ঢাকা: পাকিস্তানি সেনার হয়ে পূর্বপাকিস্তানে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ৷ আবার বাংলাদেশ তৈরি হওয়ার পর নব্বইয়ের দশকে হন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান৷ এমনই প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান মহ.ওয়াহিদুল হককে গ্রেফতার করা হল মঙ্গলবার৷ যুদ্ধ অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার হবে৷ মঙ্গলবার দুপুরে গুলশনের বারিধারার বাড়ি থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) প্রাক্তন ডিজি ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে পাক সেনা ছাউনি রংপুর ক্যান্টনমেন্টে অন্তত ৪০০ জনকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ রয়েছে৷

রংপুর ক্যান্টনমেন্ট গণহত্যা:
১৯৭১ সালের ২৮ মার্চের দিন৷ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রংপুর ক্যান্টনমেন্টে শতাধিক মানুষকে গুলি করে খুন করা হয়৷ মেশিনগানের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল নিরীহরা৷ এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত ওয়াহিদুল হক৷ যুদ্ধ অপরাধ সংক্রান্ত তদন্তে নেমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে৷

পাক সেনা থেকে বাংলাদেশের গোয়েন্দা প্রধান:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ওয়াহিদুল হক ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য। অভিযোগ, নিরীহদের নির্বিচারে খুন করার সঙ্গে জড়িত ওয়াহিদুল হক৷ এছাড়া রংপুর ক্যান্টনমেন্টে গণহত্যাতেও তার নাম জড়িত৷ বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেতেই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন৷ পরে ১৯৭৪ সালের ফেরেন৷ এবং পুলিশে যোগ দেন৷ দেন৷ নব্বইয়ের দশকে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায়(এনএসআই) দায়িত্ব পান৷ পরে পাসপোর্ট দফতরের মহাপরিচালক হন এই প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান৷

জানা গিয়েছে, ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত রংপুর ক্যান্টনমেন্টে ছিল ওয়াহিদুল হক৷ ওই বছরই পশ্চিম পাকিস্তানে তার বদলি হয়। এদিকে মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনার মদতে চূড়ান্ত জয় পায় মুক্তিবাহিনি৷ পরিস্থিতি দেখে আর ফেরেনি ওয়াহিদুল হক৷ শেষপর্যন্ত ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসে এই বিতর্কিত সেনা অফিসার৷

জিয়াউর রহমান আমলেই উন্নতি:
১৯৭৫ সালে খুন করা হয় বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানকে৷ তারপরে ক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমান৷ তার আমলেই ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেয় ওয়াহিদুল হক৷ জিয়াউর রহমানের সময়ে ১৯৭৭ সালে কুমিল্লার পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ওয়াহিদুল। পরের বছর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ১৯৮২ সালে নোয়াখালী জেলায় পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালন করে৷ এরপর বিশাল পদন্নোতি৷

এক ধাক্কায় পুলিশের শীর্ষ কর্তা থেকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হয় ওয়াহিদুল হক৷ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এনএসআইর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন পরে গোয়েন্দা সংস্থার ডিজি পর্যায়ে পদন্নোতি৷ সর্বশেষ ১৯৯৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পাসপোর্ট বিভাগের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এই বিতর্কিত গোয়েন্দা প্রধান। ২০০৫ সাল পর্যন্ত পুলিশের অতিরিক্ত আইজি হিসেবেও তাকে দেখা গিয়েছে৷

----
--