কলকাতার কাছে দূরে গরমে বেড়াতে যাওয়ার পাঁচ গন্তব্য

১৷ বাঁকিপুট: কোলাহল ও দূষণমুক্ত সমুদ্রসৈকতগুলির মধ্যে অন্যতম বাঁকিপুট। এখানে সমুদ্র বয়ে চলে নিজের মনে। ভাটার টানে স্রোত চলে যায় দূরে। সমুদ্রসৈকত জুড়ে এলোমেলো ঘুরে বেড়ায় লালকাঁকড়া। সৈকতে ঘোরাঘুরি শেষ হলে বাঁধে দাঁড়িয়ে সমুদ্র দেখুন। সমুদ্রের অশান্ত ঢেউ হৃদয় আন্দোলিত করবে। দূরে দূরে ভেসে যাচ্ছে বিশালদেহী জাহাজ এবং পালতোলা মাছ-ধরা নৌকোগুলির ঘরে ফেরা। যেন সমুদ্রের বুকে রঙের মেলা বসেছে! এরপর একটা ভ্যানরিকশা ভাড়া করে দেখে নিন কপালকুন্ডলার মন্দির। মন্দিরের সামনেই রয়েছে দরিয়াপুর লাইট হাউস। লাইট হাউসে উঠে পাখির চোখে বাঁকিপুট দেখার সুযোগ রয়েছে। এখান থেকে সমুদ্র দেখার আনন্দ চিরস্মরণীয়। একটু এগোলেই পাবেন পেটুয়াঘাট দেশপ্রাণ ফিশিং হারবার। এখান থেকেও চারপাশের দৃশ্য চমৎকার।

কীভেব যাবেন: কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে সরাসরি কাঁথি হয়ে জুনপুট চলে আসুন। এখান থেকে কিছুটা এগোলেই বাঁকিপুট। দিঘা, শঙ্করপুর, মদারমণি, থেকে গেলে শৌলা মোড় হয়ে শোলা খালকে হাতের বাঁদিকে রেখে ঝাউবন হয়ে ফাঁকা পিচরাস্তার বুকচিরে জুনপুট হয়ে বাঁকিপুট পৌঁছন।

কোথায় থাকবেন: ঝিনুক রিসর্ট, ভাড়া ১,০০০-১,৬০০ টাকা, ফোন ৯৪৩৩৮১৩৬৭৮

- Advertisement -


২। পাঁচমারি: মধপ্রদেশের শৈলশহর, সাতপুরা পাহাড়ের রানী পাঁচমারি। উচ্চতা প্রায় ৩,৫৫৫ ফুট। সবুজে মোড়া এক অনবদ্য প্রকৃতি এখানে। ভীষণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর। নীল আকাশের নীচে শাল-সেগুনের সারি। হাতে অন্তত তিন দিন সময় নিয়ে পাড়ি দিন পাঁচমারিতে। সামান্য দূরেই রয়েছে জটাশঙ্কর গুহা। প্রাকৃতিক এই গুহায় অনেক ছোট বড় শিবলিঙ্গ রয়েছে। কথিত আছে পাণ্ডবরা এই গুহাতেই নাকি বসবাস করেছিলেন অজ্ঞাতবাসের সময়।

পাঁচমারির রহস্যময় জঙ্গলে ট্রেক করতে পারেন। হঠাৎ নজরে আসবে ৩৫০ ফুট উঁচু থেকে রজতপ্রপাত অঝোর ধারায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে নীচে। কাছাকাছি পাবেন অপ্সরাবিহার ও পাঞ্চালি কুণ্ড। এই পাহাড়ি শহরের বুক চিরে এলোমেলো জঙ্গুলে রাস্তা নেমে গেছে ৮০০ মিটার নীচে। রয়েছে পাঁচমারি হ্রদ। হতে সময় থাকলে বোটে চেপে ভেসে বেড়াতে পারেন। এ অভিজ্ঞতা সারাজীবন মনে থাকবে। প্রিয়দর্শিনী ভিউ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে সারা শহর দেখুন। এখন থেকে পাঁচমারিকে দেখতে লাগে দারুণ। ১৮৫৭ সালে এখনে দাঁড়িয়েই ক্যাপ্টেন ফোরসিস এই শৈলশহর আবিষ্কার করেন।

মহাদেব গুহার সুবিশাল শিবলিঙ্গ দেখতে হলে আপনাকে ১৩৬৫ টি সিঁড়ি ভাঙতে হবে। এছাড়া পাঁচমারিতে রয়েছে দুটি চার্চ। একটি ক্যাথলিক ও অন্যটি ক্রাইস্ট চার্চ। চার্চ দুটির ভেতরে স্প্যানিশ ও আইরিশ স্থাপত্যের দেখা মিলবে। রয়েছে বনদফতরের মিউজিয়াম। সোম বার ছাড়া বাকি দিনগুলিতে খোলা থাকে মিউজিয়াম। পাঁচমারির আরও একটি  দ্রষ্টব্য সাতপুরা ন্যাশনাল পার্ক। ১৪২৭ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত এই জঙ্গলে বাঘ, চিতাবাঘ, হরিণ সহ অনেক বন্য প্রাণী ঘুরে বেড়ায়। গাড়ি ভাড়া করে জঙ্গল সাফারি করতে পারেন।

কীভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে ১২৩২১ মুম্বই মেলে চেপে পিপারিয়া নামুন। স্টেশন থেকে পাঁচমারির দূরত্ব মাত্র ৪৭ কিলোমিটার। অনেক বাস ও ভাড়া গাড়ি পাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন: হোটেল অমলতাস। এসি ঘরের ভাড়া ২০০০ তাকা। এসি ডিলাক্স ৩০০০ টাকা। (ব্রেকফাস্ট নিয়ে)। ফোন ০৭৫৭৮-২৫২০৯৮।

৩। পেলিং: দ্রুত একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠছে। ৬৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত পেলিং, বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ শিখর। কাঞ্চনজঙ্ঘার সবচেয়ে কাছের দৃশ্য দেখার চমৎকার জায়গা হিসাবে পরিচিত। পেলিংয়ের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য ছাড়াও অন্যান্য আকর্ষণীয় স্থানগুলি হল সাঙ্গা চোইলিং মঠ, পেমিয়াংসে বৌদ্ধ বিহার, ও খেচিপেরি হ্রদ ইত্যাদি।

পেলিংয়ে রয়েছে সাইট সিয়িংয়ের ব্যবস্থা। এশিয়ার অন্যতম উঁচু সিনশোর ব্রিজ দেখার মতো। পেমিয়াংশি মোনাস্ট্রি থেকে কাঞ্চজঙ্ঘার দৃশ্য চোখে লেগে থাকবে। পুরনো রাজবাড়ি রাবডান্টসের ধ্বংসাবশেষ থেকে সন্ধের আলো-জ্বলা শহর দেখুন, মন ভরে যাবে। অজস্র গাছ থাকলেও, খেচোপেরি লেকের জলে কোনও পাতা পড়ে না– এটা এক আশ্চর্য বিস্ময়।

বিকেলবেলা এম জি রোড ধরে সোজা ম্যালে চলুন। সেখানে আড্ডা দিয়ে অনেকটা সময় কাটাতে পারেন। ভারি চমৎকার পাথরে বাঁধানো জায়গাটি। মনে রাখুন, এখানে গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ। দু’কদম এগিয়ে আপন মনে ঘুরে বেড়ান। ফুলের ঝাড়, সুদৃশ্য ল্যাম্পপোস্টের আলো, সাজানো দোকানপাট, সুবেশ, গৌরবর্ণ সুন্দর স্থানীয় তরুণ-তরুণীর এবং পর্যটকদের ভিড়ে স্থানটি যেন অন্য মাত্রা পেয়েছে। দোকানগুলোর ফাঁকে ফাঁকে পাহাড়ের দিক থেকে হু হু করে বয়ে আসছে ঠান্ডা হাওয়া। মাঝে মাঝে ভিড় করে আসছে মেঘকুয়াশার দল। ঝিরিঝিরি নরম বৃষ্টি হয়ে তারা ঝরে পড়ছে পর্যটকদের চোখে মুখে। পাহাড়ের ঢালে রাতের পেলিং সেজে ওঠে আলোর মালায়।

কীভাবে যাবেন: শিয়ালদহ থেকে ১৩১৪৯ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে চেপে পরদিন সকাল ৮টায় এনজেপি স্টেশনে নামুন। সেখান থেকে সরাসরি পেলিং যাওয়ার গাড়ি পাওয়া যায়। ভরা সিজনে গাড়ির ভাড়া হাজার দুয়েক পড়ে যাবে। এনজেপি স্টেশনে প্রিপেড ট্যাক্সি-গোত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। আর যাওয়া যায় গ্যাংটক থেকে। তবে পেলিং ঘুরে গ্যাংটক আসাই ভাল। কেননা, তাতে সময় বাঁচবে।

কোথায় থাকবেন: পেলিংয়ে থাকর জন্য জন্য অজস্র উন্নত মানের হোটেল রয়েছে। হোটেল এবং ট্যুর গাইডের জন্য ফোন করুন এই নম্বরে- ৯৭৪৮২৮৫৯৫৮ / ৯৮৮৩৭৭৮৩৯৮।

৪। ঝালং: জলঢাকা নদীর ধারে এক অপূর্ব ভ্রমণক্ষেত্র ঝালং। চালসা থেকে কুমানি, গৈরিবাস হয়ে জঙ্গুলে পথ চলে গিয়েছে ঝালঙের দিকে। নবাংলোর পাশে ঝোলুং ঝোরা এঁকেবেঁকে গিয়ে মিশেছে জলঢাকা নদীতে। রুপোলি ফিতের মতো জলঢাকা নদী। নীল জল। ওপরে ছট্ট একটা ব্রিজ। পা দিতেই নড়ে উঠবে দোলনা ব্রিজটা। সব মিলিয়ে দিন কয়েকের নিরিবিলি ঠিকানা হতে পারে ঝালং।

রঙিন কাঠের ঘরবাড়ি আর রাস্তার ধারে কমলালেবুর বাগান। ঝালং থেকে পাহাড়ি পথে ছোট্ট গ্রাম প্যারেন হয়ে ভুটান সীমান্তে ভারতের শেষ জনপদ। ধূসর পাহাড়ের গায়ে লেপ্টে থাকা ঘন সবুজ বন। ঝরনার শব্দ ছাড়া অন্য কিছু কানে আসে না এখানে। রাতের ঝালং-ও মায়াময়। সন্ধে নামলে গোটা এলাকার দখল নেয় ঝিঁঝি। চোখের সামনে দিয়ে উড়ে যায় জোনাকি।

ঝালঙের পাশেই ছবির মতো পাহাড়ি গ্রাম বিন্দু। এখানে প্রচুর গাছগাছালালি রয়েছে– ফায়ারবল, পিটুনিয়া, গ্ল্যাডিয়োলা আর অর্কিডের ফুল। বিন্দুতে জলঢাকা ব্যারেজের ওপারে ভুটান। বাঁধের ওপর পায়ে হেঁটে ওঠা যায়। হেঁটে হেঁটেই দেখে নেওয়া যায় ওপারের ভুটান চৌহদ্দি। হাট বারে ভুটানের গ্রাম থেকে দলে দলে মানুষ আসে বিন্দুতে। জীবন যাপনের প্রয়োজন মুছে যায় ভৌগলিক সীমারেখা। বিন্দু নদী জলঢাকায় মিশেছে। নদীর গা থেকে খাড়াই উঠে গেছে ভুটান পাহাড়। আকাশ পরিচ্ছন্ন থাকলে বিন্দু থেকে হিমালয়ের বরফশৃঙ্গ দেখা যায়। বুধবারে ঝালং-এ আর বৃহস্পতিবারে বিন্দুতে হাট বসে। ঝালং থেকে দলগাঁও হয়ে রঙ্গো বেরিয়ে নেওয়া যায়। প্যারেন থেকে ঘুরে আসা যায় তোদে।

কীভাবে যাবেন: শিয়ালদহ থেকে ছাড়ছে ১৩১৪৯ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস। রাত সাড়ে আটটায় ছেড়ে পরের দিন দুপুরে পৌঁছবে নিউ মাল জংশন। এখান থেকে ঝালং ৪৫ কিলোমিটার। গাড়ি রিজার্ভ করে আসতে হবে। হাজার দেড়েক টাকা ভাড়া পড়বে। এছাড়া, নিউ জলপাইগুড়িতে নেমেও আসা যায় ঝালং। নিউ জলপাইগুড়ি বা এনজেপি থেকে ঝালংয়ের দূরত্ব ১০৪ কিলোমিটার। গাড়ি বুকিং-এর জন্য
৯৮৭৪৬১৩২৬৭ এই নম্বরে যোগাযোগ করুন।

কোথায় থাকবেন: ঝালংয়ে সবচেয়ে ভালো থাকার জায়গা হল পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগমের তাঁবু। নদীর ধারে পরপর কয়েকটি তাঁবু রয়েছে। যেন প্রকৃতির কোলে বসবাস। জঙ্গলের অন্দরে তাঁবুতে ব্যবস্থাপনা ভালোই। তাঁবু বুকিং করতে হবে অনলাইনে: www.wbfdc.com বেসরকারি হোটেলও রয়েছে। তবে তাঁবুতে থাকার মজাই আলাদা। তবে ঝালং-এ বন উন্নয়ন নিগমের জলঢাকা বনবাংলো ও প্যারেনে বন বিভাগের কটেজ রয়েছে। বিন্দুতে থাকতে হবে বেসরকারি হোটেলে।


৫। চোপতা: এখানকার সুন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। এই গরমে স্বস্তি পেতে হিমালয়ের নিবিড় সান্নিধ্যে, প্রকৃতির কোলে কাটিয়ে আসুন কয়েকটি দিন। গাড়োয়ালের অকপট ভালোবাসায় অনবদ্য হয়ে উঠবে আপনার দিন। এই ভ্রমণক্ষত্রে যেতে হলে আপনাকে যাত্রা শুরু হবে হরিদ্বার থেকে। প্রথম দিন আপনার গন্তব্য হোক রুদ্রপ্রয়াগ, উখীমঠ হয়ে বানিয়াকুন্ড এবং গন্তব্য চোপতা। পরদিন বানিয়াকুন্ডের সবুজ বুগিয়ালে ফুলের খোঁজে মেতে উঠুন। পাহাড়ি ঝরনা আর ঝোরার পাশে পাশে কেটে যাবে সারা বেলা।

পাখি দেখার শখ থাকলে তো কথাই নেই। বানিয়াকুন্ড আপনাকে নিরাশ করবে না। নানা পাখি দেখার সুযোগ রয়েছে এখানে। তৃতীয় দিন চলুন পাহাড়ি সুন্দর্যে তিন কিলোমিটার হেঁটে, পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিব মন্দির তুঙ্গনাথে। চড়াই পথ চলার কষ্ট ভুলিয়ে দেবে পথের দুপাশের চোখ জুড়োনো দৃশ্য। দিগন্ত বিস্তৃত হিমালয়ের বরফ-সাদা উত্তুঙ্গ শৃঙ্গমালা। পথে পড়বে বুগিয়াল ভুজগলী, যা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। ইচ্ছা করলে একটা রাত ভুজগলীতেই কাটিয়েও দিতে পারেন। তাঁবুতে রাত্রিবাসের কথা মনে থাকবে আজীবন।

অথবা বানিয়াকুন্ড ফিরে আসতে পারেন। চৌখামবার শিখরে সূর্যদয় দেখতে চাইলে তুঙ্গনাথে কালীকমলীর ধর্মশালায় এক রাত কাটিয়ে আরও দু কিলোমিটার হেঁটে চলে যান চন্দ্রশিলা। চতুর্থ দিন নেমে আসুন চোপতা হয়ে বানিয়াকুন্ডে। গাড়োয়ালের গ্রাম্য জীবন প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা আপনার ঝুলিতে সঞ্চয় হবে, সেক্ষেত্রে একদিন কাটাতেই হবে যুগপুরা, মাককুমঠে। এটাই তুঙ্গনাথ মহাদেবের শীত কালের অধিষ্ঠান। পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ দিন উখীমঠ ঘুরুন এবং চলে যান সারিগ্রাম। এখান থেকেই সাড়ে তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে অথবা ঘোড়ার পিঠে চেপে পৌঁছে যান দেবতাদের হ্রদ দেওরিয়া তালে। সূর্যাস্ত ও সূর্যদয়ের সময় লেকের জলে চৌখামবার মায়াবী ছায়া ক্যামেরাবন্দি করুন। লেকের পাশে বুগিয়ালে-তাঁবুতে থাকলে ভাগ্যক্রমে যদি হয় পূর্ণিমা, তবে সেই রাত কোনও দিনও ভুলতে পারবেন না।

জেনে রাখুন: তুঙ্গনাথ যাওয়ার ভালো সময় মে থেকে জুন অথবা অক্টোবর থেকে নভেম্বর। তুঙ্গনাথে ওঠার রাস্তা অত্যন্ত খাড়াই। তবে, মাঝে মাঝে বেশ কিছু বুগিয়াল আছে। সেখানে বসে বিশ্রাম নিতে পারেন। এই ৪ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে যাওয়াই ভালো। ঘোড়া নিয়ে গেলে নামার সময় সমস্যা হতে পারে। তুঙ্গনাথ থেকে চন্দ্রশিলা যাওয়ার পথে সঙ্গে খাবার নিয়ে যাওয়া উচিত। কারণ, রাস্তায় কোনও দোকান নেই।

কোথায় থাকবেন: দেবভূমি ট্যুরিস্ট লজ। ভাড়া ৭০০-১০০০। ফোন ০৯৬৯৯০৯০৫১৫।

Advertisement
-----