মানবধিকার ফেডারেশনের উচ্চপদেও রুপান্তরকামী

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা: পরিবর্তন এভাবেই আসে। মানবধিকার ফেডারেশনের মুখ্য উপদেষ্টার পদেও এবার তৃতীয় লিঙ্গ। দায়িত্বে প্রথম রূপান্তরকামী আইনজীবী সায়ন্তনী ঘোষ। মূলত সমাজের প্রত্যেক স্তরের মানুষের গুরুত্ব রয়েছে সেটাই বোঝাতে চেয়েছে মানবধিকার ফেডারেশন।

জাতীয় মানবধিকার ফেডারেশনের মুখ্য উপদেষ্টা হিসাবে কোনওদিনই কোনও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিত্ব আসেনি। এই প্রথম কোনও এমন ব্যক্তিত্বকে এই দায়িত্ব দেওয়া হল। এই প্রসঙ্গে জাতীয় মানবধিকার ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট শুভ্রদীপ চৌধুরী বলেন, “আমরা সবসময়েই মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করি। সায়ন্তনী যে মানুষদের জন্য লড়াই করছেন তাঁরা এখনও কোথাও সমাজে থেকেও অনেক স্থানে যোগ্য সম্মান পায় না। প্রচুর লড়াই করতে হয়। সায়ন্তনীর রূপান্তরকামীদের নিয়ে এই যে লড়াই সেটা আমাদের কাছে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। আমরা মনে করেছি। একটা মানুষ যদি এই লড়াইটা করতে পারে তাহলে সে প্রত্যেক মানুষের মধ্যে যে চাহিদা বা প্রয়োজনগুলি রয়েছে সেগুলো বুঝবে। তাই সায়ন্তনীকে আমরা আমাদের মুখ্য উপদেষ্টা হিসাবে বেছে নিয়েছি।” আগামী এক বছ্র এই দায়িত্বে থাকবেন সায়ন্তনী।

তিনি বলেন, “আমি যখন আদালতে কেস লড়তে যেতাম তখন অনেক কু-কথা শুনতে হয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল যে আমি আমার কাজ করতে পারছিলাম না। কিন্তু আমি লড়াইটা থামাইনি। চালিয়ে গিয়েছি। এই লড়াইটা ওনাদের নজর করেছে। সেই জন্য ফেডারেশন আমাকে এই সুযোগ দিয়েছে।”

একইসঙ্গে সায়ন্তনী বলেন, “পুজোর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসডর হওয়ার সম্মানটা আলাদা আর এই সম্মান সম্পূর্ণ আলাদা। আমি যে প্রত্যেকের মতোই সাধারণ এবং আমি সাধারণ মানুষের চাহিদার জন্য লড়তে পারব সেটা অনেক বড় সম্মান। আমি আপ্লুত।”

সায়ন্তন দাস, বছর ছয়েক আগেও এটাই ছিল সোনারপুরের নৃত্যশিল্পী তথা আইনজীবীর পরিচয়। এখন তিনিই মেঘ সায়ন্তনী। বদলেছে নাম। বদল হয়েছে লিঙ্গে। রূপান্তরিত হয়েছেন পুরুষ থেকে মহিলায়। এসেছে অনেক বাধা। সব সমস্যাকে দূরে সরিয়ে মেঘ এগিয়ে গিয়েছেন। একদিকে যেমন খ্যাতি লাভ করেছে মেঘ সায়ন্তনীর ড্যান্স ট্রুপ ‘রুদ্র পলাশ’। অন্যদিকে তিনিই আইনি পেশায় খ্যাতি অর্জন করেছেন ভারতের প্রথম রুপান্তরকামী হিসাবে মামলা জিতে। আইনি পেশাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজের ড্যান্স ট্রুপকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন মেঘ সায়ন্তনীর।

---- -----