রাস্তায় মৃত দেহ রেখে বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: দু’দিন ধরে নিখোঁজ ছিল এক যুবক৷ রবিবার সেই নিখোঁজ যুবকের দেহ উদ্ধার হয় হাওড়ার টিকিয়াপাড়া স্টেশন থেকে৷ পরিবারের অভিযোগ, তাদের ছেলেকে খুন করা হয়েছে৷ অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে রাস্তায় যুবকের মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখান মৃতের পরিবার৷ মৃতের নাম জয়কুমার দাস (২৬)৷

পরিবার সূত্রে খবর, শনিবার রাতে সোদপুরে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান জয়। সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই বন্ধু রণজিৎ পাল এবং প্রলয় মণ্ডল। তাঁরা দু’জনেই স্থানীয় বাসিন্দা৷ অভিযোগ, তিনজন মিলে জয়ের শ্বশুরবাড়ি যাবে বলে স্ত্রী অর্পিতাকে ফোনে জানায়। তবে রাত হয়ে গেলেও শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছান না জয় ও তাঁর বন্ধুরা। এমনকি রাতভর ফোনেও পাওয়া যায় না জয়কে৷ তাঁর কোনও খোঁজ না পেয়ে রবিবার সকালে জয়ের খোঁজ শুরু করেন পরিবারের লোকেরা। কিছুক্ষণ পরেই হাওড়ার টিকিয়াপাড়া স্টেশন থেকে জয়ের দেহ উদ্ধারের খবর পান পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: স্ত্রী’র মুণ্ড হাতে থানায় এসে আত্মসমর্পণ স্বামীর

- Advertisement -

আর এরপর থেকেই ঘটনা খুন বলে দাবি করতে থাকেন মৃতের পরিবার। রবিবার রাতে হাওড়া হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের পর জয়ের মৃতদেহ কোলাঘাট নিয়ে আসা হয়। এরপর খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে পরিবারের সদস্যদের৷ এই বিক্ষোভের জেরে বেশ কিছু সময়ের জন্য হলদিয়া-মেচেদা রাজ্য সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ১০ টা নাগাদ পুলিশ মৃতের স্ত্রী অর্পিতা দাসের থেকে খুনের অভিযোগ গ্রহণ করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রসঙ্গত, মৃত জয়কুমার দাস একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় জয়কুমারের সঙ্গে কুড়ি হাজার টাকা ও কিছু সোনার গয়না ছিল৷ টাকা ও সোনার গয়নার জন্যই সঙ্গে থাকা দুই বন্ধু তাঁকে খুন করেছে। প্রথমে কোলাঘাট থানা অভিযোগ নিতে গড়িমসি করলেও বিক্ষোভের জেরে অভিযোগ নিয়ে নেয় বলেও জানিয়েছে পরিবার।

আরও পড়ুন: শিলিগুড়িতে সেতু ভেঙে নদীতে!

এই প্রসঙ্গে কোলাঘাট থানার ওসি কাশীনাথ চৌধুরী বলেন, ‘‘অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক। তাদের খোঁজ শুরু হয়েছে।’’ অন্যদিকে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশ যদি এই ঘটনার সঠিক তদন্ত না করে, তাহলে আগামী দিনে এলাকার মানুষদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে তাঁরা।

Advertisement
---