যোগ্য জবাব! চিনের শরীর ঘেঁষে রেলপথ তৈরির সবুজ সঙ্কেত দিয়ে দিলেন মোদী

নয়াদিল্লিঃ  চিনের হুমকি কানে তুলল না ভারত! বেজিংয়ের হুমকি অগ্রাহ্য করেই অরুণাচল প্রদেশের ভালুকপং থেকে বমডিলা হয়ে তাওয়াং পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের সমীক্ষার সবুজ সঙ্কেত দিলেন মোদী।  প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে এই তাওয়াং রেলপথ তৈরি করছে ভারত।  আর এই রেলপথ তৈরি করা নিয়ে চিনের হুমকি মুখে পড়ে ভারত।

যাতে বিতর্কিত এই এলাকায় এই রেলপথ তৈরি করা না হয় এজন্যে ভারতকে একাধিকবার হুমকি দেয় লালচিন।  কারণ তাওয়াং পর্যন্ত ভারতের রেল পরিকাঠামো নির্মাণ হওয়ার অর্থ আরও বেশি করে চিনের একেবারে নাকের ডগায় ভারতের রেলপথ পৌঁছে যাবে।  আর যে তাওয়াংকে চিন দক্ষিণ তিব্বত দাবি করে নিজেদের মানচিত্রের অঙ্গ হিসাবে দাবি করে চিন, তারও একটা কড়া জবাব দেওয়া যাবে বলে মনে করছে ভারত।  কিন্তু চিনের হুমকির মুখে পড়ে একটু হলেও চাপে ছিল ভারত।  কিন্তু সমস্ত ভয় উড়িয়ে দিয়ে এই রেলপথ তৈরির জন্যে সমীক্ষার কাজ শুরু করে দিল ভারত।

একটি নয়, তিনটি রেলপথের সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে ভারতীয় রেল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রক যৌথভাবে।  বাকি দুটি হল অরুণাচল প্রদেশেরই আলো এবং পরশুরামকুণ্ড।  এর মধ্যে যদিও সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল তাওয়াং।  ভালুকপং থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দূরত্বের তাওয়াং রেলপথ চালু হলে লালচিনকে রীতিমত চাপে রাখবে।  তিব্বতের লাসা এবং শিগৎসে সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করে চিন এর আগেই ভারতকে একপ্রকার কঠোর বার্তা দিয়েছে।  শিগৎসে হল উত্তর সিকিমের একেবারে গা ঘেঁষে।

- Advertisement DFP -

একদিকে যেমন লাসা পর্যন্ত বিশ্বের উচ্চতম রেলপথ নির্মাণ আবার অন্যদিকে পাকিস্তানের বালুচ প্রদেশের মধ্যে দিয়ে অর্থনৈতিক করিডর।  পাকিস্তানের গদর, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমারে বন্দর পরিকাঠামো।  এভাবে ধিরে ধিরে ভারতকে রীতিমত ঘিরে ফেলছে চিন।  আর সেই প্রেক্ষিতে ভারতের পালটা তাওয়াং পর্যন্ত রেলপথ তৈরির পরিকল্পনা যোগ্য জবাব বলেই মনে করা হচ্ছে।

চিনেরতাওয়াংকে আরও বেশি করে ভারতের মূলস্রোতের পরিবহণ পরিকাঠামোর আওতায় নিয়ে আসাই এর অন্যতম লক্ষ্য।  কিন্তু পরোক্ষ যে উদ্দেশ্যটি সাধিত হবে সেটি হল, ভারতীয় সেনার মুভমেন্ট এই ট্রেনপথ চালু হলে অনেক দ্রুত আর আগ্রাসী হবে।  আর সেটা‌ই চিনের আশঙ্কা।  ঠিক এই কারণে চিন ইতিমধ্যেই আপত্তির সুর চড়া করেছে।  তাওয়াং পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করে ভারত যেন সীমান্ত চুক্তি সংক্রান্ত সমঝোতার কথা ভুলে না যায় সেরকমই হুঁশিয়ারি চিনের বিদেশমন্ত্রক দিয়েছে।

তাঁরা লিখিত বিবৃতিতে বলেছে, তাওয়াং নিয়ে চিনের অবস্থান ভারত খুব ভালোভাইে জানে।  সুতরাং সেটি মাথায় রেখেই সেখানে কোনও পরিকাঠামো গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।  কারণ এভাবে ভারত যদি কোনও ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাহলে সীমান্ত সমস্যা মেটার থেকে আরও বেড়ে যাবে।  সুতারং ভারত যেন সংযত হয়।  এই হুঁশিয়ারি উড়িয়েই রেলের রাষ্ট্রমন্ত্রী মনোজ সিনহা ও একঝাঁক রেল কর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সমীক্ষার কথা ঘোষণা করার পর মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আজ থেকে শুরু হয়েছে সমীক্ষার কাজ।

Advertisement
----
-----