কিছু করে দেখানোর ইচ্ছে, আর মনে অদম্য জেদ থাকলে যে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়৷ সেটা মডেল-অভিনেত্রী ডিম্পল পাল-এর কেরিয়ারের দিকে তাকালেই বোঝা সম্ভব৷ আর দু’মাস পরেই মুক্তি পাবে পরিচালক ইপ্সিতা শীলের ‘প্রাইম টাইম’৷ সেখানে মুখ্য চরিত্র পাওলি দামের সঙ্গেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাবে এই নবাগতা অভিনেত্রীকে৷ বর্ধমানের মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে ডিম্পল কীভাবে একদিন হঠাৎই পালিয়ে কলকাতায় চলে এসেছিলেন৷ গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রিতে কীভাবেই বা পা রাখলেন, তাঁর সবকিছুই জানাল kolkata24x7

PC: Sourav Roy
PC: Sujoy Roy

Kolkata24x7: Hi! ডিম্পল, কেমন আছ? তুমি এসপ্তাহের ‘ক্যাম্পাস ফেস অফ দ্য উইক’৷ ‘প্রাইম টাইম’ ছবিতে তুমি গুরুত্বপূ্র্ণ ভূমিকায় অভিনয় করছ৷ ছবি সম্পর্কে তো অবশ্যই জানব৷ কিন্তু তার আগে জানাও কীভাবে তুমি এই টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখলে?

Advertisement

ডিম্পল: সবার আগে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে এসপ্তাহের ‘ক্যাম্পাস ফেস অফ দ্য উইক’ বাছাইয়ের জন্য৷ আমি একেবারেই সাধারণ ঘরের মেয়ে৷ কলেজে পড়ার সময়ে বারাসতে ‘তনিশ্ক’ নামে একটি ডান্স গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম৷ আমার ভারতনাট্যমে মাস্টার ডিগ্রি থাকলেও এই গ্রুপে মূলত ওয়েস্টার্ন ডান্সই হত৷ আমার নাচ দেখেই গ্রুপের যিনি প্রধান, তিনি আমায় দলে নিয়ে নিয়েছিলেন৷ বাবা-মা-কেও জানিয়েছিলেন, কোনও চিন্তা না করতে৷ আমার যা ট্যালেন্ট রয়েছে, তাতে নাকি আমি অনেক দূর যাব৷ ওরা আমাকে ওদের সঙ্গে শো করতে নিয়ে যাবে৷ এবং এর জন্য কোনও খরচও লাগবে না৷

গ্রুপে থাকাকালীন ওরা আমার একটা পোর্টফোলিও করে দিয়েছিল৷ আমার পরিবারের অবস্থা তখন সেরকম ভালো কিছু ছিল না৷ তাই ভালো পোর্টফোলিও বানানোর মতো আর্থিক অবস্থাও আমার ছিল না৷ কিন্তু যা ছবি ছিল, তা দিয়েই আমি বেশ কিছু কাজ পেয়েছিলাম৷

dimple4
PC: Srimoyee Biswas

Kolkata24x7: গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রিতে আসার ক্ষেত্রে আপনি পরিবারের সাপোর্ট কতোটা পেয়েছিলেন? কোনওদিন কী ভেবেছিলেন যে ফিল্মে অভিনয় করবেন?

ডিম্পল: আমি যখন প্রথম মডেলিং-এর অ্যাসাইনমেন্টটা পাই৷ তখন আমার পরিবারের একেবারেই ইচ্ছে ছিল না যে আমি এই পেশায় আসি৷ কারণ পড়াশুনা আর নাচটাই ছিল তাঁদের প্রথম পছন্দ৷ কিন্তু আমার অভিনয় বা মডেলিং করার ইচ্ছেটা হঠাৎ করে জাগেনি৷ ছোটবেলার থেকেই ইচ্ছে ছিল এই গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার৷ তাই আমি কোনও কিছু না ভেবে বর্ধমান থেকে একপ্রকার পালিয়েই চলে আসি কলকাতায়৷ এখানে আমি সেভাবে কাউকে চিনতাম না৷ একজন চেনা দাদা ছিলেন প্রডাকশন ম্যানেজার৷ তিনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন শুরুতে৷ বাড়িতে নিজের পরিবারের সঙ্গে রাখা থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া সবকিছুই দিয়েছিলেন৷ এরপর আমি অবশ্য একটা পিজি ভাড়া নি৷ সেসময় কিছু বাচ্চাদের নাচও শেখাতাম৷ সেখান থেকে খুব সামান্য টাকা এলেও বাড়িভাড়া দেওয়ার মতো টাকাটা উঠে আসত৷

Kolkata24x7: আপনার ডেবিউ ছবি ‘প্রাইম টাইম’ সম্পর্কে কিছু বলুন৷ এখানে আপনার চরিত্রটা কী? পাওলি-ইন্দ্রনীলের মতো হেভিওয়েট অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

ডিম্পল: আমার প্রথম ছবি আসলে ‘ক্ষমাপ্রার্থী’৷ কিন্তু ওই ছবিটা মাত্র কয়েকটা পেক্ষাগৃহেই রিলিজ করেছিল৷ খুব কম বাজেটের ছবি বলে প্রমোশন একেবারে হয়নি বললেই চলে৷ তাই আমি আমার প্রথম মেনস্ট্রিম ছবি হিসেবে ‘প্রাইম টাইম’-কেই ধরছি৷ এখানে আমার চরিত্রটা হল একজন সাদাসিধে মেয়ের৷ এক্স বয়ফ্রেন্ড-এর সঙ্গে বেশ কিছু সমস্যায় জড়িয়ে পড়ায় নিজেকে একেবারেই বদলে ফেলে সে৷ একটা দলে যোগ দেয়, যেখানে প্রত্যেকেই কোনও না কোনও সমস্যা থেকে এসেছে৷ ওখানেই ইন্দ্রনীলের সঙ্গে আলাপ৷ ধীরে ধীরে আমি ওর ভালোবাসায় পড়ে যাই৷ গল্পটা এখন সেভাবে কিছু না বললেও, এটুকু বলতেই পারি, যে ছবিটি অবশ্যই দেখবেন৷ গল্প এবং চরিত্রগুলি সত্যি দারুণ ইন্টারেস্টিং৷

Kolkata24x7: আপনি এই ছবির সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হলেন৷ শুনেছি মাঝে কিছু সমস্যা হয়৷ যার জন্য আপনাকে বাদ পড়তেও হতে পারত৷ শেষপর্যন্ত কীভাবে সবকিছু আবার ঠিকঠাক হল?

ডিম্পল: আমি এই ছবির সঙ্গে শ্যুটিং শুরু হওয়ার অনেক আগের থেকেই জড়িত ছিলাম৷ আমার ফোলিও দেখেই পরিচালক ইপ্সিতা পালের আমাকে পছন্দ হয়৷ আমাকে লুক টেস্টের জন্য ডাকা হয়৷ পরে আমি ওয়ার্কশপ, এমনকী ছবির agreement sign -এর কাজ পর্যন্ত সেরে ফেলেছিলাম৷ কিন্তু তারপরেই কিছু মানুষ বেঁকে বসেন৷ তাঁদের সবারই আমাকে নিয়ে অনেক সমস্যা ছিল৷ শেষপর্যন্ত অবশ্য তাঁরা কেউই আর এই ছবির সঙ্গে যুক্ত থাকেননি৷ এবং আমাকেই ছবিতে রেখে দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ ছবিতে পাওলি মুখ্য চরিত্রে থাকলেও আমার রোলও যথেষ্ট রয়েছে৷ বলতে পারেন আমার পাওলি-র থেকে বেশি রোল রয়েছে৷ একটি গানের দৃশ্যেও আমাকে আপনারা দেখতে পারবেন৷ এতো বড়মাপের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে কাজ করতে পেরেও দারুণ লেগেছে৷ অনেক কিছু শিখতে পেরেছি এই ছবিতে৷

Kolkata24x7: সম্প্রতি ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে আর্টিস্ট ফোরাম-সহ ২৬টা সংগঠনের কাছে এই মর্মে চিঠি পাঠানো হয়েছে যে এবার থেকে অভিনেতা-অভিনেত্রী-সহ ফিল্মের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককেই তাঁদের পাসপোর্ট-এর ফটোকপি জমা রাখতে হবে তাদের কাছে৷ যাতে বেজায় চটে রয়েছেন প্রায় প্রত্যেক টলিউড তারকারাই৷ এবিষয় তোমার কী মত?

dimple4
PC: Srimoyee Biswas

ডিম্পল: দেখুন এরকম চিঠি হাতে পাওয়াটা যেকোনও অভিনেতাদের কাছেই যথেষ্ট অপমানজনক৷ এভাবে পাসপোর্টের কপি জমা রাখাটা কোনওভাবেই বাধ্যতামূলক করা উচিৎ নয়৷ এমনকী, জমা না রাখলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে বলে শুনেছি৷ সেটা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না৷ তবে এটাও ঠিক যে গিল্ডের পক্ষ থেকে হয়তো কোনও কিছু ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু হ্যাঁ, এটা যে একজন শিল্পীর কাছে অত্যন্ত অপমানজনক, সেটা বলা যেতেই পারে৷

Kolkata24x7: তোমার আইডল কে? তোমার Hobbies কী কী?

ডিম্পল: আমার সেভাবে কোনও আইডল নেই৷ আমি তো অভিনয় শেখার জন্য কোনওদিন কোনও ক্লাসে ভর্তি হইনি বা কোনও থিয়েটারেও যোগ দিইনি৷ সবটাই অন্যদের দেখে দেখে শেখা৷ প্রথমদিকে আমার স্মার্টনেসও একদম ছিল না৷ তারপর নিজেকেই নিজে গ্রুম করার জন্য উদ্যোগ নিই৷ যাঁরা আমার থেকে সিনিয়র, তাঁদের সবার থেকেই অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করেছি সবসময়৷ আমি আসলে বরাবরই ভালো অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলাম৷ একদম দেব-শুভশ্রীর মতো সুপারস্টার হওয়াটা আমার কাছে জরুরী নয়৷ আমি বরং এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চাই যা দেখে দর্শকদের নজর কাড়তে পারি৷ তাঁরা আমার অভিনয়কে প্রশংসা করে৷ জীবনের শেষদিন পর্যন্ত ভালো কাজ করে যেতে চাই৷ আমার hobbies হল অবশ্যই ডান্সিং৷ এছাড়া মেক-আপ কিটস সংগ্রহ করা এবং শপিং করতেও আমার দারুণ লাগে৷ আমি কিন্তু খুব ভালো মেক আপ করতে পারি৷ এই কাজে আমি আর আমার ছোট বোন দু’জনেই দারুণ নিপুণ

Kolkata24x7: আপনি কতটা ফ্যাশনেবল? আপনার স্টাইল স্টেটমেন্ট কী?

ডিম্পল: আমার সেভাবে কোনও স্টাইল স্টেটমেন্ট না থাকলেও ফ্যাশনের বিষয়টা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ আমি ইস্টার্ন-ওয়েস্টার্ন সবধরণের পোষাকেই যথেষ্ট স্বচ্ছন্দ্য৷ বলতে পারেন, সবধরণের পোষাকেই আমাকে ভালো মানিয়ে যায়৷ পোষাক এবং মেক-আপ-এর বিষয়টা অবশ্যই occasion-এর উপর নির্ভর করে৷ যে অনুষ্ঠানে যেটা মানানসই, আমি সেধরণের পোষাকই পরি৷

Kolkata24x7: সবশেষে আসি ব্যক্তিগত প্রশ্নে? তুমি কী সিঙ্গল না এনগেজড? কীধরণের ছেলে তোমার বেশি পছন্দ?

ডিম্পল: আমি অনেকদিন ধরেই এনগেজড!(হাসি) আমার যে বয়ফ্রেন্ড, ও ভীষণ মিষ্টি এবং নরম স্বভাবের একজন মানুষ৷ ওর মধ্যে যে simplicity রয়েছে, সেটাই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে৷ ওর সঙ্গে আলাপ কলকাতাতে এসেই৷ কিন্তু মজার বিষয় হল আমরা দু’জনেই বর্ধমানের৷ বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড বা স্বামী-স্ত্রী-র মধ্যে ‘understanding’- টাই আমার মনে হয় সবচেয়ে গুরুত্বপূ্র্ণ৷ সেইসঙ্গে দু’জন দু’জনের সঙ্গে সবসময়ে Touch-এ থাকাটাও জরুরী৷ আমার বয়ফ্রেন্ড যেমন, সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত সবসময়েই আমার সঙ্গে ফোনের মধ্যে থাকতে চায়৷ আমাকেই অনেকসময় জোর করে ফোন রাখতে হয়৷ ওর মতো বয়ফ্রেন্ড পাওয়াটা সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার!

----
--