সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : বাঘ খুঁজতে ড্রোন ব্যবহার করেছে বনদফতর। সম্প্রতি রাজ্যে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। এই বাঘসুমারিতেই ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এমনটাই জানা গিয়েছে বন দফতর সূত্রে। আগে বাঘ সুমারির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাঘের পায়ের ছাপ , বর্জ্য নির্ণয়ের মতো বেশ কিছু পদ্ধতিতে নির্ণয় করা যত বাঘের সংখ্যা। সময়ের সঙ্গে পাল্টে বাঘ খুঁজতে এসেছে ট্র্যাপিং ক্যামেরা। উন্নত টেকনোলজিতেই নতুন সংযোজন ড্রোন।

রাজ্যে বাঘের সংখ্যা বাড়ায় খুশি বনদফতর। কিন্তু বাঘ খুঁজতে যে নয়া টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে তা এই প্রথম। বনের রাজার পায়ের ছাপই ছিল সবেধন। আর ছিল বিষ্ঠা-বিশ্লেষণ। সুন্দরবনে বাঘের মাথা গুনতে এ যাবৎ এ দুই সাবেক পদ্ধতিতেই ভরসা রাখত বন দফতর। জোয়ার-ভাটায় অনর্গল জলস্ফীতি আর প্রায় অগম্য বাদাবনে বাঘের বিষ্ঠা সংগ্রহও তেমন সহজ সাধ্য ছিল না। লোকলস্কর, যত্রতত্র ঘাটে ভিড়তে পারে, মাঝারি মাপের এমন ভুটভুটি, বস্তা বোঝাই প্লাস্টার অফ প্যারিস আর পায়ের ছাপ তোলার সস্তা কাঠের ব্লক। ক্যানিং কিংবা সজনেখালির বন বিভাগের অফিস থেকে এই সরঞ্জামেই বুক বেঁধে চামটা থেকে গোসাবার বিভিন্ন দ্বীপে ভেসে পড়তেন বনকর্মীরা। মাসাধিক কাল ধরে নদীর কোলে পাঁকাল মাটিতে ‘পাগ মার্ক’ বা বাঘের থাবার ছাপ সংগ্রহ এবং তা বিশ্লেষণ করেই বাঘ সুমারি শেষ করতেন তাঁরা। বছর চারেক আগে পর্যন্ত এটাই ছিল চালু পদ্ধতি। সেই পদ্ধতি ক্রমে পাল্টে ড্রোনে পরিণত হয়েছে।

Advertisement

কিন্তু এই পুরনো পদ্ধতিতে বাঘের সঠিক পরিসংখ্যান প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এ বার তাই দুর্ভেদ্য ম্যানগ্রোভের জঙ্গলে প্রযুক্তির আমদানি হয়েছে। বিস্তীর্ণ জঙ্গলে দু’শোরও বেশি জায়গায় লুকানো ক্যামেরা বসিয়ে প্রাথমিক ভাবে তোলা হয়েছে বাঘের ছবি। তারপর তার গায়ের ডোরা দাগ বা ‘স্ট্রাইপ মার্ক’-এর পার্থক্য বিশ্লেষণ করে দক্ষিণ রায়ের সুমারি সেরে সুন্দরবনে তার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান পেশ করেছে ডব্লুডব্লুএফ এবং ডব্লুআইআই ।ওই দুই সংস্থার বাঘ-সুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনে এখন অন্তত ১০৩টি বাঘ রয়েছে। আগে যা ছিল ৮৩ টি। এই কুড়ি নতুন বাঘ খোঁজার ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে ড্রোনও।

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে সারা বছরভর বাঘেদের গতিবিধি, আচরন, খাদ্যের উপর নজর রেখেছে ড্রোন। এমনিতে ট্র্যাপিং ক্যামেরা বসানো হয়েছে বাঘমারা, চামতা, হলাদি, কেঁদোর মতো স্থানগুলিতে। এখানে প্রায়ই বাঘের আনাগোনা দেখা যায়। এইসব জায়গাগুলিতে ক্যামেরার পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে আকাশে উড়ন্ত ক্যামেরাও। সেটাই বাঘ সুমারিতে সঠিক বাঘের সংখ্যা খুঁজতে অনেকটাই সাহায্য করেছে বলে জানা গিয়েছে বন দফতর সূত্রে।

----
--