স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: নিজেদের এক বছরের কন্যা শিশুকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হল মা বাবা। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার সিমলাপালে৷ তাদের অশান্তির শিকার হতে হল ওই বছর খানেকের শিশুটিকে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়৷ স্থানীয়রা ওই দুই অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ অগাষ্ট, শনিবার সকালে সিমলাপাল সংলগ্ন শিলাবতী নদীতে মৎস্যজীবিরা মাছ ধরছিল৷ সেই সময় এক বছরের কন্যা শিশুকে উদ্ধার করেন তাঁরা। তারপর তাঁরা ওই শিশুটিকে নিয়ে যায় সিমলাপাল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে৷ সেখানে চিকিৎসকরা ওই শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ পরে তাঁরা জানতে পারে ওই শিশুটির নাম তানিষ্কা ওরফে প্রিয়া৷ তার বাড়ি সিমলাপাল বাজারেই।

Advertisement

আরও পড়ুন: হলদিয়া বন্দরের আবাসনের ছাদ ভেঙে আহত গৃহবধূ

বাড়িতে মা, বাবা, বৃদ্ধা ঠাকুমা ছাড়াও তার এক দিদি রয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয়দের কেউ কেউ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের দিকে বিশেষত ওই শিশুর মায়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছিলেন। সিমলাপাল থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার রাতে ওই শিশুর মা তাপসী চ্যাটার্জ্জী ও বাবা সঞ্জীব চ্যাটার্জ্জীকে গ্রেফতার করে।

পুলিশি জেরার ওই দু’জন তাদের খুনের কথা স্বীকার করেন। পাশাপাশি জেরায় উঠে আসে খুনের পিছনে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশী জেরায় ওই শিশুর মা তাপসী চ্যাটার্জ্জী জানান, ‘‘মেয়েকে বালতি করে নিয়ে গিয়ে শিলাবতী নদীর জলে চুবিয়ে মেরেছেন তিনি৷’’

নিহতের মা  তাপসীর দাবি, স্বামী সঞ্জীব চ্যাটার্জ্জী স্ত্রীর সঙ্গে অন্য পুরুষের বিবাহ বর্হিভুত সম্পর্কের রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন। এমনকি সঞ্জীব চ্যাটার্জ্জী নাকি মাঝে মধ্যেই দাবি করেন প্রিয়া তার মেয়ে না৷ প্রিয়াকে তাপসীর অবৈধ সন্তান বলতেন তিনি ৷ সঞ্জীব প্রায়ই তাপসীকে মানসিক নির্যাতন করত বলেও অভিযোগ৷

আরও পড়ুন: ১৬ বছরের কিশোরের বিয়ের ‘আবদার’ না মেটায় আত্মঘাতী

পুলিশ সূত্রে খবর, দিনের পর দিন মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তাপসী এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে ধৃত পুলিশি জেরায় স্বীকার করে সে৷ প্রিয়াকে জলে ভাসিয়ে দিলেও বাড়িতে আরও এক সন্তান থাকায় তিনি নিজে আত্মহত্যা করতে পারেননি বলে জানান তাপসী৷ মহিলার স্বামী ধৃত সঞ্জীব চ্যাটার্জ্জীর দাবি করেন নিহত প্রিয়া তার মেয়ে নয়। সত্য ঘটনা উদঘাটনের জন্য তিনি এদিন ডিএনএ টেস্টেরও দাবি জানান।

জেলা পুলিশ সুপার সুখেন্দু হীরা জানিয়েছেন, ‘‘নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ধৃতদের শুক্রবার খাতড়া মহকুমা আদালতে তোলা হয়৷

----
--