ফাইল চিত্র৷

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: একটি বেআইনি অস্ত্র তৈরি কারখানাকে সিল করে পাঁচ দুষ্কৃতীকে হাতেনাতে ধরল এসটিএফ৷ সোমবারের উত্তর ২৪ পরগণার কাঁকিনাড়ার ভাটপাড়া পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের ম্যানেজার বাগান এলাকার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, পুরসভা কি কিছুই আঁচ পায়নি৷ এলাকার চেয়ারম্যান অর্জুন সিং বলছেন, শিল্পাঞ্চলে কোথায় কে কী করছে তা বোঝা সম্ভব নয়৷

এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় একটি পরিত্যক্ত লাড্ডু কারখানার আড়ালে চলছিল এই বেআইনি অস্ত্র তৈরির কারখানা৷ কীভাবে চলছিল ওই অস্ত্র কারখানা? স্থানীয় ভাটপাড়া পুরসভা কী কিছুই জানত না? কীভাবে দুষ্কৃতিরা ঘাঁটি গেড়েছিল ওই অস্ত্র কারখানায়? এইসব নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন৷

Advertisement

ওই কারখানার জমির মালকিন গিরিজা দেবী বলেন, তিন মাস আগে সুরজ সাউ নামে এলাকার এক বাসিন্দার সূত্র ধরে অপরিচিত কয়েকজন এসেছিল আমার কাছে৷ তারা এই জায়গা ভাড়া নেবে বলে আমায় জানিয়েছিল৷ প্রথমে তারা আমায় ৪০ হাজার টাকা অগ্রিম দেয়৷ বাকি কথা আমার ছেলের সঙ্গে হয়েছে৷ আমি আর কিছু জানিনা৷ ওরা লেদ মেশিন বসিয়ে লোহা কেটে কি তৈরি করত আমি তা জানতাম না৷ ওরা বলেছিল ঝাড়খন্ড থেকে ব্যবসা করতে এসছে এখানে৷’

বিধায়ক তথা এলাকার চেয়ারম্যান অর্জুন সিং বলেন, ‘‘শিল্পাঞ্চলে কোন ঘরে কে কী করছে তা সব সময় জানা সম্ভব নয়৷ শুনেছি ওরা বাইরে থেকে এসেছিল৷ ওখানে লেদ মেশিন বসিয়ে পিস্তল তৈরি করছে এটা ভাবাই যায়না৷ তবে শিল্পাঞ্চল এলাকায় আমাদের আরও সজাগ হতে হবে৷ এসটিএফ নিশ্চয়ই কোনও অস্ত্র কারবারিকে ধরেছিল৷ যার সূত্র ধরে তারা এখানে পৌঁছেছে৷ স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সজাগ থাকতে হবে৷ এই পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডটি একটি গ্রামীন এলাকা৷ শহরাঞ্চল নয়৷ ওরা মুংগের থেকে এসে এখানে এসব করত৷ পুরসভা বিষয়টা জানত না৷’’

এদিকে এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত ম্যানেজার বাগান এলাকার বাসিন্দারা৷ যে পাঁচ অস্ত্র কারবারি এসটিএফের হাতে ধরা পড়েছে৷ তাদের সূত্র ধরে মুংগের এলাকার অন্যান্য অস্ত্র কারবারিদেরও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে এসটিএফ৷

----
--