একই বছরে স্নাতক উত্তীর্ণ হলেন বাবা-ছেলে জুটি

মুম্বই: কথায় আছে ‘শিক্ষার কোনও বয়স নেই’৷ আরও একটি প্রবাদ রয়েছে, তা হল ‘বয়স কোন বাঁধা নয়’৷ একই সঙ্গে এই দু’টি প্রবাদ প্রমাণ করলেন মুম্বইয়ের বাবা-ছেলে জুটি৷ একই বছরে স্নাতক পাশ করে তাঁরা দেখিয়ে দিলেন এই প্রবাদ দু’টির সার্থকতা৷

ছেলে হাজিম ফারুক শেখ ও বাবা মহম্মদ ফারুক শেখ৷ ছেলে ফারুক মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমার্সে স্নাতক উত্তীর্ণ হয়েছেন, বাবা মহম্মদ ফারুকও একই বছরে মহারাষ্ট্রের যশবন্তরাও চাভান মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করলেন৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ পরীক্ষায় ছেলে হাজিম ৫৬ শতাংশ ও বাবা ৪৯ শতাংশ নম্বর পেয়ে স্নাতক উত্তীর্ণ হয়েছেন৷

- Advertisement DFP -

বয়স কোনও বাঁধা নয় প্রমাণকারী বাবা মহম্মদ ফারুক শেখ পেশায় ট্যাক্সি ড্রাইভার৷ পরিস্থিতির চাপেই এই পেশায় আসতে বাধ্য হন তিনি৷ জানা যাচ্ছে, এর আগে একটি কোম্পানিতে জুনিয়র ক্লার্ক পদে কাজ করতেন৷ কিন্তু, সেই কোম্পানির আর্থিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জুনিয়র ক্লার্কের কাজ ছেড়ে ট্যাক্সি চালানো শুরু করেন মহম্মদ ফারুক৷ এমনভাবেই কাটছিল তাঁর দিন৷ তার মধ্যেই একদিন উচ্চ শিক্ষার ইচ্ছা জেগে ওঠে ৷ যেমন কথা তেমনি কাজ৷ ভরতি হয়ে যান যশবন্তরাও চাভান মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে৷

পড়াশুনার খিদে বরাবরই ছিলে মহম্মদ ফারুকের মনে৷ পরিস্থিত তাঁকে ট্যাক্সি চালাতে বাধ্য করে৷ যা একদিন অনুধাবন করতে পেরেই উচ্চ শিক্ষার পথে পা বাড়ান তিনি৷ শিক্ষা আসলে সামাজিকতার অঙ্গ, যা বুঝেছিলেন ট্যাক্সি চালক ফারুক৷ তাই, ছেলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পড়াশুনা করতে পিছু পা হননি৷ এর কারণ দুটি বলে জানাচ্ছেন ফারুক, প্রথমত, উচ্চ শিক্ষা তাঁকে সমাজে শ্রদ্ধার পাত্র করে তুলবে৷ দ্বিতীয়ত, এর ফলে আরও ভালো কাজের সুযোগ পেতে পারেন তিনি৷

বয়সকে উপেক্ষা করে ছেলের সঙ্গে একই বছরে স্নাতক উত্তীর্ণ বাবা বলেন, ‘‘পড়াশুনার কোনও বয়স নেই৷ আমি আমার গ্র্যাজুয়েশন সম্পূর্ণ করতে পেরে খুব খুশি৷’’ বাবার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ছেলে হাজিম ফারুকও৷ তিনি বেলন, ‘‘আমি খুশি৷ বাবার কোনও সংশয় থাকলে আমি তার সমাধান করতাম৷ কারণ, আমি নিয়মিত ক্লাস করতাম এবং বাবা শুধুমাত্র সপ্তাহের শেষ দিনগুলিতে ক্লাস করতে পারতেন৷’’

বাবা-ছেলে জুটির সাফল্যে খুশি হাজিমের মা৷ এলাকাতেও নতুন ইতিহাস গড়লেন বাবা-ছেলে৷

Advertisement
----
-----