নিজেদের জায়গা ফিরে পেতে ফেসবুক হাতিয়ার বামেদের

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: আদিবাসী ভোট ব্যাংক ফিরে পেতে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়াকেই হাতিয়ার করল বাঁকুড়া জেলার সিপিএম। দলের কমিটির নিজস্ব ‘অফিসিয়াল’ ফেসবুক পেজে এবার সাঁওতালী ভাষায় রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের সমালোচনা করে পোষ্ট দেওয়া শুরু করল তাঁরা।

জানা গিয়েছে, সিপিএমের এই ফেসবুক পেজ গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৈরি৷ এই ধরণের উদ্যোগ প্রথম বলে অনেকে জানিয়েছেন। সিপিএম তথা বামেদের দিক থেকে ‘মুখ ফেরানো’ আদিবাসীদের মন পেতেই এই ধরণের উদ্যোগ বলে জেলা রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

এক সময়ে এই দক্ষিণ বাঁকুড়া ‘লাল দূর্গ’ হিসেবে পরিচিত ছিল৷ তাই দক্ষিণ বাঁকুড়ায় সিপিএম এখন নিজেদের অস্ত্বিত্ব রক্ষার সংকটে ভুগছে। এই এলাকার তিনটি বিধানসভাই এখন শাসক দলের দখলে। গত ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে ‘ডাকসাইটে’ সিপিএম নেতা, প্রাক্তন জেলা সম্পাদক, বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিয় পাত্র নিজের ‘খাসতালুক’ তালডাংরায় তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ সমীর চক্রবর্তীর কাছে হেরে যান।

অন্যদিকে রাজ্যের দুই প্রাক্তন মন্ত্রী রাইপুরের উপেন কিস্কু ও রানীবাঁধের দেবলীনা হেমব্রমের কেন্দ্র দু’টি হাতছাড়া হয়েছে তাঁদের। সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনে দক্ষিণ বাঁকুড়া সহ এই জেলায় সেভাবে দাগ কাটতে পারেনি বামেরা। যদিও এক্ষেত্রে শাসক দলের সন্ত্রাস আর রিগিংকেই দায়ি করছেন তাঁরা। আর ঠিক সেই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্ভবত এই প্রথমবার ‘সাঁওতালী ভাষায়’ পোষ্ট পুরনো ভোট ব্যাঙ্ক ফিরে পেতে সিপিএমের চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।

তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের পাশাপাশি বিজেপিকেও হাতে নেওয়া হয়েছে এই ফেসবুক পোষ্টগুলিতে। সাঁওতালী ভাষায় রাজ্য সরকারের সমালোচনা পোষ্ট করা হচ্ছে৷ পোষ্টারের বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় ‘পরিবর্তনের বাংলায় গত সাত বছরে এই রাজ্যে ১৮২ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন৷’ সম্প্রতি আত্মঘাতী ধূপগুড়ির কৃষক গঙ্গাধর রায়ের ছবি দিয়ে ওই পোষ্টারে আরও লেখা হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গে আত্মঘাতী কৃষকের যুক্ত হল আর এক নাম। ঋণের দায়ে আত্মঘাতী ধূপগুড়ির ক্ষুদ্র কৃষক গঙ্গাধর রায়৷’

অন্য একটি পোষ্টে সংবাদপত্রের কাটিং যুক্ত করে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর বিরুদ্ধে তোপ দাগা হয়েছে। অমিত শাহ ‘ডিরেক্টর’ এমন এক সমবায় ব্যাঙ্কে নোট বন্দির পর ৭৪৫.৫৯ কোটি টাকা জমা পড়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই নোট বন্দীর খেলায় নেমেছিল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।

যদিও শাসক তৃণমূল ও জেলায় এই মুহূর্তে দ্বিতীয় নম্বরে উঠে আসা বিজেপি কেউই সিপিএমের এই ফেসবুক পোষ্ট নিয়ে ভাবিত নন। তাদের বক্তব্য এই সব পোষ্ট কত জন দেখেন বলেও তারা প্রশ্ন তুলছেন। এপ্রসঙ্গে সিপিএম বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক অজিত পতি জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে ফেসবুক একটি জনপ্রিয় গণমাধ্যমের ভূমিকা পালন করছে। এখন যুব সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সিংহভাগ মানুষই নিজেদের এই ইন্টারনেট দুনিয়ায় যুক্ত করেছেন। একই সঙ্গে আদিবাসী সমাজের মানুষের কাছে তাঁদের দলের বার্তা রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের জনবিরোধী কার্যকলাপ পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ বলে তিনি স্বীকার করেন। সাম্প্রতিক সময়ে না হলেও আগে এই ধরণের পোষ্ট করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Advertisement
----
-----