বঙ্গের বরাদ্দ বস্তা বস্তা খাদ্যশস্য গড়াগড়ি খাচ্ছে হরিয়ানার রেললাইনে

হরিয়ানা: একদিকে যখন পাঞ্জাব সরকার রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার কাছে ২১ হাজার ১৫০ কোটি টাকার ঋণ চাইছে গমের বীজ কিনে গম চাষ করার জন্য তখনই অন্যদিকে হরিয়ানায় দু’কিলোমিটার রেললাইন জুড়ে মিলল বস্তা বস্তা গম৷ কোথাও বিমানবন্দর জুড়ে পড়ে আছে তাল তাল সোনা৷ কোথাও রেললাইন জুড়ে পড়ে রয়েছে বস্তা বস্তা গম৷ সোনা অবশ্য মিলেছে রাশিয়ার ইয়াকুৎসক বিমানবন্দরে৷ রানওয়ে জুড়ে ছড়িয়ে ছিল সেসব সোনা৷ কিন্তু অগুনতি গম ভর্তি বস্তা মিলেছে এদেশেই৷

হরিয়ানার সোণীপত জেলার গোহানায় রেল বিভাগের অবহেলা সামনে এসেছে৷ গোহানা রেল স্টেশন থেকে কিছুটা দূর থেকেই রেল লাইনের ধার বরাবর গম ভর্তি বস্তা প্রায় দু কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে৷ এত বস্তা গম এখানে কিকরে এল সেব্যাপারে কেউই কিছু বলতে পারছেন না৷ রেল বিভাগও জানেনা এই গমের বস্তা এল কোথা থেকে৷ এই সব গমের বস্তা ভারতীয় খাদ্য বিভাগের(এফসিআই) গোহানা এলাকার৷ গভীর রাতে সেই গম গোহানা স্টেশন থেকে গোহতকের রেললাইন ধরে রেলপথে মালগাড়িতে করে পশ্চিমবঙ্গে আসছিল বলে খবর৷ কিন্তু কি করে এই বস্তাগুলি রেল লাইনের ধারে এল তা নিয়ে তদন্তে নেমেছে রেল পুলিশ৷

মালগাড়ির ওয়াগন ভেঙে কয়লা ও বিভিন্ন জিনিস পাচার করার স্টাইল এরকমটাই হয় বলে ধারণা কারো কারো৷ মালগাড়ি চলতে থাকলে কেউ বা কারা সেই মাল নির্দিষ্ট এলাকায় ফেলতে থাকে৷ সেই মাল যাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা তারা চোরাপথে তুলে নিয়ে যায়৷ এক্ষেত্রে কি সেরকম কিছুই কি হয়েছে? প্রশ্ন উঠছে তা নিয়ে৷ যে রাতে ওই গমের বস্তা সরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল তা সরানো হয়নি বলেই কি দিনের আলোয় তা চোখে পড়ে গেল৷ আর চোখে পড়ে যেতেই কি চোরা কারবারিরা আর তুলতে পারলনা সেই বস্তা ভর্তি গম? প্রশ্ন কিন্তু উঠছে তা নিয়েও৷

রেলওয়ের ঠিকাকর্মী হরিওম এক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন গোহানায় শুক্রবার রাতে মালগাড়ি ভর্তি করে স্টেশন থেকে রাত প্রায় বারোটার কাছাকাছি সময়ে রোহতকের উদ্দেশ্যে রওনা করে দেওয়া হয়৷কিন্তু শনিবার সকালে খবর মেলে রেল স্টেশনের কিছুটা দূরেই বস্তা ভর্তি গম পড়ে রয়েছে৷ এরপরই তিনি এই খবর জানান বিভাগীয় আধিকারিকদের৷ তিনি রেল পুলিশকেও খবর দেন বলে জানিয়েছেন৷ ঠিকাদারের কথায় এইসব গমের বস্তা চোরেরাই মালগাড়ি থেকে নামিয়েছে৷ তিনি আরও জানান এরকম ঘটনা এই এলাকায় আগেও কয়েকটি ঘটেছে৷

রেল লাইনে ডিউটিরত এক রেল কর্মচারী জানিয়েছেন রাতে কোনও অজানা কারণে মালগাড়ি প্রায় ২০ মিনিট মত দাঁড়িয়ে পড়ে রেল লাইনে৷ এই খবরও তিনি তাঁর উচ্চ কর্তৃপক্ষকে দিয়েছিলেন৷ অন্যদিকে জানা গিয়েছে এফসিআই এর এক হোমগার্ড জানিয়েছেন এই গোটা ঘটনার খবর জিআরপি এবং বিভাগীয় কর্মচারীদের জানান কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও কারও দেখা মেলেনি৷

এই ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছন গোহানার এফসিআই আধিকারিক অনুপ সিং৷ তিনি জানিয়েছেন “গোহানা থেকে এফসিআই এই গম কেনে৷ এই সরকারী গমের ৬৫ হাজার ৭৯৪ টি বস্তা গভীর রাতে মালগাড়িতে করে পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছিল৷” তিনি এই পুরো মালের দায়িত্ব রেলওয়ের উপর ছেড়ে দিয়েছিলেন৷ তিনি আরও জানান “এর পরের দায়িত্ব রেল দফতরের৷ এই বস্তাগুলি এখানে কি করে এল তা অনুসন্ধান করা রেল দফতরের কাজ৷”
ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছন জিআরপি আধিকারিক জসমের সিং৷ তিনি জানান, “তদন্ত চলছে৷ তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে এত বস্তা সরকারি গম রেল লাইনের ধারে দুর্ঘটনাবশত পড়েছে নাকি কেউ চুরির চেষ্টা করেছে৷”

আপাতত যা পরিস্থিতি তাতে বোঝা যাচ্ছে এই ঘটনায় প্রত্যেকেই একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে নিজের গা বাঁচাতে চেষ্টা করে চলেছে৷ কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এরকম ঘটনা যদি আগেও ঘটে থাকে তাহলে রেল দফতর তার পরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি করেনি কেন? প্রশ্ন আরও ওঠে৷ সরকারি গম পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছনোর পথেই এত গুলো বস্তা গায়েব হয়ে যাওয়ার পর সরকারি হিসেব মেলানো হবে কিকরে?

রাতের অন্ধকারে ওই বস্তাগুলি যদি সরে যেত দিনের আলো ফোটার আগেই সেক্ষেত্রে সরকারি হিসেব এ গড়মিল তো পশ্চিমবঙ্গে গম পৌঁছনোর পর ধড়া পড়ার কথা৷ প্রশ্ন এও উঠছে মালগাড়ি স্টেশন থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর মাঝরাস্তায় ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে পড়ল কেন? সেখবর রেল পুলিশ ও উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে জানান হলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছতে কর্তৃপক্ষের এত দেরি কেন হল? এসব প্রশ্নেরই উত্তর পাওয়া বাকি রয়েছে৷

----
-----