আদ্দিস আবাবা: প্রধানমন্ত্রী হাইলেমারিয়াম দেসালেনের আকস্মিক পদত্যাগের একদিনের মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হল ইথিওপিয়ায়৷ সরকারবিরোধী বিক্ষোভ থামাতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমে জারি করা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে৷

তিন বছর ধরে চলা বিক্ষোভে কয়েকশ লোক মারা গিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর৷ শুক্রবার থেকে জারি হওয়া নতুন এই জরুরি অবস্থার মেয়াদ কতদিন বিবৃতিতে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি৷ নাগরিকদের কি কি অধিকার বাতিল করা হয়েছে, তাও বিবৃতিতে জানানো হয়নি৷ দীর্ঘদিন ধরে চলা বিক্ষোভ থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারের ওপর চাপ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে।

সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভ ২০১৫ সালের নভেম্বরে ওরোমিয়া অঞ্চলে প্রথম শুরু হয়; কিছুদিন পর আমাহারা অঞ্চলও তাতে যোগ দেয়। এ এলাকা দুটিতেই ইথিওপিয়ার বৃহৎ দুই জাতিগোষ্ঠীর বাস। ১৯৯১ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকা বর্তমান সরকারের নেওয়া নানান পদক্ষেপে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে জাতিগোষ্ঠী দুটির সদস্যরা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এ বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইথিওপিয়ার জাতীয় সংবাদমাধ্যম ইবিসি জানায়, শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর জরুরি অবস্থার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আদ্দিস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, বৈঠকে জরুরি অবস্থার মেয়াদ ৩ মাস বা ৬ মাস করার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।

ইথিওপিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে টানা ১০ মাস জরুরি অবস্থা জারি থাকার পর গত বছরের জুলাই মাসে তা প্রত্যাহার করা হয়। ইথিওপিয়ায় বৃহত্তর রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের দাবিতে ২০১৫ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছে দেশটির ওরোমো ও আমহারা জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা। তারাই দেশটির মোট জনসংখ্যার ৬১ শতাংশ।

মানবাধিকার কর্মী ও ওরোমিয়া মিডিয়া নেটওয়ার্কের প্রধান জাওয়ার মোহাম্মেদ এই জরুরি অবস্থা ঘোষণাকে অপ্রয়োজনীয় ও অপরিণামদর্শী বলে অভিহিত করেছেন। ইথিওপিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক পর্যবেক্ষক ফিলিক্স হরনে জানান, গত জরুরি অবস্থার সময় ২০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। টুইট করে তিনি এই অবস্থার প্রতিবাদ করেছেন৷

২০১২ সাল থেকে ইথিওপিয়ার ক্ষমতায় থাকা হাইলে মারিয়াম বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন জোট ইথিওপিয়ান পিপলস রেভেলিউশনারি ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইপিআরডিএফ) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করেন৷ কারণ হিসেবে তিনি দেশের অস্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক সংকটকে উল্লেখ করেন।

তবে ইপিআরডিএফ ও দেশটির পার্লামেন্ট পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে নতুন কাউকে স্থলাভিষিক্ত না করা পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গিয়েছে৷ ক্ষমতাসীন জোট ইপিআরডিএফ ও তার নিজের দল সাউদার্ন ইথিওপিয়ান পিপলস ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে ইতোমধ্যে মেনে নিয়েছে।

----
--