আমাদের দাদাই পরের ‘ক্যাপ্টেন’, তরজায় মেতে কর্মীরা

সৌমিক কর্মকার, কলকাতা: দলের পশ্চিমবঙ্গ সংগঠনে বড়সড় রদবদল করতে চায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ একবারে রাজ্য সভাপতি পদে বদল এনেই সেই রদবদল শুরু করতে পারে তারা৷

এমন একটি সম্ভাবনার খবর সামনে আসতেই জল্পনা শুরু হয়েছিল বঙ্গ-বিজেপির অন্দরমহলে৷ কে হচ্ছেন দলের নেতা, তা নিয়ে তোলাপাড় শুরু হয়েছিল বিভিন্ন মহলে৷ kolkata24x7-এর দফতরেও অনেকে ফোন করে জানতে চেয়েছেন, বিজেপির পরবর্তী রাজ্য সভাপতির নাম৷

আরও পড়ুন: বাংলার পদ্মফুল কার হাতে উৎকণ্ঠায় কর্মীরা

এর পর সময় এগিয়ে গিয়েছে, কিন্তু কার হাতে বাংলা বিজেপির পদ্মফুল উঠবে, সেই নাম সামনে আসেনি৷ বরং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব গোটা বিষয়টি অস্বীকার করে গিয়েছে৷ সাংগঠনিক রদবদলের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে বারবার জানানো হয়েছে তাদের তরফে৷ কিন্তু তাতেও থামানো যায়নি আলোচনা৷ বরং তা উত্তরোত্তর বেড়েছে৷ প্রথমে কে হবেন সভাপতি, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল বিজেপির বিভিন্ন মহলে৷ কিন্তু পরে তরজা শুরু হয়েছে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের মধ্যে৷ বিভিন্ন নেতার অনুগামীদের মধ্যে৷ প্রত্যেকেই ভাবছেন, তাঁদের ‘দাদা’কেই এবার ক্যাপ্টেন করা হবে৷

আরও পড়ুন: আঁটঘাট বেঁধে বঙ্গ দখলের লক্ষ্যেই সেনাপতির নাম ঘোষণায় সাবধানী মোদী

কথা হচ্ছিল উত্তর ২৪ পরগনার এক কর্মীর সঙ্গে৷ তিনি কয়েক মাস আগেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন৷ নাম প্রকাশ না রাখার শর্তে তিনি বললেন, ‘‘মুকুলদাকেই এবার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে৷’’ এই তো মুকুল রায় বিজেপিতে এলেন৷ এখনও তাঁকে কোনও পদ দেওয়া হয়নি৷ কয়েকদিন আগে তিনি পঞ্চায়েতের দায়িত্ব পেয়েছেন৷ এর মধ্যেই একেবারে রাজ্য সংগঠনের মাথায় পৌঁছে যাবেন তিনি৷ এই কথা বলতেই তিনি পালটা ব্যাখ্যা দিলেন৷ বললেন, ‘‘সাংগঠনিক দক্ষতাই বিজেপিতে শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে দাদাকে৷’’

আরও পড়ুন: ক্ষমতায় এলে দেখে নেব, মূর্তি বিতর্কে হুমকি বিজেপি নেতার

পঞ্চায়েত ভোটের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে মুকুল রায়ের সঙ্গে দায়িত্ব পেয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য৷ তাঁকে অনেকে রাজ্যে বিজেপির পরবর্তী সভাপতি হিসেবে ভাবছেন৷ কারণ, ভরা তৃণমূলের বাজারে তিনি বসিরহাট থেকে জিতে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন৷ পরেরবার ভোট কাটাকুটির খেলায় হেরে গেলেও, তিনি সাংগঠনিকভাবে যথেষ্ট দক্ষ বলে দলের এক কার্যকর্তা দাবি করলেন৷ তাই ওই কার্যকর্তার বক্তব্য, ‘‘শমীকদা রাজ্য সভাপতি হিসেবে মোটেই বেমানান নন৷’’ যদিও শমীক ভট্টাচার্য কয়েকদিন আগে kolkata24x7-কে জানিয়েছেন, তিনি পদের জন্য বিজেপি করেন না৷ দল যা দায়িত্ব দেবে, তিনি সেটাই পালন করবেন৷

আরও পড়ুন: বিজেপিতে ক্রমশ ‘ব্রাত্য’ হচ্ছেন মুকুল রায়

অন্যদিকে উত্তর কলকাতার এক কার্যকর্তা, যাঁকে কেশব ভবনের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়, তিনি আবার এই সমস্ত সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন৷ তাঁর ব্যাখ্যা, দিলীপ ঘোষকে যেভাবে সরাসরি এনে রাজ্য সভাপতি পদে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ এবারও একই ফর্মুলা ব্যবহার করা হবে৷ আরএসএস ঘনিষ্ঠ কোনও নেতাকে বসিয়ে দেওয়া হবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে৷ কিন্তু তাঁরা কারা? ওই নেতার দাবি, এক্ষেত্রে বিবেচনায় রয়েছে দু’টি নাম৷ সেই দু’টি নামের মধ্যে একটি বিধান কর৷ আর দ্বিতীয় নামটি আশিস সরকার৷

ওই কার্যকর্তার দাবি, দু’জনেই বিভিন্ন সময় আরএসএস ঘনিষ্ঠ৷ দেশের একাধিক জায়গায় বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন৷ দু’জনেই বাঙালি৷ তাই বাংলার জন্য তাঁরা গ্রহণযোগ্য হবেন বলেই মনে করছেন দিল্লির নেতারা৷

আরও পড়ুন: মমতার দল ‘আদর্শচ্যুত’, তৃণমূল নেতার মুখে মুকুলের সুর

Advertisement
----
-----