কলকাতা : আদালতের চার দেওয়াল গমগম করছে দু’জনের চীৎকারে৷ একজন আইনজীবী আরেকজন অভিযুক্ত৷ আইনজীবি তাঁকে একই প্রশ্ন বারবার করে চলেছেন৷ যদিও প্রশ্নটা খুবই সাধারণ৷ ‘মহামান্য আদালতকে আপনার নামটা বলুন৷’ অভিযুক্ত নিজের নাম বললেও, আইনজীবীর সেই উত্তর যেন কিছুতেই মনমত হচ্ছে না৷ প্রশ্নটির সঠিক উত্তর চান তিনি৷ তাঁর ধারণা অভিযুক্ত মিথ্যে বলছে৷ গলা চড়াতেই অভিযুক্তের মুখ থেকে বেরলো, “রাজা মহেন্দ্র কুমার..”৷ এমনই এক দৃশ্য দিয়ে দর্শকের উৎসাহ বাড়িয়ে দিল ‘এক যে ছিল রাজা’র টিজার৷

মিনিট খানেক টিজার জুড়ে কোনও আদালতের দৃশ্য নেই৷ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলছিল এই সংলাপ৷ আর টিজারের দৃশ্যে রয়েছে টুকরো টুকরো কিছু মুহূর্ত৷ চিতা থেকে উঠে আসা এক রক্তমাংসের মানুষ৷ জঙ্গলের রাস্তা ধরে পৌঁছল নিজের ঠিকানায়৷ এক রাজবাড়িতে৷ পেছন থেকে দেখে তাকে এক সন্ন্যাসী লাগছে ঠিকই কিন্তু রাজবাড়ির সকলে যেন তাকে দেখে ভূত দেখার মত চমকে উঠছে৷ এক মিনিটের টিজারে প্রশ্ন উঠে এলো প্রায় কয়েক’শো৷ সবের উত্তর মিলবে এ বছর পুজোয়৷ সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ছবি ‘এক যে ছিল রাজা’ নিয়ে নানা চর্চা হয়েছে৷ দর্শকরাও অধীর আগ্রহ বসেছিলেন কবে সিনেমার পর্দায় ভাওয়াল সন্ন্যাসীর কাহিনি উঠে আসবে৷

‘আইন বিচার নির্দেশ করে৷ কিন্তু কখনও কখনও কিছু বিচার আইন হয়ে দাঁড়ায়৷’ এমনই কথা দিয়ে শুরু হয়েছিল টিজারটি৷ ইতিমধ্যে ট্যুইটার ট্রেন্ডিংয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে ‘এক যে ছিল রাজা’র টিজার৷ ভাওয়াল সন্ন্যাসীর সম্বন্ধে সকলের জানা থাকলেও অজানা রয়ে গিয়েছে আদালতের মামলার ব্যাপারটি। কয়েনের যেমন এ পিঠ ও পিঠ হয়। তেমনই ভাওয়াল সন্ন্যাসীরও দুটি দিক আছে। আরেকটি দিক কেউ জানে না।

বেশ কয়েকটি বইতে এ বিষয় লেখা হয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বই ‘প্রিন্সলি ইম্পস্টার: দ্য স্ট্রেন্জ অ্যান্ড ইউনিভার্সাল হিস্ট্রি অফ কুমার অফ ভাওয়াল’, মুরাদ ফৈজির বই ‘এ প্রিন্স’, ‘পয়জন এন্ড টু ফিউনারাল’ এই দু’টি বইতেই এ সম্বন্ধে বেশ কিছু তথ্য রয়েছে। সিনেমার পর্দায় সেই তথ্যই তুলে ধরবেন সৃজিত৷ বহুদিন ধরে এ ছবি নিয়ে কাজ করছিলেন তিনি। ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন যীশু সেনগুপ্ত, জয়া এহসান, রাজনন্দিনী, অপর্ণা সেন, অঞ্জন দত্ত। ছবির মোশন পোস্টার সাড়া ফেলে দিয়েছে টলিপাড়ায়।

উত্তম কুমার-সুপ্রিয়া দেবী অভিনীত ‘সন্ন্যাসী রাজা’ ছবিটি মনে আছে? মৃত্যুর পরও উত্তমবাবু ওরফে সূর্য্যকিশোর রায় চৌধুরী ফিরে আসেন তাঁর জমিজমা ও রাজ্যপাট ফেরত নিতে। এই গল্পটি কিন্তু অনেকেরই জানা, ‘ভাওয়াল সন্ন্যাসী’র জীবনকাহিনী অর্থাত্‍ এক সত্য ঘটনার অবলম্বনেই এই ছবি তৈরি।

আসল ঘটনায় বলা আছে ভাওয়াল এস্টেটের জমিদার বংশের রাজকুমার ছিলেন রমেন্দ্রনারায়ণ রায়। অধিকাংশ সময় শিকার, আনন্দ-ফুর্তি, এবং নারীদের সঙ্গেই কাটাতে ভালবাসতেন তিনি। বেশ কয়েকজন রক্ষিতাও ছিলেন তাঁর। ১৯০৫ সালে তিনি যৌন রোগ সিফিলিসে আক্রান্ত হন রমেন্দ্রনারায়ণ। তারপর চিকিত্‍সা করার জন্য দার্জিলিংয়ে যেতে হয় তাঁকে। মে মাসের ৭ তারিখে চিকিত্‍সা চলাকালীন সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ হিসাবে বলা হয় বিলিয়ারি কলিক বা গলব্লাডারে পাথর।

সেই মাসের ১৮ তারিখে দার্জিলিংয়ে তাঁর শ্রাদ্ধ-শান্তি করা হয়। এতদূর অবধি সবই ঠিক ছিল, তবে সমস্যাটি শুরু হয় ১৯২০-২১ সালে। ঢাকার বাকল্যান্ড বাঁধের কাছে সর্বাঙ্গে ছাই মাখা এক সন্ন্যাসীর আগমন ঘটে। দাবি করা হয় তিনিই রমেন্দ্রনারায়ণ রায়। এমনকি তাঁর ফিরে আসার পর ভাওয়াল এস্টেটের সম্পত্তির অধিকার চেয়ে আদালতে মামলাও করেন।

https://www.youtube.com/watch?v=2cZUXON0UuA&feature=youtu.be

----
--