মাঝেরহাট: ভাত জোগানকে প্রশ্নে রেখে প্রণবের সৎকার পরিবারের

স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: ব্রিজ ভাঙার পরই নিখোঁজ ছিলেন  প্রণব দে৷ ততক্ষনে প্রত্যন্ত গ্রামে প্রণবের পরিবার অপেক্ষায় ছেলের একটা ফোনের৷ মুর্শিদাবাদের তেতুঁলিয়া গ্রাম তখনও জানে না, ধ্বংসস্তুপের নীচে হতদরিদ্র পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছেলে হয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছে৷ অবেশেষে সেই অপেক্ষার অবসান, হাহাকার ভেদ করে প্রণবের দেহ উদ্ধার হল, বৃহস্পতিবার ছেলের নিথর দেহ পেল পরিবার, তেঁতুলিয়া গ্রামে শুধুই তখন আর্তনাদ৷ গরিব পরিবারের হাঁড়ির দায়িত্ব নিয়েই শহরে গিয়েছিল ঘরের ছেলে৷ কে জানত, সেতুর নীচে কাজ করতে করতেই ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়বে সে, কে জানত প্রণব আর উঠবে না৷

রেশনের সামগ্রীতে দিনগুজরান পরিবারের৷ অভাবের সংসারে নেই শৌচাগার,নেই মাথা গোজার পর্যাপ্ত জায়গা৷ প্রণবের উপরই ভরসা রেখেছিল পরিবার৷ বাড়ির বড় ছেলে প্রণব ,ছোট ছেলে উৎপল কলেজ ছাত্র৷ বছর ন’য়েক আগে তেঁতুলিয়ার বাসিন্দা প্রণব দে-র বাবা মারা যান৷ তারপরই সংসারের হাল ধরতে কাজ শুরু করে সে। গত জ্যৈষ্ঠ মাসে কলকাতাতে কাজে গিয়েছিল প্রণব। সেই যাওয়াই শেষ যাওয়া হয়ে রইল, ফিরলেন না ২১ বছরের তরতাজা ছেলে প্রণব, যার সংসারকে দেওয়া আরও বাকি ছিল৷ পেটের তাগিদ যে বড় তাগিদ, তাই প্রণবের মজুরির উপরই চেয়ে থাকত গোটা পরিবার৷ দিন গুজরানের আতঙ্ককে সঙ্গে নিয়েই প্রণবের দেহ সৎকার করল পরিবার৷

মঙ্গলবার বিকেলে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল প্রণবের পরিবারের। বুধবার সন্ধ্যায় সমস্ত উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ উদ্ধার হয় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা ২ ব্লকের কামনগর তেতুলিয়ার বাসিন্দা প্রণব দে-র। খবর এসে পৌঁছায় তাঁর বাড়িতে৷ কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। মাঝেরহাট বিপর্যয়ের তিন মৃত্যু প্রণব,সৌমেন, গৌতম৷ হয়ত ব্রিজ আবার তৈরি হবে, হয়ত নিত্যদিনের ব্যস্ততা আসবে৷ কিন্তু, ফিরবেন না প্রণবরা৷ ক্ষত মিটবে না স্বজনহারা পরিবারের৷

----
-----