শিল্পের নামে নেওয়া অব্যবহৃত জমি ফেরাতে আন্দোলন ফব

বিজয় রায়, কলকাতা: সিঙ্গুর থেকে নন্দীগ্রাম৷ জমি আন্দোলনকে হাতিয়ার করেই রাজ্যের মসনদে বসেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এবার তাঁর মতো সেই জমি আন্দোলনকেই হাতিয়ার করতে চলেছে ফরওয়ার্ড ব্লক৷ বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়৷ সেই বৈঠকেই তিনি বলেন, শিল্পের নাম করে নেওয়া অ-ব্যবহৃত কৃষিজমি অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে৷ না হলে আগামী দিনে ‘তাঁর দেখানো পথেই ভুগতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷’

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন নরেনবাবু৷ সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৯৯৫টি সংস্থা দেশজুড়ে ব্যাপক কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে রেখেছে৷ তার মধ্যে কোথাও একসময় শিল্প হলেও এখন তা বন্ধ৷ আবার কোথাও শিল্প শুরুই হয়নি৷ এই ধরনের জমি সবচেয়ে বেশি মহারাষ্ট্রে রয়েছে বলে দাবি করেন নরেন চট্টোপাধ্যায়৷ এরপরেই রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য গুজরাত৷ আর তালিকায় তিন নম্বরে রয়েছে বাংলার নাম৷ এর কারণ হিসাবে ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক দাবি করেন, ‘‘এই সংস্থাগুলি বাজার বুঝতে পারেনি৷ তাই এখনও তারা ব্যবসা শুরু করছে না৷’’ এই প্রসঙ্গেই নরেনবাবু আরও বলেন, ‘‘এমন বেশ কিছু জমি রয়েছে যেখানে একসময় কারখানা ছিল৷ কিন্তু তা দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে পড়ে আছে৷ এই সব জমি যাদের থেকে নেওয়া হয়েছিল তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে সরকারকে৷’’

কিন্তু এর মধ্যে এমন বহু জমি আছে যা ব্রিটিশ আমলে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল৷ সেই জমি কি আদৌ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? এই বিষয়ে ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদকের বক্তব্য, ‘‘সিঙ্গুরে যে নিয়মে জমি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে সেই একই কায়দায় এখানেও জমি ফিরিয়ে দিতে হবে৷’’ এই বিষয়ে মে মাসের ১৭ ও ১৮ তারিখে এ রাজ্যের তিনশো বিডিও অফিসে দলের তরফে ডেপুটেশন দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি৷ তবে এই মুহূর্তে এ নিয়ে কোনও আইনি ঝামেলার পথে যে দল যাবে না এদিন সেই বিষয়টিও স্পষ্ট করে দেন নরেনবাবু৷ যদি সরকারকে বলে কোনও কাজ না হয়, তখন এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷

- Advertisement -

বিরোধী নেত্রী থাকার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দাবি করতেন, শিল্পের জন্য অধিগৃহীত পরিত্যক্ত জমিতেই শিল্প করতে হবে৷ এর জন্য নতুন করে কোনও কৃষিজমি নেওয়া যাবে না৷ তাহলে তাঁরই সরকার ছয় বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও সেইসব জমি আসল মালিকদের এখনও ফিরিয়ে দেওয়া হল না কেন, তা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন নরেন চট্টোপাধ্যায়৷

Advertisement ---
---
-----