তিন ব্যক্তির ডিএনএ থেকে জন্মালো শিশু, চিকিৎসা বিজ্ঞানে আলোড়ন

নিউইয়র্ক : তিন ব্যক্তির ডিএনএ থেকে জন্ম হল এক শিশুর। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই প্রথম এমন উপায় ব্যবহার করে শিশুর জন্ম দেওয়া হল। তিন ব্যক্তির ‘ফার্টিলিটি স্ট্র্যাটেজি’ এক অভিনব কৌশলে ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এই শিশুটির জন্ম দেন। এই বিশেষ পদ্ধতির নাম মাইট্রোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন। এই শিশুটির জন্মের পেছনে তাদের পিতা মাতা ছাড়াও আরও একজনের অবদান ছিল। নবজাতক শিশুটি একটি ছেলে বলে জানা গিয়েছে।

শিশুটির মা জর্ডানের নাগরিক। মায়ের জিন কিছু ত্রুটি পাওয়া যায়। চিকিৎসকরা জানান শিশুর জন্ম স্বাভাবিক পদ্ধতিতে হওয়া সম্ভব নয়। শিশুর জন্ম ত্রুটিমুক্ত করতেই এই বিশেষ পদ্ধতিকে বেছে নেন আমেরিকার চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গিয়েছে শিশুটির শরীরে স্বাভাবিকভাবেই ছিল না তার মা ও বাবার ডিএনএ। তৃতীয় দাতা এক ব্যক্তির কাছ থেকে ছোট্ট একটি জেনেটিক কোড নিয়ে সেটি তার শরীরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এই শিশুর জন্ম চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তারা বলছেন, যেসব পরিবারে জেনেটিক ত্রুটি বা সমস্যা আছে বিজ্ঞানের এই আবিষ্কার তাদেরকে সাহায্য করতে পারে। তবে পাশাপাশি এও তাঁরা জানিয়েছেন তারা বলছেন, এই কাজটি করার আগে বহু জিনিস পরীক্ষা করে নেওয়া খুব জরুরি।

প্রসঙ্গত মাইট্রোকন্ড্রিয়াল ডোনেশনের প্রক্রিয়া নিয়ে নব্বইয়ের দশকে কাজটি হলেও তা সফল ভাবে কার্যকরী হল এই প্রথম। প্রত্যেক কোষের ভেতরে থাকে ছোট্ট একটি কম্পার্টমেন্ট যাকে বলা হয় মাইট্রোকন্ড্রিয়া। এই মাইট্রোকন্ড্রিয়া খাদ্য থেকে জ্বালানী তৈরি করে। কোন কোন নারীর মাইট্রোকন্ড্রিয়াতে জেনেটিক ত্রুটি থাকে এবং সেটা তাদের সন্তানদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে পারে। জর্ডানের এই পরিবারটির যে ত্রুটি ছিলো তার নাম ‘লেই সিন্ড্রোম।’ এবং এই ত্রুটির ফলে শিশুটির মৃত্যুও হতে পারতো। সেই ত্রুটি সংশোধন করেই জন্ম হয় এই শিশুর।

- Advertisement -

এই প্রক্রিয়ায় চিকিৎসকরা মায়ের ডিম্বাণু থেকে গুরুত্বপূর্ণ সব ডিএনএ সংগ্রহ করেন। এরপর ডিম্বাণু থেকে গুরুত্বপূর্ণ সব ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি দাতার ডিম্বাণু থেকেও স্বাস্থ্যকর মাইট্রোকন্ড্রিয়া সংগ্রহ করা হয়। এই দুটোকে নিষিক্ত করা হয় পিতার শুক্রাণুতে। তারপরেই হয় শিশুর জন্ম। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করার পর জন্ম হয় এই নবজাতকের। চিকিৎসকরা এও জানিয়েছেন শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। এখনও পর্যন্ত তার শরীরে কোন ত্রুটি ধরা পড়েনি।

Advertisement
---