কংগ্রেস আমলের মতোই দেশে কৃষক মৃত্যু অব্যহত মোদী শাসনেও

মানব গুহ: ২০১৬ ও ২০১৭ সালের কৃষক মৃত্যুর কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি নরেন্দ্র মোদী সরকার৷ কংগ্রেস আমলে দেশে কৃষক মৃত্যু নিয়ে সবচেয়ে বেশি হইচই করেছিল বিজেপি৷ ২০১৪ লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কৃষক মৃত্যু নিয়ে ইস্যু তৈরি করেছিল গেরুয়া শিবির৷ এখন, পদ্ম ফুলের জমানাতেই সেই ইস্যু থেকে সরে এসেছে কেন্দ্র সরকার৷

কৃষি ক্ষেত্রে সমস্যার কারণে গত দশ বছরে কৃষকদের আত্মহত্যা গোটা ভারতেই একটা জ্বলন্ত ইস্যু৷ ২০১৫ সালে শেষবার কৃষক মৃত্যু নিয়ে তথ্য বের করেছিল কেন্দ্র সরকার৷ তারপর, শেষ দুবছরে কোন তথ্য প্রকাশ করে নি মোদী সরকার৷ যদিও, ন্যাশান্যাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো ডাইরেক্টর ইশ কুমার জানিয়েছেন, স্ক্রুটিনি চলছে, জুনের শেষেই হয়তো কৃষক মৃত্যু নিয়ে ২০১৬ র তথ্য প্রকাশ করবে কেন্দ্র সরকার৷

গত কয়েক মাসেই বেশ কয়েকজন কৃষকের আত্মহত্যা সংবাদের শিরোনামে আসে৷ তখনই দেখা যায়, এই নিয়ে ২০১৬ ও ২০১৭ সালের কোন রেকর্ডসই বের করে নি মোদী সরকার৷

- Advertisement -

এই বছরের মে মাসেই ৬ জন কৃষকের আত্মহত্যার খবর আসে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ থেকে৷ কারণ সেই একই৷ কৃষি ঋণ শোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন ওই কৃষকরা৷ কৃষিজাত পণ্যের দাম কমে যাওয়াতেই ঠিকমত ফসলের দাম পান নি ওই কৃষক ও কৃষিকাজে যুক্ত শ্রমিকরা৷ ফলে কৃষিঋণ শোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন৷

এরপরই বিজেপির বিরুদ্ধে এটাকেই ইস্যু করে বিরোধী দলগুলি৷ তখনই নজরে আসে এই তথ্য বের না করার ঘটনা৷ তারপরই বিরোধী দলগুলির তরফ থেকে কৃষক মৃত্যু নিয়ে কোন তথ্য বের না করার ব্যপারে প্রতিবাদ করা হয়৷ কৃষক মৃত্যু নিয়ে শেষ ডাটা পাওয়া গেছে ২০১৫ সালের৷ তারপর আর কোন ডাটা পাওয়া যায় নি৷ রাজ্যগুলি তথ্য পাঠাতে দেরি করছে বলেই ২০১৬ সালের কৃষক মৃত্যু নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা যায় নি বলেই জানিয়েছে কেন্দ্র৷

ন্যাশান্যাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো, সমস্ত রাজ্য থেকে কৃষক মৃত্যু নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ও তা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তথ্য আকারে প্রকাশ করা হয়৷ ন্যাশান্যাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো তাদের বার্ষিক রিপোর্টে অ্যাকসিডেন্টাল ডেথ ও সুইসাইড নিয়ে আলাদা আলাদা রিপোর্ট তৈরি করে৷ ২০১৮ সালের রিপোর্টে ২০১৭ সালের তথ্য সম্বলিত রিপোর্ট পেশ করার কথা৷ কিন্তু এখনও পর্যন্ত ২০১৬ সালের রিপোর্টই বের করতে পারে নি তারা৷

মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর, সরকারের নির্দেশে ২০১৫ সালেই প্রথমবার কৃষক মৃত্যু নিয়ে আলাদা করে রিপোর্ট বের করে ন্যাশান্যাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো৷ এই রিপোর্টে থাকে, কোন কৃষকের আত্মহত্যা সরাসরি কৃষির জন্য নাকি অন্য কারণে হয়েছে৷ কৃষি ক্ষেত্রে সমস্যার জন্যই ওই কৃষক আত্মহত্যা করেছেন কিনা তাও লেখা থাকে রিপোর্টে৷

ন্যাশান্যাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর ২০১৬ সালের রিপোর্টে দেখা যায়, ২০১৫ তে কৃষি সংক্রান্ত বিষয়ে আত্মহত্যা করেছেন প্রায় ১৯.৫ শতাংশ কৃষক৷ ব্যাঙ্কে ধার শোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন প্রায় ৩৮.৭ শতাংশ কৃষক৷ এছাড়াও গরিবি, সাংসারিক ঝামেলা, অসুস্থতা ও বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সমস্যাতেও আত্মহত্যা করেছেন কৃষকরা৷

২০১৬ সালের রিপোর্টে যা ২০১৫ সালের তথ্য উঠে এসেছে দেখা যায়, ৮০০৭ জন কৃষক ও ৪৫৯৫ জন কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক আত্মহত্যা করেছে৷ ২০১৪ সালে ৫৬৫০ কৃষক ও ৬৭১০ জন কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক আত্মহত্যা করেছে৷ ২০১৬ ও ২০১৭ সালে কতজন কৃষক আত্মহত্যা করেছে এখন সেটাই দেখতে চায় গোটা দেশ৷

তাহলে কি ২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে কৃষক মৃত্যু নিয়ে কোন তথ্য প্রকাশ করতে চায় না মোদী৷ লোকসভাতেও এই নিয়ে প্রশ্নের মুখে পরে মোদী সরকার৷ স্বরাষ্ট্র দফতর থেকে জানানো হয়, রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে৷ যদিও ন্যাশান্যাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর একটি তথ্য থেকে জানা যায় যে, ২০১৬ সালে ৬৩৫১ জন কৃষক ও ৫০১৯ জন কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক আত্মহত্যা করেছে৷

এই তথ্য অনুসারে দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেস আমলের মত বিজেপি আমলেও কৃষক মৃত্যুর ধারা আব্যহত রয়েছে৷ যদিও ন্যাশান্যাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর বিরুদ্ধে এই অভিযোগও উঠেছে যে, তারা কৃষকদের আত্মহত্যা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে৷ এমনকি রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ সহ অন্যান্য রাজ্যের কাছ থেকে সঠিক তথ্য নেবার কোন চেষ্টাই করছে না বলেও অভিযোগ৷ রাজ্য থেকে আসা তথ্য চেক করার চেষ্টাও করে না ব্যুরো, বলেই অভিযোগ৷

২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কৃষকরা আত্মহত্যা করলেও রাজ্যের তরফ থেকে তা কোন হিসাবেই দেখানো হয়নি৷ ন্যাশান্যাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো এই সমস্ত রাজ্যগুলিকে ফের রিপোর্ট পাঠাবার নির্দেশ দিয়েছে বলেই জানা গেছে৷ তবে, কৃষক মৃত্যুকে ইস্যু করে কংগ্রেসকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসা মোদী সরকারও যে সেই কৃষক মৃত্যুর ধারাকে রোধ করতে পারে নি, এটা কিন্তু জলের মত পরিস্কার৷

Advertisement
----
-----