মহিলার বিরুদ্ধে ফতোয়া দেওয়ায় ইমামের নামে FIR

লখনউ: তিন তালাকের শিকার মহিলাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল শাহি ইমামের বিরুদ্ধে। পুলিশের কাছে দায়ের হল লিখিত অভিযোগ। শাহি ইমামের সঙ্গে আরও দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হল বারেলি এলাকার শাহি ইমাম মুফতি মহম্মদ খুরশিদ, মুফতি আফজল রিজভি এবং শিরান রাজা খান। বুধবার এদের বিরুদ্ধে বড়দারি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন- ফতোয়া বন্ধের দাবিতে মোদীর দ্বারস্থ তিন তালাকের শিকার মহিলা

ঘটনার সূত্রপাত তিন তালাকের শিকার নিদা খানের উপরে জারি হওয়া ফতোয়ার উপরে ভিত্তি করে। ওই মহিলার অভিযোগ, তালাকের পরে ফের সংসারে ফেরার জন্য তাঁকে নিকা হালালার জন্য চাপ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ অমান্য করলে তাঁকে একঘরে করে দেওয়ার ফতোয়া দেয় ইমাম মুফতি মহম্মদ খুরশিদ।

আরও পড়ুন- অঙ্গদান করতে চেয়ে ফতোয়ার সম্মুখীন মসুলিম যুবক

এরই প্রতিবাদে সর্ব হয়েছেন নিদা খান। তিনিই ওই তিন জনের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রাজা খান আবার নিদার স্বামী। যে তিন তালাক দেওয়ার কারণেই এই প্রতিকূলতা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন- বিজেপি-র হিন্দুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মমতা

উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুর এলাকার বাসিন্দা নিদা খান। তিন তালাক প্রথার কারণে তাঁর সংসার ভেঙেছে। এই প্রথা যে কতটা মারাত্মক তা তিনি বিলক্ষণ জানেন। এই ভয়ঙ্কর প্রথা সমাজের পক্ষেও যে ক্ষতিকারক সেটিও তিনি বেশ ভালোই বোঝেন। এই রেওয়াজ চিরতরে নির্মূল হওয়া উচিত বলেই মনে করেন নিদা খান। তাঁর কথায়, “তিন তালাক এবং এই নিয়ে জারি করা হয় ফতোয়া। এই সকল রীতি বন্ধ হওয়া দরকার।”

আরও পড়ুন- বাবরকে গোরক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন হুমায়ুন, দাবি বিজেপি নেতার

এই প্রতিকূল সমস্যার স্থায়ী এবং সুস্থ সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন নিদা খান। তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়ে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, “নিয়ম মেনে আগাম আবেদন করেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করব। এবং তাঁর কাছে আবেদন জানাব তিন তালাক বা ফতোয়া সংস্কৃতি দূর করতা কড়া আইন নিয়ে আসার জন্য।”

আরও পড়ুন- ‘তাজমহল তুমি কার?’

তিন তালাক নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। এই রেওয়াজ কতটা ইসলামিক তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এনডিএ পরিচালিত কেন্দ্র সরকার এই প্রথা উঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করলে তা নিয়েও তৈরি হয় জটিলতা। যদিও তিন তালাকের শিকার হওয়া মহিলারা এই রীতি বন্ধের পক্ষেই আওয়াজ তুলেছেন।

----
-----