নয়াদিল্লিঃ  বাড়তে চলেছে কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ডের (ইপিএফ) ন্যূনতম মাসিক পেনশন? নতুন বছরেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে মোদী সরকার। এই বিষয়ে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রকের আওতাধীন কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠনের (ইপিএফও) অছি পরিষদ। আর এই বৈঠক ঘিরেই তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। এই বৈঠকেই মাসিক পেনশন বাড়বে কিনা তা নিয়ে চূড়ান্ত সিন্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে লক্ষাধিক ইপিএফ পেনশন গ্রাহক উপকৃত হবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বিশেষ করে আগামী লোকসভা ভোটের আগে ইপিএফের ন্যূনতম মাসিক পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এর থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেও মরিয়া হয়েছে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি। ফলে খুব দ্রুতই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে খবর।

বাংলা এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক, এই মুহূর্তে দেশের যেসব সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যা ন্যূনতম ২০ জন, সেই সংস্থা-প্রতিষ্ঠানগুলি কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠনের অধীনে থাকে। আর সেইসব সংস্থার যে কর্মচারীদের মাসিক বেতনের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা, তাঁরা বাধ্যতামূলকভাবে কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা পান। ইপিএফের আওতাভুক্ত গ্রাহকেরা তাঁদের মূল বেতন (বেসিক স্যালারি) এবং মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) ১২ শতাংশ অর্থ ইপিএফ খাতে কন্ট্রিবিউট করেন। আর সেই কর্মচারীর হয়ে তাঁর সংস্থা কর্তৃপক্ষ ইপিএফ খাতে জমা দেয় আরও ১২ শতাংশ অর্থ।

তার মধ্যে ৩.৬৭ শতাংশ যায় আওতাধীন কর্মীর ইপিএফ খাতে এবং ৮.৩৩ শতাংশ জমা পড়ে তাঁর ইপিএফ পেনশন অ্যাকাউন্টে। কিন্তু পদোন্নতি বা অন্য কারণে কোনও ইপিএফ গ্রাহকের মাসিক বেতনের পরিমাণ ১৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে যাওয়ার পরেও তিনি যদি ওই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অধীনে থাকতে চান, তাহলে তাঁর পেনশন খাতে অর্থ জমা পড়ে ওই ১৫ হাজার টাকার উপর ভিত্তি করেই। এক্ষেত্রে তাঁর বর্ধিত বেতনের হিসেব ধরা হয় না। এবং যার ফলে একজন ইপিএফ গ্রাহকের ন্যূনতম মাসিক পেনশনের পরিমাণ তুলনায় কম হয়ে যায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত ইপিএফ পেনশনপ্রাপকদের নুন্যতম মাসিক পেনশনের পরিমাণ এক হাজার টাকা। নয়া এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পেনশনের পরিমাণ বেড়ে দু হাজার টাকা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। কোনও সিদ্ধান্ত এখনও শ্রমমন্ত্রক নিতে পারেনি এই বিষয়ে। তবে মনে করা হচ্ছে, বছর ঘুরলেই লোকসভা নির্বাচন। অবশ্যই তার আগে এই বিষয়ে কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিয়ে রীতিমত মাস্টারস্ট্রোক মারবে মোদী সরকার।

--
----
--