বার্মিংহ্যাম: দীনেশ কার্তিক প্রথম দিনের অন্তিম ওভারকে সহজ ক্যাচ না-ফেললে বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে এজবাস্টনে ব্যাট হাতে নামতেন ভারতের দুই ওপেনার৷ তবে অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হয়নি৷ দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় ওভারেই ইংল্যান্ড ইনিংসের লেজ ছেঁটে ফেলে বিরাটবাহিনী৷ ২৮৭ রানে শেষ হয় ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস৷ মহম্মদ শামির বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে স্যাম কুরান প্যাভিলয়নে ফিরতেই ইংল্যান্ড ইনিংসের যবনিকা নামে৷

৯ উইকেটে ২৮৫ রান নিয়ে এদিন খেলা শুরু করে ইংল্যান্ড৷ এদিন মাত্র দু’রান যোগ করে ইংল্যান্ড ইনিংসের শেষ জুটি স্যাম কুরান ও জেমস অ্যান্ডারসন৷ ভারতীয় পেসারদের নিয়ন্ত্রিত সুইং এবং অপরপ্রান্তে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ঘূর্ণি৷ পেস ও স্পিনের সাঁড়াশি আক্রমণে বিব্রত ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন-আপ৷ জো রুট ও জনি বেয়ারস্টোর পাল্টা লড়াই এবং ওপেনার জেনিংসের যথাযোগ্য সঙ্গতে ইংল্যান্ড মান বাঁচালেও তিনশো রানের গণ্ডি টপকাতে পারেনি৷

Advertisement

রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে সামলাতে হিমশিম খেয়েছে রুটরা৷ মাঝেমাঝে বেগ দিয়েছেন মহম্মদ শামি৷ বুধবার ম্যাচের প্রথমদিন কুককে ফিরিয়ে অশ্বিনই ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন৷ লাঞ্চের পর ইংল্যান্ডের টপ-অর্ডারে শামি জোড়া ধাক্কা দেন৷চায়ের বিরতির পর রুট দূর্ভাগ্যজনক রান-আউট হতে ইংল্যান্ড ইনিংসে ধস নামান অশ্বিন৷ সুযোগ মতো উমেশ-ইশান্তও তুলে নেন একটি করে উইকেট৷ দিনের শেষ ওভারে শামির বলে উইকেটকিপার কার্তিক কুরানের ক্যাচ না-ছাড়লে ইংল্যান্ড প্রথম দিনেই অল-আউট হয়ে যেত রুটবাহিনী৷

হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে ভারত চারজন পেসার নিয়ে টেস্ট খেলতে নেমেছে বার্মিংহ্যামে৷ তা সত্ত্বেও কোহলিকে সাত ওভারের মাথাতেই স্পিনার অশ্বিনে ভরসা রাখতে হল৷ ইংল্যান্ড ইনিংসের শুরুটা অবশ্য মন্দ হয়নি৷ তবে ছ’ওভারে ইশান্তের বলে সিপ্লে ওপেনার কিয়েটন জেনিংসের ক্যাচ ছাড়েন অজিঙ্কা রাহানে৷ নবম ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিন ভারতকে ম্যাচের প্রথম সাফল্য এনে দেন৷ অ্যালেস্টার কুককে বোল্ড করেন ভারতীয় অফস্পিনার৷

দু’টি বাউন্ডারির সাহায্যে ২৮ বলে ১৩ রান করে কুক ড্রেসিংরুমে ফিরলেও জেনিংসকে সঙ্গে নিয়ে দলকে শক্ত ভিতে বসিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন৷ লাঞ্চের আগে আর কোনও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি ইংল্যান্ডকে৷ লাঞ্চ ব্রেকের আগে পর্যন্ত দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে রুট জেনিংস যোগ করেন ৫৭ রান যোগ করেন৷ ইংল্যান্ড মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতিতে ১ উইকেট হারিয়ে ৮৩ রান তোলে৷

লাঞ্চের পরের আধ ঘণ্টা সতর্ক হয়ে ব্যাট করে ইংল্যান্ড৷ তবে মহম্মদ সামির একটা আগুনে স্পেলই ব্রিটিশদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়৷ গোলমাল বাধিয়ে দেয়৷ ইনিংসের ৩৬ ওভারে হাফ-সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা জেনিংসকে বোল্ড করেন শামি৷ ৪২ রান করে আউট হন তিনি৷ তবে হাফ-সেঞ্চুররি পূর্ণ করা ছাড়াও টেস্ট কেরিয়ারে ছ’হাজার রানের মাইলস্টোন টপকে যান৷

দিনের শেষ সেশনে ইংল্যান্ড ৩৪ ওভারে ১২২ রান তুললেও ৬টি উইকেট হারায়৷ ব্যক্তিগত ৮০ রানে নিজের ভুলেই রান-আউট হয়ে ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা লাগান ব্রিটিশ অধিনায়ক রুট৷ আর জনি বেয়ারস্টোকে ব্যক্তিগত ৭০ রানে প্যাভিলিয়নের পথে করে উমেশ যাদবের বলে বোল্ড হন

অশ্বিন ৬২ রান খরচ করে ৪টি উইকেট তুলে নেন৷ আর ৬৪ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন শামি৷ ৪৬ রানে একটি উইকেট ইশান্তের৷ ৫৬ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন উমেশ৷ ১০ ওভার হাত ঘুরিয়েও কোনও উইকেট তুলতে পারেননি হার্দিক৷

----
--