শাড়ির ক্যানভাসে সৃষ্টির সাতরঙ

কলকাতা: বারোহাতে এবার নেমে এসেছে সাতরঙা ক্যানভাস। কোথাও আঁচলে, কুঁচিতে উঁকি মারছে কবিগুরুর কবিতা। কোথাও আবার পাবলো পিকাসোর জ্যামিতিক গঠন পেয়েছে নতুন আকার। বাঙলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এভাবেই শাড়ির মধ্যে ভাবনার রং ফুটিয়ে তুলেছেন ডিজাইনার উৎপল ঘোষ। সম্প্রতি বিড়লা অ্যাকাডেমি অফ আর্ট এন্ড কালচার হলে হয়ে গেল তাঁরই প্রদর্শনী। যেখানে উপস্থিত ছিলেন মমতা শঙ্কর, শ্রীকান্ত আচার্য, খেয়ালি দস্তিদারের মত বিশিষ্ট অতিথিরা।

চোখ আটকে আছে লাল রঙা সিল্কে তো ওদিকে নীলকন্ঠী বালুচরি হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আর এই মাঝে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ সাদা-কালো শাড়িটার দিকে এগিয়ে গেলেন মমতা শঙ্কর বললেন “বেশ স্মার্ট লাগবে শাড়িটি পড়লে”। তবে লাল রঙের প্রতি মেয়েদের যে আলাদা একটা আকর্ষণ আছে তা এই অভিনেত্রীও এরাতে পারেনি। জানালেন, “ লাল শাড়িগুলি দেখে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি”। তাই উৎপলের এই প্রদর্শনীতে এসে উচ্ছ্বসিত মমতা ভরিয়ে দিলেন তাঁর প্রশংসায়। বললেন, “ছবির প্রদর্শনী যেমন দেখতে ইচ্ছা করে আমি ঠিক তেমনই অনুভূতি হচ্ছে এখনে এসে। খুব সুন্দর কাজ করেছে উৎপল। রঙের সঙ্গে ডিজাইনিংয়ের যে মিল সে করেছে তা এককথায় অনবদ্য”।FASION-2

তবে শুধু হ্যাংগার নয় উৎপলের শাড়ি এদিন উঠেছে মডেলদের গায়েও। মার্জার সরণী বেয়ে সাতরঙা শাড়ি পড়ে একে একে হাঁটলেন মডেলরা। তাই ঝুলে থাকে অনেক শাড়ির মাঝে কোনটা ঠিক বউকে মানাবে তা বুঝতে না পারলেও মডেলদের গায়ে দেখে সেই সংশয় নিমেষেই দূর হল শ্রীকান্তের। বিবাহিত জীবনে এখনও কোনদিন বউয়ের জন্য শাড়ি কিনে আনেননি তিনি। কিন্তু উৎপলের এই প্রদর্শনীতে এসে জানালেন “ আজ বউয়ের জন্য প্রথম শাড়ি কিনতে ইচ্ছা করছে”।

- Advertisement -

কিন্তু নিজের শাড়ি সম্পর্কে কি বলছেন উৎপল নিজে। তাঁর কথায়, “আমার এবারের কালেকশন হ্যান্ডপেন্টিং, হ্যান্ডউইলিং ও ব্লকপেন্টিংয়ের উপর বেস করে। আমার উদ্দেশ্য বাঙলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখা কিন্তু একটু অন্যরকম ভাবে। সেখানে রঙ এবং প্রিন্টিংয়ের এমন মেল থাকবে না নজর কাড়বে সবার। আর সেই সঙ্গে অবশ্যই ফ্যাশনবেল”।

তবে সরস্বতী পূজা আর অষ্টমীতে আটকে গিয়েছে বাঙালির শাড়ি পড়া। আজ কালকার মেয়েরা শাড়ি পড়তে চায় না। তাই শুধু এইটুকু বলার, যে মেয়েরা শাড়ি পছন্দ করে না তাঁদের একবার উৎপলের কালেকশন দেখুন। কে জানে আপনিও পড়ে যেতে পারেন শাড়ির প্রেমে।

                                                                                                                                           মানসি সাহা

Advertisement
---

Comments are closed.