প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নির্দলে, ছেলে বিজেপির হয়ে ভোট লড়াইয়ে

আগরতলা: কেউ কম যান না৷ দুজনেই হেভিওয়েট প্রার্থী৷ আপাতত ছেলে বিজেপি বাবা নির্দল৷ একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অন্যজন অন্যতম বিরোধী নেতা৷ ভোট রাজনীতিতে এও এক নয়া সমীকরণ৷

ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনের আসরে ফের প্রার্থী হচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমীর রঞ্জন বর্মন৷ জানা গিয়েছে, তিনি বিশালগড় কেন্দ্র থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন৷ অন্যদিকে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতার ছেলে সুদীপ রায়বর্মণ লড়ছেন আগরতলা কেন্দ্র থেকে৷ তিনি বিজেপি প্রার্থী৷ ফলে আসন্ন বিধানসভা ভোটে ফের বাবা ও ছেলে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীকে দেখা যেতে পারে রাজনীতির লড়াইয়ে৷

যদিও সমীরবাবু নির্বাচনে দাঁড়ানো নিয়ে মুখ খুলতে চাননি৷ তাঁর অনুগামীরাই এসব মনে করছেন৷ এদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ধৈর্য ধরো৷ কী খেল দেখাবেন সমীরবাবু তাই নিয়ে চলছে জোর চর্চা৷

- Advertisement -

বিশালগড় কেন্দ্র থেকেই সমীরবাবু ১৯৭২, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৩ সালে জয়ী হয়েছিলেন৷ ১৯৯২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৯৩ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত ছিলের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী৷ আর ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ছিলের বিরোধী দলনেতা৷ এমনই হেভিওয়েটে কংগ্রেস প্রার্থী ছেলের মতোই দলত্যাগ করেছিলেন৷ তৃণমূল শিবিরে নাম লেখানোর পর পরে তাঁকে বহিষ্কার করে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস৷ তারপর সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরেই ছিলেন সমীরবাবু৷ মনে করা হচ্ছিল তিনি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিয়েছেন৷

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রী কখনও আয়কর রিটার্ন ফাইল করেননি

গত বিধানসভা নির্বাচনে বিশালগড় কেন্দ্রে সিপিএমের ভানুলাল সাহার কাছে ১০২৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন সমীররঞ্জন বর্মন৷ সেই কেন্দ্র থেকেই সমীরবাবু ফের লড়তে চাইছেন এই খবরে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷ ফলে কেন্দ্রটি ঘিরে সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস ও নির্দলের মধ্যে চতুর্মুখী লড়াই হতে চলেছে৷ বিশালগড় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি৷ উপরন্তু সমীরবাবুর নিজস্ব ভোট ব্যাংক আছে৷

এদিকে বাবা আচমকা নির্বাচনে লড়তে চাইছেন এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি সুদীপ রায়বর্মনের তরফে৷ তিনি রাজ্যে বিজেপির প্রধান মুখ, তথা অন্যতম বিরোধী নেতা৷ পশ্চিমবঙ্গে গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন সুদীপবাবু ও তাঁর পাঁচ অনুগামী৷ তাঁরা দলত্যাগ করায় ত্রিপুরা বিধানসভায় কংগ্রেস বিরোধী আসনের মর্যাদা হারায়৷ তৃণমূল কংগ্রেস উঠে আসে শক্ত বিরোধীপক্ষ হয়ে৷ এরপর দলত্যাগ করে সুদীপবাবু ও তাঁর অনুগামীরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন৷ ফলে তৃণমূল হারিয়েছে শক্তি৷

Advertisement ---
-----