ছাত্রীদেরকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ পরিচালক প্রেমাংশু রায়ের বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার, পূর্ব বর্ধমান: শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠলখ্যাতনামা চিত্র পরিচালক এবং নাট্য প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধেই৷ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানে বিখ্যাত পরিচালক তথা প্রশিক্ষক প্রেমাংশু রায়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ৷ বর্ধমানের রবীন্দ্রভবনে তিনি নাট্য প্রশিক্ষণের কাজে যুক্ত ছিলেন৷ সোশ্যাল সাইটে প্রতিবাদ শুরু হলে বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাট্যকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে৷ নবান্নর নির্দেশে প্রেমাংশুকে তাঁর পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়৷

মিনার্ভা নাট্যচর্চা কেন্দ্রের উদ্যোগে বর্ধমানে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে৷ ছাত্রীদের অভিযোগ, রবীন্দ্র ভবনে নাট্য প্রশিক্ষণশালায় মদ্যপান নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি নিয়মিত মদ্যপান করতেন৷ এমনকি মদ্যপ অবস্থায় মহিলাদেরকে নানান অপ্রীতিকর প্রস্তাব দিতেন বলেও অভিযোগ জানালেন এক অভিনেত্রী৷ এমনকি ব্রাত্য বসুর নাম করে চলত ভয় দেখানো৷

নাট্যকর্মীদের অভিযোগ, গত দুদিন ধরে প্রেমাংশু মদ্যপ অবস্থায় এক অভিনেত্রীকে রাতে কুরূচিকর প্রস্তাব দিতে শুরু করে৷ এমনকি, মিনার্ভাতে কাজ পাইয়ে দেওয়ারও আশ্বাস দেয় প্রেমাংশু৷ তবে, তার বদলে একরাত তার সঙ্গে থাকতে হবে এমনই একটি চুক্তি রাখে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন ওই অভিনেত্রী৷ শুধু তাই নয়৷ ছাত্রীদেরকে ফোন করে আবার কখনও দরজায় ধাক্কা দিয়ে ছাত্রীদেরকে ডাকছিলেন বলেও অভিযোগ৷ রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ও মিনার্ভা নাট্য চর্চার ব্যবস্থাপনায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের নির্দেশে মিনার্ভা ৩ জন প্রশিক্ষককে পাঠায়। অভিযোগ ওঠে এই প্রশিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম প্রেমাংশু রায়ের বিরুদ্ধে। রাজ্য নাট্য চর্চার ক্ষেত্রে তার নামডাকও রয়েছে। প্রেমাংশু কাটাকুটি, চিলেকোঠা সহ বেশ কয়েকটি বাংলা ছবিও পরিচালনা করেছেন।

- Advertisement -

জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর সূত্রের খবর, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষিতদের সকলেরই রাতে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বর্ধমান ভবনে। দুই বর্ধমান ও বীরভূম জেলার মোট ২১ জন ছাত্র ছাত্রী নাট্য কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন। তার মধ্যে ৭ জন ছাত্রী রয়েছেন। এই ঘটনায় অপমানিত ও ক্ষুব্ধ ছাত্রীরা নাট্য কর্মশালার কোঅর্ডিনেটর সুকুমার ঘোষকে গোটা বিষয়টি জানান। পরে অন্যান্যদেরও বিষয়টি জানান তাঁরা। এদিকে, প্রেমাংশুবাবুর এই ডাকে সাড়া না দিয়ে উল্টে ছাত্রীরা প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন। আর ছাত্রীদের সমবেত প্রতিবাদের জেরে বুধবার রাতেই বর্ধমান ভবন থেকে পালিয়ে যান প্রেমাংশু। এই ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।

জানা গিয়েছে, এই ঘটনার পরই প্রেমাংশু রায়কে আর কর্মশালায় অংশ নিতে দেওয়া হয় নি। ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, নাট্যকার তথা রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নাম নিয়ে প্রেমাংশুবাবু বলেন, কলকাতায় গেলে দেখে নেওয়া হবে। এদিকে, প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে এই অভিযোগ পাবার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসনিক মহল। নবান্ন থেকে কাজল ভট্টাচার্য, গোবিন্দ দাস প্রমুখরা ছুটে আসেন বর্ধমান রবীন্দ্রভবনে। ছুটে যান জেলা তথ্য সংস্কৃতি আধিকারিক কুশল চক্রবর্তী। তারা আলাদাভাবে কথা বলেন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে। বর্ধমান জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক কুশল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এদিন ঘটনার খবর পেয়েই তাঁরা সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ছাত্রীরা প্রেমাংশুবাবুর বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণ শেষ করেই তারা যাবেন। কার্যত প্রেমাংশুবাবুর বিরদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস পাওয়ায় এদিন তারা আর লিখিত অভিযোগ করেননি। কুশলবাবু জানিয়েছেন, এই ঘটনায় গোটা বিষয়টি নিয়ে তাঁরা রিপোর্ট দেন রাজ্য দপ্তরে। তারপরেই রাজ্য তথ্য দপ্তর থেকে প্রেমাংশু রায়কে রাজ্য সরকার প্রদত্ত সমস্ত রকম নাট্য কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর চিলেকোঠা সিনেমার পরিচালক তথা অভিযুক্ত নাট্য প্রশিক্ষক প্রেমাংশু রায় ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার না করলেও তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, ” …… যারা আমার সাথে কাজ করেছেন তারা জানেন , আমি ভীষন ইয়ার্কি করতে করতে কাজ করি। সেই ইয়ার্কি গুলোও এদের সাথে করা আমার উচিত হয়নি । কারন, এদের অনেকের সেই ইয়ার্কি গুলো নেবার মন তৈরী হয়নি , সেটা আমি বুঝতে পারিনি! সেই ইয়ার্কি গুলো থেকে যে আসলে ওদের কিছু জনের ভীতরে বারুদ জমা হচ্ছিলো সেটা আমি আঁচ করতেই পারিনি! আসলে, বাকি অধিকাংশ ছেলে / মেয়ে রা (যারা ফেসবুক লাইভে ছিলো না) ওই ইয়ার্কি গুলো খুবই উপভোগ করতো , তাই আমি বুঝতে পারিনি। আমি ক্ষমা প্রার্থী! …”

Advertisement
---