জ্যোতিবাবুর বদলে প্রধানমন্ত্রী দেবেগৌড়া এবার মমতার বিগ্রেড আইকন

দেবযানী সরকার, কলকাতা: দলের মত না পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসা হয়নি জ্যোতি বসুর৷ সেবারেই কপাল খুলে গিয়েছিল জেডিএস প্রধান এইচ ডি দেবেগৌড়ার৷ সেই প্রথম বাংলা সুযোগ হারিয়েছিল একজন বাঙালি প্রধানমন্ত্রীকে পাওয়ার৷ আর সেই দেবেগৌড়া এবার বাংলায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন করতে হাজির হয়েছেন৷ ঐতিহাসিক সমাপতন কি এটাই? প্রশ্নটা থাকবে৷

লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলিকে এককাট্টা করার উদ্যোগের অন্যতম কারিগর তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডের মঞ্চে তারই প্রতিফলন ঘটতে চলেছে৷ বিরোধী দলগুলির প্রধানদের মধ্যে শুক্রবার অনেকেই কলকাতায় চলে এসেছেন৷ সুপার ভিভিআইপি অর্থাৎ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা জেডিএসের সর্বময় প্রধান এইচ ডি দেবেগৌড়াও এসে গিয়েছেন৷ তিনি শহরে পা রাখার পরই অনেকের স্মৃতিতেই ফিরে এল ১৯৯৬ সালের ঘটনা৷

ফাইল ছবি

 

- Advertisement -

নব্বইয়ের দশকে কংগ্রেসের একক আধিপত্য শেষ হয়৷ ১৯৯০ সালের পর থেকে যখন আঞ্চলিক দলগুলোর সহযোগিতায় সরকার গঠন শুরু হয় তখন সেই প্রক্রিয়ার বারবারই বড় ভূমিকা রেখেছে পশ্চিমবঙ্গ।১৯৯৬ সালে তৃতীয় ফ্রন্টের সরকার গঠনের সময় রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাতে সায় না দেওয়ায় কুর্সির দোরগোড়ায় পৌঁছেও ফিরে এসেছিলেন জ্যোতিবাবু৷ তার পরেই কর্ণাটকের দেবেগৌড়া প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।কিন্তু সেই সরকার এক বছরও টেকেনি৷

প্রবীণ ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেবেগৌড়া এখনও বিজেপি বিরোধী শিবিরের অন্যতম মুখ৷ সম্প্রতি তাঁর রাজ্য কর্ণাটক বিধানসভায় কংগ্রেস একক শক্তিতে সরকার গড়ার ক্ষমতা হারায়৷ তারপরেই দেবেগৌড়ার সমর্থন চান কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ জোট করেই ক্ষমতায় ফিরে যায় কংগ্রেস৷ মুখ্যমন্ত্রী হন দেবেগৌড়া পুত্র কুমারস্বামী৷ আর একক বৃহত্তম দল হয়েও ক্ষমতার বাইরে থেকে যায় বিজেপি৷

অশীতিপর দেবেগৌড়া সম্প্রতি জানিয়েছেন, মমতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই৷ সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘মমতাকে যদি প্রধানমন্ত্রী মুখ হিসেবে তুলে ধরা হয় তবে সেটা খুবই ভালো। ইন্দিরা গান্ধী ১৭ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। সব সময় আমরা (পুরুষরা) কেন প্রধানমন্ত্রী হব? মমতা বা মায়াবতী প্রধানমন্ত্রী হতেই পারেন।’