এই পুজোয় আসতে চলেছে সেই ‘রাজা’

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : ভাওয়াল সন্ন্যাসীর সম্বন্ধে সকলের জানা থাকলেও অজানা রয়ে গিয়েছে আদালতের মামলার ব্যাপারটি৷ কয়েনের যেমন এ পিঠ ও পিঠ হয়৷ তেমনই ভাওয়াল সন্ন্যাসীরও দুটি দিক আছে৷ আরেকটি দিক কেউ জানে না৷

বেশ কয়েকটি বইতে এ বিষয় লেখা হয়েছে৷ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বই ‘প্রিন্সলি ইম্পস্টার: দ্য স্ট্রেন্জ অ্যান্ড ইউনিভার্সাল হিস্ট্রি অফ কুমার অফ ভাওয়াল’, মুরাদ ফৈজির বই ‘এ প্রিন্স’, ‘পয়জন এন্ড টু ফিউনারাল’ এই দু’টি বইতেই এ সম্বন্ধে বেশ কিছু তথ্য রয়েছে৷ সিনেমার পর্দায় সেই কাহিনি কখনও উঠে আসেনি৷ সেটাই করলেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি প্রকাশ্যে আনলেন ‘এক যে ছিল রাজা’ পোস্টার৷

বহুদিন ধরে এ ছবি নিয়ে কাজ করছিলেন তিনি৷ ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন যিশু সেনগুপ্ত, জয়া এহসান, রাজনন্দিনী, অপর্ণা সেন, অঞ্জন দত্ত৷ ছবির মোশন পোস্টার ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলে দিয়েছে টলিপাড়ায়৷ চলতি বছর পুজোর মরশুমে মুক্তি পেতে চলেছে ছবিটি৷

- Advertisement -

পড়ুন: সরকারের নির্দেশে ভেঙে গুঁড়িয়ে ফেলা হল টলিপাড়ার সিনেমার সেট

উত্তম কুমার-সুপ্রিয়া দেবী অভিনীত ‘সন্ন্যাসী রাজা’ ছবিটি মনে আছে? মৃত্যুর পরও উত্তমবাবু ওরফে সূর্য্যকিশোর রায় চৌধুরী ফিরে আসেন তাঁর জমিজমা ও রাজ্যপাট ফেরত নিতে৷ এই গল্পটি কিন্তু অনেকেরই জানা, ‘ভাওয়াল সন্ন্যাসী’র জীবনকাহিনী অর্থাৎ এক সত্য ঘটনার অবলম্বনেই এই ছবি তৈরি৷

আসল গল্পটি একবার দেখথে নেওয়া যাক৷ ভাওয়াল এস্টেটের জমিদার বংশের রাজকুমার ছিলেন রমেন্দ্রনারায়ণ রায়। অধিকাংশ সময় শিকার, আনন্দ-ফুর্তি, এবং নারীদের সঙ্গেই কাটাতে ভালবাসতেন তিনি। বেশ কয়েকজন রক্ষিতাও ছিলেন তাঁর৷ ১৯০৫ সালে তিনি যৌন রোগ সিফিলিসে আক্রান্ত হন রমেন্দ্রনারায়ণ। তারপর চিকিৎসা করার জন্য দার্জিলিংয়ে যেতে হয় তাঁকে৷ মে মাসের ৭ তারিখে চিকিৎসা চলাকালীন সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ হিসাবে বলা হয় বিলিয়ারি কলিক বা গলব্লাডারে পাথর।

সেই মাসের ১৮ তারিখে দার্জিলিংয়ে তাঁর শ্রাদ্ধ-শান্তি করা হয়৷ এতদূর অবধি সবই ঠিক ছিল, তবে সমস্যাটি শুরু হয় ১৯২০-২১ সালে৷ ঢাকার বাকল্যান্ড বাঁধের কাছে সর্বাঙ্গে ছাই মাখা এক সন্ন্যাসীর আগমন ঘটে। দাবি করা হয় তিনিই রমেন্দ্রনারায়ণ রায়৷ এমনকি তাঁর ফিরে আসার পর ভাওয়াল এস্টেটের সম্পত্তির অধিকার চেয়ে আদালতে মামলাও করেন।

Advertisement ---
---
-----