‘হ্যারি কেন’ ঝড়ে বিধ্বস্ত পানামা

নিজনি নভগোরড: ধ্বংসাত্মক হ্যারি কেনে বিধ্বস্ত পানামা৷ প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামা লাতিন আমেরিকার দলটি অভিষেক ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ০-৩ গোলে পরাজিত হয়েছিল৷ দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ১-৬ গোলে বিধ্বস্ত হয় তারা৷ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ব্রিটিশ দলটির হয়ে দুরন্ত হ্যাটট্রিক করেন হ্যারি কেন৷ জোড়া গোল স্টোনসের৷ বিশ্বকাপে গোলের খাতা খুলে ফেলেন লিংগার্ডও৷ গ্রুপের প্রথম দুটি ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে প্রি-কোয়ার্টারের টিকিট পকেটে পোরে ইংল্যান্ড৷ হ্যারি কেন গোল্ডেন বুটের দৌড়ে পিছনে ফেলে দেন রোনাল্ডো ও লুকাকুকে৷

ম্যাচের ৮ মিনিটের মাথায় সেট পিস থেকে গোলের খাতা খোলে ইংল্যান্ড৷ ট্রাইপারের কর্ণার থেকে হেডে গোল করেন জন স্টোনস৷ ইংল্যান্ডের জার্সিতে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির তারকা ডিফেন্ডারটির এটি প্রথম গোল৷

২০ মিনিটে লিংগার্ডকে নিজিদের বক্সে ফাউল করেন পানামার এসকোবার৷ রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিলে ২২ মিনিটের মাথায় স্পট কিক থেকে ইংল্যান্ডের ব্যবধান বাড়িয়ে ২-০ করেন হ্যারি কেন৷ রাশিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড অধিনায়কের এটি তৃতীয় গোল৷

- Advertisement -

৩৬ মিনিটে নিজেই বল তৈরি করে দুরন্ত ফিনিশিং টাচ লিংগার্ডের৷ মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে গিয়ে স্টার্লিংকে বাড়িয়ে দেন ম্যান ইউ তারকা৷ স্টার্লিং সুযোগ বুঝে চলতি বল লিংগার্ডের কাছেই ফেরত পাঠান৷ নিখুঁত নিশানায় পানামার জালে বল জড়িয়ে ইংল্যান্ডের লিড বাড়িয়ে ৩-০ করেন তিনি৷ বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিংগার্ডের এটি প্রথম গোল৷

৪০ মিনিটে স্টার্লিংয়ের হেড পানামা গোলরক্ষক প্রতিহত করলে ফিরতি বল আলতো হেডারে জালে জড়িয়ে দেন স্টোনস৷ ম্যাচে তথা জাতীয় দলের এটি ছিল স্টোনসের দ্বিতীয় গোল৷ জোনসের দ্বিতীয় গোলের সুবাদে পানামার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড ৪-০ গোলে এগিয়ে যায়৷ ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ড এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে চারটি গোল করে৷ যদিও নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যে এই প্রথমবার তারা চারবার প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে সক্ষম হয়৷ সেটাও আবার ম্যাচের প্রথমার্ধেই৷

৪৩ মিনিটে হ্যারি কেনকে বক্সের মধ্যে গোডোয় ফাউল করলে পেনাল্টি পেয়ে যায় ইংল্যান্ড৷ ইনজুরি টাইমে (৪৫+১ মিনিট) স্পট কিক থেকে গোল করে ইংল্যান্ডের হয়ে পাঁচ গোলের বৃত্ত পূর্ণ করেন হ্যারি কেন৷ একই সঙ্গে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ছুঁয়ে ফেলেন রোনাল্ডো ও লুকাকুকে৷ চলতি বিশ্বকাপে এটি কেনের চতুর্থ গোল৷

শেষবার বিশ্বকাপের ম্যাচে প্রথমার্ধেই পাঁচটি গোল হয়েছিল ২০১৪ সেমিফাইনালে৷ আয়োজক ব্রাজিলের বিরুদ্ধে বিরতিতে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল জার্মানি৷ শেষমেশ জার্মানি ম্যাচ জেতে ৭-১ গোলে৷

দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল করে ইংল্যান্ড৷ ৬২ মিনিটে রুবেন লোটাস-চিকের দূরপাল্লার শট হ্যারি কেনের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে এবং পানামা গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে ঢুকে যায়৷ ইংল্যান্ড ৬-০ গোলে এগিয়ে যায়৷ পড়ে পাওয়া গোল হলেও বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হ্যারি কেন৷ একই সঙ্গে চলতি বিশ্বকাপের দু’ম্যাচে পাঁচটি গোল করে গোল্ডেন বুটোর দৌড়ে পিছনে ফেলে দেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও রোমেলু লুকাকুকে৷ হ্যাটট্রিক করার পরেই কেনকে তুলে নেন ইংল্যান্ড কোচ সাউথগেট৷ আর এক গোল স্কোরার লিংগার্ডকেও ম্যাচ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি৷

শেষবেলায় একটি গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৬-১ করে পানামা৷ ৭৮ মিনিটে পানামার হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেন ব্যালয়৷ ৩৭ বছর ১২০ দিন বয়সে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গোল করা ব্যালয় বিশ্বকাপে প্রথমবার প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানো চতুর্থ বয়স্কতম ফুটবলার৷

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইংল্যান্ডের এটি বৃহত্তম জয়৷ এর আগে কখনও বিশ্বকাপে পাঁচ গোল দিতে পারেনি তারা৷ গত চার দশকে বিশ্বকাপে আবির্ভাবেই প্রথম দু’ম্যাচে জোড়া গোল করা প্রথম ফুটবলার হলেন কেন৷ ১৯৭৪ সালে পোল্যান্ডের গ্রিজর্জ লাতো এমন কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন৷ সেবার গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তিনিই৷

১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের পর পর দু’টি ম্যাচে জোড়া গোল ও হ্যাটট্রিক করা প্রথম ফুটবলারে পরিণত হন কেন৷ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যাটট্রিক করা তৃতীয় ফুটবলার হলেন তিনি৷ এর আগে ১৯৬৬ সালে জিওফ হার্সট এবং ১৯৮৬ সালে গ্যারি লিনেকার এমন কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন৷

Advertisement
-----