ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট দিয়ে গ্রেফতার বিজেপি নেতা

স্টাফ রিপোর্টার, হুগলি: ফেসবুকে বিতর্কিত মন্তব্য পোস্ট করার অভিযোগে গ্রেফতার সক্রিয় বিজেপি কর্মী৷ ধৃতের নাম জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী৷ হুগলির বৈদ্যবাটির বাসিন্দা তিনি৷ যদিও জেলা বিজেপি নেতৃত্বর দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে তাদের কর্মীকে৷

জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী হুগলি জেলার সক্রিয় বিজেপি কর্মী৷ তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে জানা গিয়েছে, একসময় হুগলি জেলার বিজেপি যুব মোর্চার জেনারেল সেক্রেটারিও ছিলেন তিনি৷

আরও পড়ুন: দিঘায় স্পিডবোটের ধাক্কায় পর্যটক আহত

- Advertisement -

বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে শাসকদলের বিরোধিতায় সরব হতে দেখা গিয়েছে জ্যোতির্ময়কে৷ মিটিং-মিছিলেও গেরুয়া শিবিরের পরিচিত মুখ জেলায়৷

ফেসবুক প্রোফাইলেও বহু রাজনৈতিক পোস্ট, বিজেপির হয়ে প্রচারের ছবি রয়েছে জ্যোতির্ময়ের৷ সেই বিজেপি কর্মীর গ্রেফতারে ক্ষোভ জেলায়৷ জ্যোতির্ময়ের বিরুদ্ধে বিতর্কিত পোস্টের অভিযোগ উঠেছে৷ অভিযোগ, তার প্রোফাইলে এমন কিছু ছবি, ভিডিও পোস্ট হয়েছে যা হিংসা ছড়াতে পারে৷

চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট তাঁর বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করে৷ তারই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার রাতে জ্যোতির্ময় চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ রবিবার ধৃতকে শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হবে৷ জ্যোতির্ময় অবশ্য বারবারই দাবি করেছেন, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কোনও ভিডিও, ছবি বা কথা লেখেননি যার জন্য কোনও হিংসা ছড়াতে পারে৷

আরও পড়ুন: সন্ত্রাসে, দারিদ্রে জীর্ণ আফগান শৈশব স্কুল চেনে না

জ্যোতির্ময়ের দাবি, পুলিশ বেছে বেছে বিজেপি কর্মীদেরই মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে৷ এই একই সুর বিজেপির হুগলি জেলা সভাপতির গলাতেও৷ জেলা সভাপতি ভাষ্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এটা আমাদের হেয় করার জন্য করা হচ্ছে৷ আমাদের সক্রিয় কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে৷ গ্রেফতার করা হচ্ছে৷’’ তাঁর দাবি, এমন কোনও পোস্ট ফেসবুকে করাই হয়নি৷

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি কিংবা অপপ্রচার ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতারি এ রাজ্যে প্রথম নয়৷ শুধু এ রাজ্যই কেন এ দেশেও এই ধরনের ঘটনার উদাহরণ রয়েছে প্রচুর৷ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে যখন যোগী আদিত্যনাথ বসেছিলেন তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য পোস্ট হয়েছিল ফেসবুকে৷

আরও পড়ুন: বিদেশি গাড়ির বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল প্রাণ

একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, গতবছর মার্চে এক সপ্তাহে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে৷ ২০১২ সালে শিবসেনা সুপ্রিমো বাল ঠাকরের অন্ত্যোষ্টিতে কেন গোটা শহর স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এই প্রশ্ন তুলে পালঘরের দুই যুবতীকে জেলে ঢুকতে হয়েছিল৷

তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের৷ কিছুদিন আগেই খোদ এই রাজ্যেই এমন অভিযোগ উঠেছিল৷ বিতর্কিত পোস্ট করে জেলে যেতে হয়েছিল এক পড়ুয়াকে৷

আরও পড়ুন: পেট্রল ছুঁড়ে আগুনে শাসকদলের নেতাকে খুনের চেষ্টা

Advertisement ---
---
-----