কে কোথায় যাবে? হাতি-মানুষের ভিড়ে যাচ্ছে প্রাণ

বেঙ্গালুরু: হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে হেগভের এক ব্যক্তির। তিনিই প্রথম নন। অন্তত এক ডজন মৃত্যু হয়েছে হাতির জন্য সেখানকার কফি রোপনকারীরা এদিন বাজি ফাটানোর শব্দে বিপদের আভাস পান। মৃত যোগেশের ভাই গিরিশ জানান ‘ সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে যায়। হাতিটি হঠাতই ঝোপের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসে এবং তাকে পদদলিত করে এবং তারপর পালিয়ে যায়। মৃত যোগেশের এক স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।

ভারতের বেশীরভাগ হাতির বাসস্থান কর্ণাটকে , সংখ্যাটা প্রায় ৬০০০ যা ভারতে মোট হাতির প্রায় ২০ শতাংশ । তবে এখন জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মানুষ সেইসব জায়গায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে যেখানে আগে হাতিদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। তাই এর ফলাফল হচ্ছে মারাত্মক । প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে দুপক্ষই ।

গতবছর সংসদে সরকার ঘোষণা করে শেষ তিন বছরে হাতির হানায় ১,১০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি হাতিদের অস্তিত্বও সংকটের মুখে। শেষ আট বছরে দেশজুড়ে প্রায় ৭০০ হাতি মারা গিয়েছে । বেশিরভাগ হাতিই মারা গিয়েছে বৈদুতিক বেড়ায় আটকে গিয়ে। যে সব ব্যক্তিরা হাতির হানায় মারা গিয়েছেন তাদের ক্ষিপ্ত পরিজনদের হাতে বা হাতির আক্রমণে যাদের ফসল নষ্ট হয়েছে তারাই বিষ জাতীয় কিছু প্রয়োগ করে বা গুলি করে হাতিগুলিকে মেরে ফেলেছেন। এছাড়া রেললাইন পেরোতে গিয়েও প্রতিবছর প্রচুর হাতি মারা যায়।

কর্ণাটকের প্রধান বন্যপ্রাণী রক্ষক সি জয়রামন বলেন, ‘ এখন আমাদের বছরে গড়ে প্রায় ৩০-৪০ জন মানুষ হাতির হানায় মারা যান’।

সরকারও একপ্রকার অসহায়। তারা বুঝতে পারছেন না ঠিক কি করা উচিত । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিক জানান , ‘ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বা উন্নয়নের চাপ কোনটাই এড়ানো সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে আমাদের এই সব আক্রমণের মোকাবিলা করার পদ্ধতি রপ্ত করতে হবে এবং এভাবেই লড়াই করে বাঁচতে হবে।’

কর্ণাটকের দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্পে বেশকিছু হাতিকে স্থানান্তর করা হয় । সেখানকার কর্মী জেসি ভাস্কর জানান , ‘ অনেকটা জেলের মত। ক্যাম্পটিকে ট্রেনিং সেন্টারের চেয়ে অনেক বেশি পুনর্বাসন কেন্দ্র বলে মনে হয় । হাতিগুলি আসার আগেই আমরা সেখানে ঘাস – খড় ছড়িয়ে দিই । এবং খাওয়ার ও বিশ্রাম নেওয়ার পর তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয় । তাদের মধ্যেই একটি হাতি, সূর্য যে যোগেশ ও আরও একজনকে হত্যা করে তাকে ছোটাছুটি থেকে বিরত করতে পায়ে বেড়ি পরিয়ে রাখা হয় ।

ক্যাম্পের এই আঠাশটি হাতিকে দেখতে প্রতিবছর পর্যটকরা আসেন । নদীর ধারে এই ক্যাম্পটি তারা উপভোগ করেন। এই ক্যাম্পের ফলে স্থানীয় মানুষের রাগ কিছুটা স্তিমিত হলেও এটি যে নির্দিষ্ট সমাধান নয় আধিকারিকরা তা জানেন।

সমাজসেবী সংস্থা নেচার কনসারভেশন ফাউনডেশন যারা স্থানীয় মানুষের সাথে কাজ করেন, তার কর্মী বিনোদ কৃষ্ণণের মতে এই আক্রমণ আটকানোর একমাত্র উপায় তথ্য আদান প্রদান। এর আগে এই আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য যা যা করা হয়েছে সমস্ত চেষ্টাই বিফল হয়েছে। এবং এটা দেখাই যাচ্ছে নানা ধরনের বেড়া দিয়ে এদের আটকে রাখা সম্ভব নয় । তিনি বলেন মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে এবং কোথাও খবর পেলে এসমএসের মাধ্যমে হাতির উপস্থিতির খবর জানাতে হবে। উপদ্রুত জায়গায় বোর্ডে হেল্প লাইন হিসেবে এসমএস নাম্বার লিখে রাখতে হবে যাতে মানুষ দ্রুত সতর্ক হতে পারেন। আশা করা যায় এভাবে হতাহতের আশঙ্কা এড়ানো যেতে পারে । প্রত্যন্ত জায়গাতেও এভাবে মৃত্যু এড়ানো যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন ।

পাশাপাশি গিরিশ তাঁর ভাইকে হারানোর প্রায় ছয় মাস পরেও আতঙ্কে ভোগে যে সেও মারা যেতে পারে । এখনও সে কফি বাগানে কাজ করতে গিয়ে হাতির পায়ের আওয়াজ শোনে ।

----
-----