কলকাতা : আদালতের চার দেওয়াল গমগম করছে আইনজীবীর চিৎকারে৷ বিচারকের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় এক মৃতদেহকে ডাকতে চাইছেন তিনি৷ সেই মৃতদেহের পরিচয় রাজা মহেন্দ্রকুমার চৌধুরি৷ যদিও সে জীবন্ত৷ হাঁটাচলা করে বেড়াচ্ছেন৷ নিজে থেকেই উঠে এসে কাঠগড়ায় দাঁড়ালেন তিনি৷ কেন এই জীবন্ত ব্যক্তিকে মৃতদেহ বলা হচ্ছে সেই জটও ধীরে ধীরে খুলবে৷

রাজা মহেন্দ্রকুমার চৌধুরির নামে আইনজীবী তাঁকে সম্বোধন করলেই ভেসে আসে এক মহিলা কন্ঠস্বর৷ ‘অবজেকশন’ বলার সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন সেই আরেকজন মহিলা আইনজীবী৷ তাঁর মতে এই ব্যক্তি এক প্রতারক৷ পরিচয় মাল সিং৷ পঞ্জাবের বাসিন্দা সে৷ কী তাঁর আসল পরিচয়? উত্তর মিলবে ১২ অক্টোবর৷ সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ‘এক যে ছিল রাজা’র অফিসিয়াল ট্রেলার৷

Advertisement

ভাওয়াল সন্ন্যাসীর সম্বন্ধে সকলের জানা থাকলেও অজানা রয়ে গিয়েছে আদালতের মামলার ব্যাপারটি। কয়েনের যেমন এ পিঠ ও পিঠ হয়। তেমনই ভাওয়াল সন্ন্যাসীরও দুটি দিক আছে। আরেকটি দিক কেউ জানে না। কিছু বইতে এ বিষয় লেখা হয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বই ‘প্রিন্সলি ইম্পস্টার: দ্য স্ট্রেন্জ অ্যান্ড ইউনিভার্সাল হিস্ট্রি অফ কুমার অফ ভাওয়াল’, মুরাদ ফৈজির বই ‘এ প্রিন্স’, ‘পয়জন এন্ড টু ফিউনারাল’ এই দু’টি বইতেই এ সম্বন্ধে বেশ কিছু তথ্য রয়েছে।

সিনেমার পর্দায় সেই তথ্যই তুলে ধরবেন সৃজিত৷ বহুদিন ধরে এ ছবি নিয়ে কাজ করছিলেন তিনি। ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন যীশু সেনগুপ্ত, জয়া এহসান, রাজনন্দিনী, অপর্ণা সেন, অঞ্জন দত্ত। ছবির মোশন পোস্টার সাড়া ফেলে দিয়েছে টলিপাড়ায়।

উত্তম কুমার-সুপ্রিয়া দেবী অভিনীত ‘সন্ন্যাসী রাজা’ ছবিটি মনে আছে? মৃত্যুর পরও উত্তমবাবু ওরফে সূর্য্যকিশোর রায় চৌধুরী ফিরে আসেন তাঁর জমিজমা ও রাজ্যপাট ফেরত নিতে। এই গল্পটি কিন্তু অনেকেরই জানা, ‘ভাওয়াল সন্ন্যাসী’র জীবনকাহিনী অর্থাত্‍ এক সত্য ঘটনার অবলম্বনেই এই ছবি তৈরি।

আসল ঘটনায় বলা আছে ভাওয়াল এস্টেটের জমিদার বংশের রাজকুমার ছিলেন রমেন্দ্রনারায়ণ রায়। অধিকাংশ সময় শিকার, আনন্দ-ফুর্তি, এবং নারীদের সঙ্গেই কাটাতে ভালবাসতেন তিনি। বেশ কয়েকজন রক্ষিতাও ছিলেন তাঁর।

১৯০৫ সালে তিনি যৌন রোগ সিফিলিসে আক্রান্ত হন রমেন্দ্রনারায়ণ। তারপর চিকিত্‍সা করার জন্য দার্জিলিংয়ে যেতে হয় তাঁকে। মে মাসের ৭ তারিখে চিকিত্‍সা চলাকালীন সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ হিসাবে বলা হয় বিলিয়ারি কলিক বা গলব্লাডারে পাথর। সেই মাসের ১৮ তারিখে দার্জিলিংয়ে তাঁর শ্রাদ্ধ-শান্তি করা হয়।

এতদূর অবধি সবই ঠিক ছিল, তবে সমস্যাটি শুরু হয় ১৯২০-২১ সালে। ঢাকার বাকল্যান্ড বাঁধের কাছে সর্বাঙ্গে ছাই মাখা এক সন্ন্যাসীর আগমন ঘটে। দাবি করা হয় তিনিই রমেন্দ্রনারায়ণ রায়। এমনকি তাঁর ফিরে আসার পর ভাওয়াল এস্টেটের সম্পত্তির অধিকার চেয়ে আদালতে মামলাও করেন।

https://www.youtube.com/watch?v=DAhCBHmZ0Rc

----
--