কলকাতা: প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে অভিষেককারী অ্যাকোস্টার পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা গোল ও বিরতিতে সাজঘরে সুভাষ ভৌমিকের পেপটক। তাতেই দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদের একের পর এক আক্রমণে নড়ে গেল মোহনবাগান রক্ষণ। যদিও পিছিয়ে থেকে ম্যাচে ফিরে এসে জয় তুলে নেওয়া হল না ইস্টবেঙ্গলের। মরশুমের প্রথম বড় ম্যাচ অমীমাংসিত রইল ২-২ গোলে।

আরও পড়ুন: ড্র’য়ে নিস্পত্তি বাঙালির ফুটবল মহাযুদ্ধ

রবিবাসরীয় যুবভারতীতে দ্বিতীয়ার্ধ যদি লেখা থাকে ইস্টবেঙ্গলের নামে, তাহলে প্রথমার্ধ অবশ্যই মোহনবাগানের। যে মোহনবাগানের দাপটে প্রথমার্ধের ৩৫ মিনিট গোলের জন্য পজিটিভ কোন মুভ তৈরি করতে পারলেন না ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। শংকরলালের স্ট্র্যাটেজির সামনে তখন অনেকটাই ফিকে দেখাচ্ছিল সুভাষের গেমপ্ল্যানকে। বাগান ফুটবলারদের পায়ে তখন বল মানেই ত্রাহি ত্রাহি রব লাল-হলুদ রক্ষণে৷

আরও পড়ুন: বড় ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ডাগআউটে চমক

ম্যাচের ১৯ মিনিটে দুরন্ত টিমগেমের ফসল তুলে ম্যাচে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। অরিজিৎ বাগুইয়ের সেন্টার থেকে বক্সের মধ্যে ফাঁকায় গোল করে যান পিন্টু মাহাতা। মোহনবাগান আক্রমণে কার্যত দিশেহারা ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ ফের ভুল করে বসে দশ মিনিট বাদে। ম্যাচে দ্বিতীয়বারের জন্য এগিয়ে যায় মোহনবাগান। দ্বিতীয় গোল যেন প্রথম গোলেরই কার্বন কপি। ফের অরিজিৎ বাগুইয়ের ঠিকানা লেখা সেন্টার থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হেনরি কিসেকা। বড় ম্যাচে তখন অনেকটাই ব্যাকফুটে লাল-হলুদ শিবির।

আরও পড়ুন: টিকিটের চাহিদা বৃদ্ধির জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতিত্ব দিলেন ইস্টবেঙ্গল কর্তা

মাঝমাঠে বেশ নিষ্প্রভ আমনা। বিগত ম্যাচগুলোতে যে উইং-প্লে’র ফুল ফুটিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল, প্রথমার্ধে তা উধাও৷ অভিষেক ম্যাচে প্রথম দিকে জড়তা কাজ করছিল বিশ্বকাপার অ্যাকোস্টার মধ্যেও। ডিপ ডিফেন্সে হঠাৎ পরিবর্তন হওয়ায় বোঝাপড়ার অভাবও দেখা যাচ্ছিল মেহতাব-অ্যাকোস্টা’র মধ্যে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই ম্যাচে জাঁকিয়ে বসে মোহনবাগান। ৪০ মিনিটে কমলপ্রীতকে তুলে লালরিনডিকা রালতেকে মাঠে নামাতেই কিছুটা খেলায় ফেরে ইস্টবেঙ্গল।

আরও পড়ুন: অ্যাকোস্টা-ডিকার ডুয়েলের আশায় অধীর আগ্রহে যুবভারতী

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে বাগান গোলরক্ষক শিলটনের ভুলে ব্যবধান কমায় ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায় সেটাই। অ্যাকোস্টার হেড রিসিভ করতে গিয়ে কোন চাপ ছাড়াই ভুল করে বসেন বাগান দুর্গের শেষ প্রহরী। শিলটনের গায়ে লেগে ফিরে আসা বল ক্লিয়ার করতে যান এক বাগান ডিফেন্ডার। তখনই ফিরতি বল অ্যাকোস্টার গায়ে লেগে ঢুকে যায় গোলে। বিরতির ঠিক আগেই ম্যাচে ফিরে আসে লাল-হলুদ শিবির।

গোল পেয়ে যাওয়া ইস্টবেঙ্গলকে দ্বিতীয়ার্ধে কার্যত অন্য দল মনে হচ্ছিল৷ প্রথমার্ধের নিরিখে পাল্টে যায় ম্যাচের সামগ্রিক চিত্র। আক্রমণে লোক বাড়িয়ে মোহনবাগান রক্ষণকে ফালা ফালা করে দিতে থাকেন জবি, আমনা’রা।

আরও পড়ুন: অভিষেকেই গোল জনি অ্যাকোস্টার, প্রথমার্ধে মোহনবাগান এগিয়ে ২-১ গোলে

আমনা সক্রিয় হতেই মাঝমাঠ থেকে উইং সবকিছুই সচল হয় লাল-হলুদের। সেই উইং প্লে’র সুযোগ নিয়েই ৬১ মিনিটে কর্ণার আদায় করে নেয় ইস্টবেঙ্গল। লালরিনডিকার বিষাক্ত কর্নার সরাসরি গোলে ঢুকে যাওয়ার উপক্রম হলে শূন্যে শরীর ছুঁড়ে দিয়ে রক্ষা করেন শিলটন। কিন্তু ফিরতি বল গোলে ঠেলে ইস্টবেঙ্গলকে সমতায় ফেরান লালদানমাওইয়া। লাল-হলুদের আক্ষরিক অর্থেই তখন যেন খোঁচা খাওয়া বাঘ। শেষ ছ’টি বড় ম্যাচের পরিসংখ্যান বদলাতে তখন মরিয়া সুভাষের ছেলেরা।

আরও পড়ুন: বড় ম্যাচে হারের চাকা ঘোরাতে চান সুভাষ

পরিসংখ্যান বদলানোর সুযোগ চলেও আসে আমনার সামনে। ব্যাকপাস করতে গিয়ে মেহতাব বল তুলে দেন সিরিয়ান মিডিও’র পায়ে। দুরন্ত আউটিংয়ে দলের নিশ্চিত পতন রোধ করে প্রথমার্ধের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন বাগান গোলরক্ষক। মোহনবাগানও কয়েকটি সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ডিকা।

ছবিটা বদলে বড় ম্যাচ নিজেদের নামে করতে না পারলেও ইস্টবেঙ্গলের দুরন্ত প্রত্যাবর্তনই বড় ম্যাচের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে রইল। উল্টোদিকে দু’গোলে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ জিততে না পারায় হতাশ মোহনবাগান। দু’দলই এক পয়েন্ট পাওয়ায় লিগ টেবিলে তেমন কোন হেরফের হল না। সুতরাং লিগ জয়ের জন্য নির্ণায়ক হয়ে উঠবে দু’দলের শেষ তিন রাউন্ডের ম্যাচ।

----
--