সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে ফাটানো হল দেদার শব্দবাজি। ঘটনাস্থল রবীন্দ্র সরোবর লেক। উপলক্ষ্য ‘ছট পুজো’। পুলিশ সেই সব দৃশ্য দেখল নির্বিকার চিত্তে। আর কেএমডিএ কর্মীরা বাজি রুখতে ছুটে বেড়ালেন। খেলেন নাকানিচোপানি।

কার্যত চোখে ঠুলি পড়ে বসে রইলেন সরোবর থানার বড়বাবু। বললেন , ‘ঠিক আছে। ঠিকই আছে।” তাঁর কথা অনুযায়ী, শব্দবাজি ফাটানো বিষয়টা সঠিক কাজ। তাই তাঁর বাধা দেওয়া কিছু নেই। ছট পুজোয় এমনই বেলাগাম রইল পুলিশ প্রশাসন।

আরও পড়ুন: ভুয়ো খবরের নেপথ্যে জাতীয়তাবাদী শক্তি: বিবিসি

পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত দুপুর থেকে অনেক থানা পুলিশ করলেন। লেক চত্বরে গেলেন। কিন্তু তিনিও কিছু করতে পারলেন না। বললেন, “আজ কাজ হয়নি। পড়ে হবে। দরকার হলে আদালতে যাব।” কিন্তু কে কার কথা শোনে!

প্রশাসন যেখানে বাঁধনছাড়া সেখানে পরিবেশপ্রেমী সত্যিই কিছু করনীয় থাকে না। যদি গ্রিন ট্রাইব্যুনালের এক বছর আগের সেই রায়ের দিকে আরও একবার নজর দেওয়া যায়, সেখনে স্পষ্ট ভাবে বলা রয়েছে, দিনের বেলায় রবীন্দ্র সরোবরে কোনও অনুষ্ঠান করতে গেলে অবশ্যই সেখানে অনুমতি নিতে হবে।

আরও পড়ুন: ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলে অন্তত ৪২ জনের মৃত্যু

কিন্তু অনুমতি মিললেও সেখানে কোনওরকম শব্দবাজি ব্যবহার করা যাবে না। লোক সমাগম হলেও সেটা মাত্রাতিরিক্ত যেন না হয়। এখানে কোনও নিয়মই মানা হল না। ট্রাইবুনালকে বুড়ো আঙুল দেখাল জনতা। ফাটানো হল চকোলেট বোমা, দোদমা, লঙ্কাপটকা থেকে শুরু করে যতরকম শব্দবাজি হয় সমস্ত। বাচ্চা থেকে বড় প্রত্যেকের হাতে রইল শব্দবাজি এবং ধুপ। পুলিশের সামনেই তাঁরা ফাটালেন সেই সব বাজি।

নুন্যতম বারন করার জন্যও এগিয়ে এলো না পুলিশ। পুলিশের এক কনস্টেবল বললেন, “অনেক কিছুই তো হচ্ছে। জানি ভুল হচ্ছে। কিন্তু আমাদের হাত বাঁধা। উপর থেকে অর্ডার না এলে আমাদের নিজে থেকে কিছু করার ক্ষমতা নেই।” ছিলেন সরোবর থানার সাব ইনস্পেক্টর। তিনি বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

আরও পড়ুন: মুক্তি পেল দারিভিটে কাণ্ডে গ্রেফতার আট

চোখের সামনে ঘটছে ঘটনা। আর কবে ব্যবস্থা নেবেন তাঁরা? উত্তর এল, “আমরা কবে কি আইনি ব্যবস্থা নেব সেটা আপনাকে বলব নাকি?”

এলাকা কেএমডিএ-র দায়িত্বে পড়ে। কেএমডিএ ভলিন্টিয়াররা কাজ করার চেষ্টা করছিলেন। কয়েকজনের হাত থেকেই শব্দবাজি কেড়ে নিলেন। ফেলে। বকাঝকাও করলেন। কিন্তু তাঁদের অবস্থা শোচনীয়। বিশাল এলাকায় এক জায়গায় তাঁরা যখন শব্দবাজি ধরছেন তাঁদের ঠিক পিছনেই দুম করে এক চকোলেট বোমা ফাটল। ভলিন্টিয়ার কাঁচুমাচু মুখ করে বললেন, “আমাদের সামনে কিছু দেখলে ধরছি। কিন্তু আমাদের পিছনে…!”

আরও পড়ুন: এবার বন্দুকবাজের হানা লন্ডনে

----
--