রিলের দুনিয়ায় অনেক আগেই ডানা মেলেছিল ‘ওঁদের’ ভালবাসা

কলকাতা:  সময়টা ১৮৬২ সাল৷ তৈরি হল ৩৭৭ ধারা৷ যে ধারা অনুযায়ী প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধাচারণ করে যদি কেউ যৌন সংসর্গে লিপ্ত হন, তাহলে তা অপরাধ৷ এক কথায় সমকামিতা আইনের চোখে অপরাধ৷ দেড়শো বছরেরও বেশি পুরোনো এই নিয়মের পরিবর্তন হয়ত অবশ্যম্ভাবী ছিল৷ তবে লড়াইয়ের পথটা মোটেও সহজ ছিল না৷ কিন্তু সমকামী লড়াই এখন ইতিহাস৷ সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট রায়, সমকামীতা অপরাধ নয়৷ সমকামীতার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারাও বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট৷

রায়ের শেষে সমকামী, এলজিবিটি কমিউনিটির কাছে ক্ষমা চান প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ৷ ১৮৬১ সাল থেকে চলা নিয়মকে গ্রাহ্য মেনেই সমকামীদের সমাজে নানারকম অসম্মানের মুখে পড়তে হয়েছে৷ অনেকেই আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন৷ সমকামী- যে আসলে স্বাভাবিক যৌন প্রক্রিয়া তা মেনে নিতে পারেনি সমাজ৷ সেই মেন নিতে না পারার রক্ষণশীলতাই আজ মুখ থুবরে পড়ল৷ জয় হল মানবাধিকারের,বিস্তৃত হল ভালোবাসার অধিকারও৷

- Advertisement -

সমকামীদের লড়াইয়ে পাশে ছিল সিনেজগতও৷ সিনেমার মাধ্যমে বারে বারে মানুষকে বোঝানোর প্রচেষ্টা চলেছে যে সমকামীতা সাধারণ৷ আর পাঁচ জনের মতো এলজিবিটি কমিউনিটিরও স্বীকৃতি পাওয়া উচিত৷ সেসব কথ কেবল রয়ে গিয়েছিল ছবির পর্দায়৷ যে মেসলেজ নিয়ে ছবিগুলি তৈরি হয় তা যেন কোন মতেই মানুষের মন ছুঁতে পারল না৷ উল্টে যৌনতার গন্ধ পেল ছবিতে৷ সেটাইকেই পয়েন্ট অফ ইন্টারেস্ট বানিয়ে ফেলেছিল নাবালক সমাজ৷ ধিক্কারে ভরে গিয়েছিল সেই সেলেব্রিটিদের জীবন৷ দীপা মেহেতার ‘ফায়ার’ সিনেমায় অভিনয় করে অসম্ভব নিন্দার শিকার হয়েছিলেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি৷ ‘বড়ো মাপের অভিনেত্রী হয়ে এমন নিম্ন মানের কাজ করলেন কীকরে’

অভিনেত্রী নন্দিতা দাসের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে এমনই কথা বিভিন্ন মহল থেকেই উঠে এসেছিল কে৷ এ ধরণের মানসিকতা নিয়েই আমাদের বাস৷ সারাটা জীবনই হয়তো এড়িয়ে যেতে হবে এই ধরণের কথা বার্তা৷ তেমনই এই মন্তব্যগুলোকেও পেছনে ফেলে শাবানার পাশাপাশি নিজেকে সিনেমার পর্দায় মেলে ধরেছিলেন অসংখ্য অভিনেত্রী৷ রিলের দুনিয়ায় কোনও গণ্ডিতে আটকে রাখেননি নিজেদের৷ তা সে পটৌডি বেগম করিনা কাপুর খাম হোক বা কালকি কোয়েকলিন৷ মধুর ভান্ডারকরের সিনেমা ‘হিরোইন’এ করিনার এবং সাহানা গোস্বামীর একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য বেশ চর্চিত হয়েছিল৷

আরও পড়ুন: কাপুর পরিবারের নতুন সদস্য ‘লিটল শাহিদ’

অন্যদিকে ‘মার্গারিটা উইথ আ স্ট্র’এ সায়নী গুপ্তর সঙ্গে কালকির সম্পর্ক নিয়েও সেন্সর বোর্ডে সমস্যা তৈরি হয়েছিল৷ ধক ধক গার্ল মাধুরী দিক্ষীতও সমকামীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ‘দেড় ইশকিয়া’তে৷ সেই নিয়েই ঘুরেছিল গল্পের মোড়৷

রুদ্র এবং পার্থর কথা আজও কেউ ভোলেনি৷ তাঁদের ভালবাসা চিরকাল ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকলেও স্বিকৃতি পেল আজ৷ ঋতুপর্ণ ঘোষের পরিচালনা জীবনে ‘চিত্রাঙ্গদা’ সেরা ছবি হিসেবে ধরা হয়৷ সেই ছবিতে রুদ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকায় ছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ৷ সমকামী লড়াই নিয়ে তিনিও সামিল হয়েছিলেন এলজিবিটি কমিউনিটিতে৷ প্রতীক্ষার অবসান৷ সমকামীতা আর অপরাধ নয়৷

Advertisement
---