স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের নেপথ্যে পরিবারের সদস্যরা

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে নিজের ভাইপোকে খুনের অভিযোগ উঠেছিল কাকা ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে৷ অবশেষে সেই খুনের কিনারা করল তমলুক থানার পুলিশ৷ ঘটনার পরই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে৷ সোমবার আদালতে তোলা হয় ধৃতদের৷ তমলুক আদালত সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে৷

মৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ীর নাম পরিমলেন্দু হাজরা (৪০)৷ তাঁর কাকা অভিযুক্ত মুকুন্দ হাজরা ও কাকার ছেলে অভিযুক্ত পার্থ হাজরা৷ মৃত পরিমলেন্দুবাবুর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানার গোমুখপোতা গ্রামে৷ পুলিশ সূত্রে খবর, কর্মসূত্রে দীর্ঘদিনের উপর তিনি তাঁর কাকার সোনার দোকান হাওড়া জেলার বাউড়িয়াতে কাজ করতেন৷ সপ্তাহে প্রতি বুধবার করে নিজের বাড়িতে ফিরতেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী পরিমলেন্দুবাবু৷

সম্প্রতি পরিমলেন্দুবাবু তাঁর কাকার দোকানের ঠিক উপরে একটি সোনার গহনার ব্যবসা শুরু করেছিলেন। শৌখিন ও ভালো কারিগর হিসেবে পরিমলেন্দুবাবুর নামডাক আগে থেকেই ছিল৷ ফলে কাকার দোকানের ক্রেতারা ক্রমশ পরিমলেন্দুবাবুর দোকানে ভিড় জমাতে শুরু করেন৷ এদিকে কাকা মুকুন্দবাবুর ব্যবসায় দেখা দেয় মন্দা৷ তাই, ভাইপোকে সরিয়ে দিতে ভাড়াটে খুনি দিয়ে খুন করায় পরিমলেন্দুবাবুকে৷ এমনটাই দাবি করেছে পুলিশ৷

- Advertisement DFP -

গত ২২ আগস্ট পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট থানার কলাগাছিয়া গ্রামে রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছিল সোনা ব্যবসায়ী পরিমলেন্দু হাজরার দেহ৷ জানা গিয়েছে, এদিন তিনি কোলাঘাট স্টেশনে নেমে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন৷ তারপরই আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি পরিমলেন্দুবাবুর৷ অভিযোগ, মৃতদেহের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতের চিহ্ন ছিল৷ জশাড়-খন্যাডিহি রুটের পাশে স্থানীয় পথ চলতি মানুষ পরিমলেন্দু বাবুকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।

তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে কোলাঘাট থানায় খবর দেয়৷ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে পাইকপাড়ি ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। পুলিশের অনুমান, কোলাঘাটের কলাগেছিয়ার কাছে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে খুন করা হয়৷ যদিও এি খুনের নেপথ্যে ব্যবসায়িক শত্রুতার পাশাপাশি অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷

Advertisement
----
-----