EXCLUSIVE: তিন বছর পর ঘুম ভাঙল মমতার! বন্ধ হবে কি ওভারলোডিং

সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা:  চিঠি দেওয়া হয়েছিল ২০১৫ সালে৷ এই চিঠির প্রতিটি শব্দে ধরা রয়েছে দুর্ঘটনার ইঙ্গিত ও বেআইনিভাবে পণ্য পরিবহণের জেরে সেতু ভেঙে পড়ার মতো আশঙ্কা৷ তিনবছর পর যখন কলকাতায় মাঝের হাট সেতু ভেঙেছে, শিলিগুড়ির কাছে সেতু বিপর্যয় ঘটল আর বহু সেতু প্রবল ঝুঁকি নিয়ে দুলছে, তখনই সরকারের ঘুম ভাঙল৷

অবশেষে মাঝেরহাটে সেতু ভেঙে পড়ার পর ওভারলোডিং নিয়ে নড়েচড়ে বসলো রাজ্য সরকার৷ বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,‘‘যে সব গাড়ি ন’টন পণ্য বহন করতে পারে,সে সব গাড়িতে ১৫ টন পণ্য বহন করা হচ্ছে৷ এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে৷ কুড়ি বা তার বেশী চাকার গাড়ি ব্রিজের উপর দিয়ে যাতায়াতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷’’

এদিকে ফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রাক অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি প্রবীর চট্টোপাধ্যায় জানালেন,ট্রাকে ওভারলোডিং বন্ধসহ একাধিক সমস্যার কথা জানিয়ে ২০১৫ সালের ১৭ই জুলাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা একটি চিঠি দিয়েছিলাম৷ শেষ পর্যন্ত তিন বছর পর মুখ্যমন্ত্রী ওভারলোডিং নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ চিঠিতে অভিযোগ করে লেখা হয়েছিল,ট্রাকের উপর পুলিশের ও ডাকবাবুর জুলুম দিনে দিনে বাড়ছে, আমরা ঠিকমত ট্রাক চালাতে পাচ্ছি না৷ পুলিশ ও এম.ভি.আই প্রতিটি থানায় ওভারলোডিং মাসিক কার্ড করার জন্য ওভারলোডিং বন্ধ হয়নি৷ পুলিশের চাহিদামত টাকা না দেওয়া হয় তাহলে পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে কেস দিয়ে জরিমানা আদায় করে৷

- Advertisement -

শুধু কী তাই, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে উপেক্ষা করে এই রাজ্যের পুলিশ ও মোটর ভেহিকলস ডিপার্টমেন্ট ওভারলোডিং বন্ধ করতে দেয়নি বলে অভিযোগ৷

যদিও পুলিশের দাবি, ওভারলোডিংয়ের সমস্যা দূর করতে নিয়মিত রাস্তায় তল্লাশি চালানো হয়। এমনকি জরিমানাও করা হয়। গাড়ি ওভারলোডিং সন্দেহ হলে তাকে আটক করে ওজন মাপক কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে গাড়ির ওজন করাতে হয়৷ কাগজপত্র পরীক্ষা করে তবেই জরিমানা করতে হয়৷

কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে অন্তত ২০টি সেতু৷ এমনই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তবে ট্রাক সংগঠনের একাংশের দাবি, রাজ্য জুড়ে কয়েকহাজার ব্রিজ রয়েছে৷ এদের অধিকাংশ ব্রিজের অবস্থা খারাপ৷ তার প্রধান কারণ ওভারলোডিং গাড়ি ব্রিজের উপর দিয়ে যাতায়াত৷ এই রাজ্যে প্রায় চার লক্ষ ট্রাক চলাচল করছে৷ ট্রাক মালিকের একাংশের দাবি,প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে ট্রাকে ওভারলোডিং পণ্য বহন করতে হচ্ছে৷ পণ্য বহনের জন্য যারা ট্রাক ভাড়া নিতে আসেন তাদেরকে কোনও একজন মালিকের গাড়ি ওভারলোডিংয়ে রাজি না হলে অন্য মালিকের গাড়ি ভাড়া নেন৷

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কড়া বার্তার পর কত দিনে রাজ্যে গাড়িতে ওভারলোডিং বন্ধ হয়৷ আর যদি প্রশাসন ওভারলোডিং বন্ধ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে ঝুঁকি নিয়েই রাজ্যবাসীকে ব্রিজের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হবে৷ ব্রিজ বিপর্যয় আবার মৃত্যুও হতে পারে৷ আশঙ্কা থাকছেই৷

Advertisement ---
---
-----