতে প্রথমদিনে কিছু সমস্যা হলেও মঙ্গলবার কিন্তু শিশুদের জন্যে বাজার থেকে দুধ কিনে ত্রাণ শিবিরে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বানারহাট ও বিন্নাগুড়ির হাতিনালার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দেখেন। মানুষের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। মন্ত্রী জানিয়েছেন, হাতিনালা থেকে যেভাবে জল ডুয়ার্সের বিন্নাগুড়ি ও বানারহাটে ঢুকছে তাতে ভূটান সরকারের সঙ্গে রাজ্যের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের মাধ্যমে কথা বলা উচিত৷ তাছাড়া ভারত ও ভূটান দুই দেশের যৌথ নদী কমিটির বৈঠকে রাজ্যের সেচ আধিকারিকদের মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে বলেও জানিয়েছন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।