অধীর চৌধুরী আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না, দাবি হুমায়ুনের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গত লোকসভা নির্বাচনে গোটা বাংলায় রেকর্ড ভোটে জিতেছিলেন তিনি৷ দেশজুড়ে পদ্মফুল আর বাংলায় ঘাসফুলের ঝড়ের মধ্যেও সাড়ে তিন লাখের মার্জিনে তাঁর জয় রাজ্যে তো বটেই জাতীয় রাজনীতিতেও চর্চার বিষয় হয়েছিল৷

২০১৯-এর নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের রবিনহুড অধীর চৌধুরী সেই জায়গা ধরে রাখতে পারবেন না বলে মনে করছেন তাঁরই ঘনিষ্ঠ নেতা হুমায়ুন কবীর৷ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির ঝাণ্ডা হাতে নেওয়ার আগে হুমায়ুন কবীরের বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘‘আগামী লোকসভা নির্বাচনে অধীর চৌধুরীর পরাজয়ের বড় সম্ভাবনা রয়েছে৷’’

বিজেপিতে যাচ্ছেন বলে কয়েকদিন আগেই জানিয়েছেন অধীর চৌধুরীর ডানহাত বলে পরিচিত হুমায়ুন কবীর৷ এখনও বিজেপির সঙ্গে যেমন তাঁর কোনও সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি তেমনই কংগ্রেসের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক পাকাপাকিভাবে ঘোচেনি৷ এই মাঝামাঝি অবস্থানে দাঁড়িয়েই হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য, ‘‘২০১৬ সালে ১৪টি আসন জিতেছিল কংগ্রেস৷ তার মধ্যে চারজনই এখন তৃণমূল কংগ্রসে৷ বাকি ১০ জনের মধ্যে পাঁচজনও তৃণমূলে যাবে বলে খবর আছে৷ বাকি পাঁচজন বিধায়ককে নিয়ে অধীর চৌধুরী নিজের লোকসভা কেন্দ্র মুর্শিদাবাদ ধরে রাখতে পারবেন না বলে আমি মনে করি৷’’

কলকাতা 24×7-কে ব্যাখা দিয়ে হুমায়ুন বললেন, এই পাঁচ বিধায়কের মধ্যে একজন আছেন জঙ্গিপুর লোকসভার অন্তর্গত লালগোলা বিধানসভা কেন্দ্রের আবু হেনা৷ আরও একজন জঙ্গিপুর লোকসভারই সুতি বিধানসভা কেন্দ্রের হুমায়ুন রেজা৷ বাকি তিনজন শুধু বহরমপুর লোকসভার মধ্যে পড়ছেন৷ এঁরা হলেন, ভরতপুর বিধানসভার কমলেশ চট্টোপাধ্যায়, বেলডাঙার সফিউজ্জামান ও বহরমপুরের মনোজ চক্রবর্তী৷

কিন্তু বহরমপুরেও দল দুর্বল হয়ে পড়েছে৷ বহরমপুর পুরবোর্ড কংগ্রেসের থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে গিয়েছে৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনে ছটি গ্রাম পঞ্চায়েতে কংগ্রেস মনোনয়ন দিতে পারেনি৷ এই অবস্থায়, হুমায়ুন কবিরের মতে, আজকের যা পরিস্থিতি তাতে অধীর চৌধুরীর পরাজয়ের সম্ভাবনা যথেষ্ট৷ আগামী দিনে এই প্রতিকূল পরিস্থিতি উনি কতটা সামলে উঠতে পারবেন সে বিষয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে৷

রেজিনগরের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ‘‘ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে যাঁরা প্রার্থী হয়েছিলেন তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের দাপটে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি৷ অধীর চৌধুরী চারবারের সংসদ সদস্য, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি৷ তিনি ভোট করাতে পারলেন না৷ এই ক্ষোভ তো প্রার্থীদের রয়েছে৷ এর প্রভাবও লোকসভায় পড়বে৷’’

অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, ‘‘এটা ঠিকই চার বছরে পরিস্থিতি বদলেছে৷ তবে এখনও মুর্শিদাবাদের সাধারণ মানুষই অধীর চৌধুরীর ভরসা৷’’

----
-----