বাসুদেব ঘোষ, সিউড়ি: হাতির হানায় নষ্ট হল বিঘার পর বিঘা আখ খেত। হাতি দল খেলো জমি থেকে কেটে মাঠের আলে মজুত করা ধান। ফলে বৃষ্টির অভাবে যতটুকু ফসল হয়েছিল, তাও খেলো ঝাড়খণ্ড থেকে আসা ১৮ হাতির দল।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সকাল থেকে হাতির দল মহম্মদবাজারের কামার নবগ্রামে ঢুকছে৷ কিন্তু তাদের নিয়ন্ত্রণে দেখা গেল না বন দফতরের কোনও কর্মীকে বা পুলিশকে। যদিও বিকাল দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান অতিরিক্ত বিভাগীয় বনাধিকারীক বিজন কুমার নাথ। তিনি জানান, রাত্রে রাজনগর থেকে হাতি তাড়ানোর হুলা পার্টি আসছে। তারা ফের ঝাড়খণ্ডে হাতির দলকে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেবে।

রাজনগরের কুড়ালমেটে গ্রাম দিয়ে দু দিন আগেই ১৮ সদস্যের হাতির দল বীরভূমে ঢুকে ছিল। যে দলে দুটি দাঁতাল, চারটি বাচ্চা ও অন্যান্য হাতি আছে। শুক্রবার সকালে দুমকা জেলার রানীশ্বর ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে হাতির দলকে দেখা যায়। সেখানে থেকে তাড়া খেয়ে দলটি জিন্ধারপুর কাপিষ্টা হয়ে কামার নবগ্রামে গিয়ে ওঠে। গ্রামে ঢুকেই একাধিক আখের খেত অবাধে আখ খেতে থাকে হাতিরা।

গ্রামবাসী সমীর ঘোষ জানান, তার ১৫ কাটার আখ হাতিতে শেষ করে দিয়েছে। অনাদি নাথ ব্রহ্ম জানান, তিনি ১০ কাটা জমিতে আখ গাছ লাগিয়েছিলেন। হাতি আখ যত না খেয়েছে তার থেকে নষ্ট করেছে বেশি। আলুর জমি দিয়ে চলাচল করায় ১৮ হাতির পায়ের দলনে আলুর জমিতে আলু চাষ প্রায় শেষ।

শ্যামসুন্দর সিং জানান, তার চার বিঘার ধান জমি থেকে কেটে সেগুলি জমির আলে গুছিয়ে মজুত করা ছিল। হাতির দল মজুত ধানের আটি ভেঙ্গে সেগুলি খেয়ে শেষ করেছে। গ্রামবাসীদের দাবি এই এলাকা বৃষ্টি নির্ভর৷ সেচ যোগ্যও নয়৷ এবার ধানের ফলনের মুখে বৃষ্টি না হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। তার ওপর হাতির দল যদি এইভাবে নষ্ট করে যায়৷ তাহলে সারা বছরের খাবারের যোগান পাবে কোথা থেকে।

আলু ও সর্ষে লাগিয়ে ছিলেন গোরাচাঁদ ব্রহ্ম। তিনি জানান, এই এলাকায় এর আগে হাতি আসেনি। এই প্রথম হাতি এলো। হাতির দলকে দেখতে লোকে ভিড় করেছিল।কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি৷ হাতির দল তাদের নিজের জায়গা থেকে এক ইঞ্চিও পিছু হাটেনি৷ আমাদের গ্রামেই হাতি থেকে ফসলের নষ্ট করল।

কামার নবগ্রামের বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার বেলা ন’টা নাগাদ হাতির দল তাড়া খেয়ে গ্রামে ঢোকে। ঝাড়খণ্ডের গ্রামবাসীরা টিন বাজিয়ে পতাকা ফুটিয়ে তাদের ফসল রক্ষা করেছে। কিন্তু তারা এসে ঢুকল মহম্মদবাজার ব্লকে। যেহেতু এলাকাটি ঝাড়খণ্ড বীরভূম সীমানায় তাই মহম্মদবাজার থানার পুলিশ এলো দুপুর গড়িয়ে। তাও তারা এসে জিন্ধারপুরের রথতলায় দাঁড়িয়ে রইল।

বনদফতরের বিজন নাগ জানান, চারিদিকে গ্রামের লোক এমনভাবে ঘিরে আছে যে হাতির দল তাদের যাওয়ার পথ পাচ্ছে না। রাতে রাজনগরের হাতি তাড়ানোর যে দলটি আছে তারা এসে ফের তাদের ঝাড়খণ্ডে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে।