অভিষেক কোলে: এখনও টেস্ট ক্যাপ হাতে পাননি৷ তবে দেশের জার্সিতে তিনটি ওয়ান ডে ও দু’টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন৷ একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে এখনও উইকেটের ঝুলি শূন্য হলেও টি-২০ ম্যাচ দু’টিতে ফিরিয়ে দিয়েছেন সাকুল্যে বিপক্ষের তিনজন ব্যাটসম্যানকে৷ বেশ কিছুদিন ধরেই জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছেন পঞ্জাবের ডানহাতি পেসার সিদ্ধার্থ কউল৷ তবে কোহলির সংসারে মিডিয়াম পেসারদের ট্র্যাফিক জ্যামে কিছুতেই পায়ের তলার জমি শক্ত করতে পারছিলেন না তিনি৷ বরং শামি, ভুবনেশ্বর, বুমরাহদের ব্যাকআপ হিসাবে রিজার্ভ লাইনআপে অপেক্ষা করতে হচ্ছিল সিদ্ধার্থকে৷ অবশেষে জাতীয় নির্বাচকরা বুমরাহকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মহম্মদ সিরাদের সঙ্গে অতিরিক্ত পেসার হিসাবে আরও একবার শিকে ছেঁড়ে তাঁর৷ নিউজিল্যান্ড সফরের টি-২০ দলে জায়গা পেয়ে যান কউল৷

আরও পড়ুন: নিজেদের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গের লক্ষ্যে বাংলা

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজের পরেই টিম ইন্ডিয়া উড়ে যাবে কিউয়ি সফরে৷ সেখানে কোহলিদের পাঁচ ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজের পর জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেবেন সিদ্ধার্থ৷ কোহলির সংসারে আরও একবার মাথা গলানোর আগে কউল জানালেন তাঁর পরিকল্পনার কথা৷ ব্রেট লি ও জাহির খানের আদর্শে দীক্ষিত সিদ্ধার্থ স্বীকার করে নেন, আইপিএল খেলাই তাঁকে বোলার হিসাবে পরিণত করে তুলেছে এবং এও বলেন যে, আইপিএলের অভিজ্ঞতাই তাকে আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভালো খেলতে সাহায্য করবে৷

সিদ্ধার্থের কথায়, ‘আইপিএলের অভিজ্ঞতা আমাকে নিউজিল্যান্ড সফরে অনেক সাহায্য করবে৷ আইপিএলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের মুখোমুখি হতে হয়৷ আলাদা আলাদা পিচে বল করতে হয়৷ যখন আপনি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন, তখন একই রকম পরিস্থিতি থাকে৷ বিপক্ষ ক্রিকেটারদের শক্তি-দূর্বলতা আগে থেকে জানা থাকে৷ তাদের আগে বল করার অভিজ্ঞতা থাকলে কাজ সহজ হয়ে যায়৷ তাছাড়া আইপিএলে একটা ম্যাচে ভালো বল করলে আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়৷ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের বল করলে নিজের শক্তি-দূর্বলতা যাচাই হয়ে যায়৷ তখন নিজের শক্তিগুলোর দিকে নজর দেওয়া হয়৷ ওখানে অনেক বড় বড় কোচ থাকেন৷ যেমন মুরলিধরণ আমার কোচ ছিলেন৷  দারুণ সব ক্রিকেটাররা থাকে, যাদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাওয়া যায়৷  ভুবি, এতদিন ধরে ভারতীয় দলে খেলছে, ওর সঙ্গে খেলার সময় অনেক কিছু শিখেছি৷ সেগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করব৷’

আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়াকে বিরাট অভিনন্দন ইমরানের

তবে নিউজিল্যান্ড সফরে আলাদা কোনও লক্ষ্য নিয়ে উড়ে যাবেন না তিনি৷ সিদ্ধার্থ পরিস্কার জানালেন যে, ক্রিকেটের প্রাথমিক ব্যাকরণ মেনে বল করাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য৷ পাশাপাশি এটাও জানাতে ভোলেননি যে, ভারতীয়-এ দলের হয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে খেলে আসার বিষয়টাও তাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে৷

সিদ্ধার্থ বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোনও লক্ষ্য নেই৷ প্রাথমিক ব্যকরণ মেনে বল করতে চাই, যেটা এতদিন করে আসছি৷ প্রস্তুতি ভালো চলছে৷ গোটা মরশুমে ভালো বল করেছি৷ ইন্ডিয়া এ দলের হয়েও ভালো পারফরম্যান্স করেছি৷ রঞ্জি ট্রফিতে এসেও ভালো বল করছি৷তবে এমনটা নয় যে আলাদা কিছু করার চেষ্টা করছি৷ ইন্ডিয়া-এ দলের হয়ে নিউজিল্যান্ডে খেলে আসাটা আমাকে অবশই সাহায্য করবে৷ আগে কোথাও খেলে থাকলে পরে একটা তার লাভ পাওয়া যায়৷ ওখানকার পিচ কেমন, ওখানে কতটা হাওয়া চলে, ওখানকার পরিবেশ কেমন এসব বিষয়ে একটা ধারণা থাকে৷ তবে আলাদা মাঠে খেলা হলে ওখানে গিয়ে মানিয়ে নিতে হবে৷’

আরও পড়ুন: বিশ্রাম দেওয়া হল টিম ইন্ডিয়ার তারকা পেসারকে

নিউজিল্যান্ডের পরিবেশে পেসাররা সাহায্য পেলেও টি-২০ ক্রিকেটে পিচ থেকে তেমন কোনও হেল্প পাবেন বলে আশা করছেন না কউল৷ তাঁর কথায়, ‘টেস্টে তফাৎ দেখা গেলেও আমার মতে টি-২০ ও ওয়ান ডে ক্রিকেটে সব পিচই একই রকম হয়ে গিয়েছে৷ উপমহাদের বাইরেও পাটা পিচ পাওয়া যায়৷ টি-২০’তে বোলারদের সাহায্য করা পিচ সচরাচর পাওয়া যায় না৷ ব্যাটসম্যানদের জন্যই সাধারণত পিচ বানানো হয়৷ তবে বোলারের কাছে স্কিল থাকলে সব পিচেই ভালো বল করা যায়৷’

সবে মাত্র আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শুরু করলেও সিদ্ধার্থ ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন যে, দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখছেন তিনিও৷  টিম ইন্ডিয়ার নবাগত পেসার বলেন, ‘বিশ্বকাপের কথা অবশ্যই মাথায় থাকে৷ যে কোনও তরুণ ক্রিকেটারই দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে চায়৷ আপাতত আমি বিশ্বকাপের দিকে নজর রেখে মাঠে নামতে চাই না৷ যে’কটা ম্যাচ মাঠে নামার সুযোগ পাব, সেগুলোতে ভালো বল করার চেষ্ট করব৷ বাকিটা নির্বাচকদের হাতে৷’

--
----
--