গড়িয়াহাটের পুড়ে যাওয়া বহুতলে শুরু হল চোরেদের আনাগোনা

সোয়েতা ভট্টাচার্য, কলকাতা: বিধ্বংসী আগুনের রেষ কাটতে না কাটতেই গড়িয়াহাটের বহুতলের আবাসিকদের রাতের ঘুম কেড়েছে চোরেদের উৎপাতে। শনিবার রাতের এই অগ্নিকাণ্ডের পর যথেষ্ট বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে এই বহুতলটি মলে মনে করছেন আবাসিকরা।

অগ্নিকান্ডের জেরে বহুতলে বিদ্যুৎ এবং জলের ব্যবস্থা নেই এখন। সেই কারণেই বেশিরভাগ আবাসিকদের এখন থাকতে হচ্ছে আত্মীয় বা পরিচিতিদের বাড়িতে। তারই মধ্যে অভিযোগ উঠছে এই বহুতলে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে চুরির ঘটনা ঘটছে। থানায় এখনও অভিযোগ দায়ের না হলেও এই বিষয়ে আবাসিকরা কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।

বহুতলের এক আবাসিক পৌলমী গঙ্গোপাধ্যায় জানান যে বাধ্য হয়ে তাঁকে পরিবার সহ এই বাড়িতেই থাকতে হচ্ছে। তার উপর আবার চোরেদের আনাগোনা জানতে পেরেই তারা দিশেহারা। তার উপর তলার ফ্ল্যাটেই তালা ভেঙ্গে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। একথা শুনে বাড়ি একদম ফাঁকা রেখে চলে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

এই ঘটনার পর থেকে তাদের পুরো পরিবারে চিন্তার বাজ ভেঙ্গে পরেছে। তিনি বলেন ঘটনার দিনে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন তারা। তার বৃদ্ধ শ্বশুরমশাই কে স্ট্রেচারে করে নামানো হয়েছিল। তবে তার ক্ষোভ যদি প্রথম থেকে সতর্ক থাকা যেত তাহলে হয়ত এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল।

এই আবাসিকদের দাবি হকারদের অনেকবার প্লাস্টিক ব্যবহার না করার বিষয়ে বলা হয়েছে। তবে কোনও লাভই হয়নি।

অন্যদিকে এই আবাসনের আবাসিক রাজা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনার দিনে তার পরিবারের সঙ্গে পুরুলিয়ায় বেরাতে গিয়েছিলেন। তবে শনিবার রাতে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনার খবর পেতেই তড়িঘড়ি কলকাতায় ফিরে আসেন।তিনি জানান এর মধ্যেই অনেক বহিরাগতরাই বহুতলে উঠে আসছেন।

পুড়ে যাওয়া বহুতলটিতে ঢুকে উঁকিঝুঁকি মারছে। তার মধ্যেই ঘটে যাচ্ছে চুরির ঘটনাও। তিনি বলেন এই ঘটনার জেরে তার ঘরের অনেকটা ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি সামলেতে লক্ষ লক্ষ টাকা বেরিয়ে যাবে বলে জানান এই আবাসিক।

কবে আবার স্বাভাবিক ছন্দে এই বহুতলটি ফিরবে তাও পুরোপুরি অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন তাঁরা। তাঁদের সাজানো সংসার যেন নিমেষের মধ্যে শেষ হয়ে গেল। এই ভাবে অন্য কারুর বাড়িতে থেকে কত দিনই বা কাটাবেন তারা কিছুই বুঝতে পারছেন না। এখনও যেন শনিবার রাতের ভয়াবহ ঘটনার তাপ তারা অনুভব করছেন এই আবাসনে। এই কালো স্মৃতি কবে তাদের পিছু ছাড়বে সেই দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন এখন এই আবাসিকরা।

---- -----