সুভীক কুন্ডু, কলকাতা: এম এস ডি… দি আনটোল্ড স্টোরি, সিনেমার এক দৃশ্যে উঠতি ক্রিকেটার মাহি তাঁর বন্ধুদের শুনিয়েছিলেন যুবরাজের ব্যাটিং কাহিনী৷ সিনেমার দৃশ্যে ধোনির ডায়লগ ছিল, ‘ফের ব্যাটিং করনে আতা হ্যায় যুবরাজ সিং৷ বহুত মারা, ধাগা খোল দিয়া একদম!’৷ সেই ডায়লগই ফিরে এল ২০১৮ আইপিএলে৷ সৌজন্য আফগান স্পিনার রশিদ খান৷

এতটুকু পড়ে চমকাবেন না! রশিদ যুবরাজ নন৷ ছয় বলে ছয় ছক্কা হাঁকানো বা কোনও বিশ্বরেকর্ড ভাঙেননি রশিদ৷ এক শুক্রবারের সন্ধ্যেতে গঙ্গাপারের ইডেনে নাইটদের বিরুদ্ধে শুধু ব্যাট হাতে ঝড় তুলে পালটে দিয়েছেন চিত্র৷ প্রিন্স অফ ক্যালকাতাটার শহরে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন নবরূপে৷

তাঁর ১০ বলের ৩৪ রানের ইনিংসই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়৷ নাইটদের ১৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে সানরাইজার্স৷ রাশিদের ধুঁয়াধার ইনিংসকে ব্যখা করার ভাষা খুঁজতে ধোনির সেই ডায়লগকেই ধার করছে নেটিজেন৷ ডায়লগে রশিদ নাম জুড়ে দিয়ে ফ্যানেরা মজা করে শুধু বলছেন, ‘ফের ব্যাটিং করনে আতা হ্যায় রশিদ, বহুত মারা!ধাগা খোল দিয়া একদম!’

ক্রিজে যখন এসেছিলেন এগারের আইপিএল ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ছয় উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রানে ধুঁকছে সানরাইজার্স৷ অবশিষ্ট বলতে হাতে গোনা কয়েকটা বল৷ সেই হাতেগোনা কয়েক বলেই ম্যাচের রঙ পালটে দিলেন আফগান স্পিনার৷ যদিও নাইটদের বিরুদ্ধে রাশিদের মারকাটারি ইনিংসের পর তাঁকে অলরাউন্ডার না বললে অন্যায় হবে৷

ব্রাথওয়েট আউট হতে রশিদ ক্রিজে আসেন ১৮ ওভারের শেষ বলে৷ তখন ম্যাচের হওয়া নাইটদের পক্ষে৷ সেই ওভারের শেষ বলে চার মেরে শুরুওয়াত৷ এরপর ইনিংসের ১৯ তম ওভারে মাভিকে প্রথম বলেই উইকেট উপহার দিয়ে এলেন পাঠান৷ পরের বলেই রশিদের উপর আছড়ে পড়ে ১৪০ প্লাস গতির ডেলিভারি৷

মাভি তখন শিকারের গন্ধ পাওয়া বাঘের মতোই হিংস্র৷ হাত থেকে বেড়োচ্ছে একের পর এক গোলা৷ সেই গোলা অবশ্য রাসিদকে থামাতে পারেনি৷ ওভারের বাকি চারটে বলে দুটো ছয় দুটো ডট৷ প্রথমটা ডিপ পয়েন্টের উপর দিয়ে আর ওভারের শেষ ছয়টা ডিপ কভারের উপর দিয়ে৷

শেষ ওভারে প্রসিধকে পেয়ে খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে সুর সপ্তমে তোলেন রশিদ৷ ওভারের তৃতীয় বলে বাউন্ডারি দিয়ে শুরু৷ এরপর দুটি ছয়! ইনিংস যখন শেষ হল সানরাইজার্সের স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করেছে ১৭৪ রান৷ যার মধ্যে ১০ বলে রশিদ করেছেন ৩৪৷ ইনিংস সাজানো চারটি ছয় আর দুটি চার দিয়ে৷ সত্যিই এই ইনিংস দেখে জেন ওয়াই ঠিক তুলনাই করেছেন৷ সুর সপ্তমে তুলে যে ব্যাটিং ঝড় দেখালেন রাশিদ, সেই ঝড়েরই তো সন্ধ্যানে থাকে আইপিএল জনতা৷

--
----
--